Dhaka ০৮:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
তারেক রহমানের উন্নয়ন-দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে চীন ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ হয়ে থাকবে : হুমায়ুন কবির বিশ্বকাপ ঘিরে সাইবার প্রতারণা, সতর্ক করল ক্যাসপারস্কি রাবেয়া-কাদের স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগ: ওরা অকারণে নাটকের কুশীলবদের সংবর্ধনা নিলামে উঠছে ম্যারাডোনার ‘হাত দিয়ে গোল’ দেওয়া সেই ঐতিহাসিক বল অভিনয়ে নয়, নিজের বায়োপিকে ফিরতে চান পপি সেই মিন্নির কারাজীবনের অজানা অধ্যায় সামনে এলো বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সংখ্যক লাল কার্ড দেখেছে ব্রাজিল মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী রাম মন্দিরে দানের কোটি কোটি রুপি আত্মসাৎ, ভারতজুড়ে তোলপাড় রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেট থেকে নারী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার

ঢাবিতে দোকানদারকে জরিমানা করলেন ভিপি, প্রক্টরের আপত্তি

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৬:১৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 94

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা সূর্যসেন হলে একটি দোকান থেকে টেস্টিং সল্ট (এমএসজি) উদ্ধারকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ছাত্রনেতাদের ক্ষমতার সীমারেখা। হল সংসদের নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) আজিজুল হক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দোকানদারকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ঘটনাটি ঘটে ১২ সেপ্টেম্বর। জানা যায়, সূর্যসেন হলের ৮ নম্বর দোকানে তল্লাশি চালিয়ে এক কেজি টেস্টিং সল্ট উদ্ধার করেন ভিপি আজিজুল। প্রথমে দোকানদার অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে খাবারে টেস্টিং সল্ট মেশানোর কথা স্বীকার করেন। এ সময় ভিপির পক্ষ থেকে দোকানদারের সঙ্গে একটি লিখিত চুক্তিনামা স্বাক্ষরিত হয়, যাতে তিন দিনের মধ্যে জরিমানা না দিলে দোকানের চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করার কথা উল্লেখ ছিল।

ভিপি আজিজুল হক বলেন, “শুরুতে দোকানদার টেস্টিং সল্ট রাখার কথা মানতে চাননি। কিন্তু খুঁজে পাওয়ার পর তিনি স্বীকার করেন যে খাবারে টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করেই এ ব্যবস্থা নিয়েছি।”

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ আপত্তি জানিয়ে বলেন, “জরিমানা করার এখতিয়ার ছাত্রনেতাদের নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত হলে অবশ্যই হল প্রশাসনের মাধ্যমে করতে হবে। প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা তাদের দায়িত্ব, তবে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেটা করা উচিত।”

ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ ভিপির উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও অনেকে প্রশাসনিক সীমারেখা অতিক্রমের অভিযোগ তুলছেন।

ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ঈদুল ফয়সাল সমালোচনা করে বলেন, “ডাকসু নেতাদের জরিমানা করার বা চলাফেরার স্বাধীনতা সীমিত করার কোনো বিচারিক ক্ষমতা নেই।” তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, হল প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ভিপি আজিজুল হকের উদ্যোগকেও প্রশংসা করছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ঢাবিতে দোকানদারকে জরিমানা করলেন ভিপি, প্রক্টরের আপত্তি

প্রকাশের সময় : ০৬:১৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা সূর্যসেন হলে একটি দোকান থেকে টেস্টিং সল্ট (এমএসজি) উদ্ধারকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ছাত্রনেতাদের ক্ষমতার সীমারেখা। হল সংসদের নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) আজিজুল হক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দোকানদারকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ঘটনাটি ঘটে ১২ সেপ্টেম্বর। জানা যায়, সূর্যসেন হলের ৮ নম্বর দোকানে তল্লাশি চালিয়ে এক কেজি টেস্টিং সল্ট উদ্ধার করেন ভিপি আজিজুল। প্রথমে দোকানদার অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে খাবারে টেস্টিং সল্ট মেশানোর কথা স্বীকার করেন। এ সময় ভিপির পক্ষ থেকে দোকানদারের সঙ্গে একটি লিখিত চুক্তিনামা স্বাক্ষরিত হয়, যাতে তিন দিনের মধ্যে জরিমানা না দিলে দোকানের চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করার কথা উল্লেখ ছিল।

ভিপি আজিজুল হক বলেন, “শুরুতে দোকানদার টেস্টিং সল্ট রাখার কথা মানতে চাননি। কিন্তু খুঁজে পাওয়ার পর তিনি স্বীকার করেন যে খাবারে টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করেই এ ব্যবস্থা নিয়েছি।”

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ আপত্তি জানিয়ে বলেন, “জরিমানা করার এখতিয়ার ছাত্রনেতাদের নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত হলে অবশ্যই হল প্রশাসনের মাধ্যমে করতে হবে। প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা তাদের দায়িত্ব, তবে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেটা করা উচিত।”

ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ ভিপির উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও অনেকে প্রশাসনিক সীমারেখা অতিক্রমের অভিযোগ তুলছেন।

ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ঈদুল ফয়সাল সমালোচনা করে বলেন, “ডাকসু নেতাদের জরিমানা করার বা চলাফেরার স্বাধীনতা সীমিত করার কোনো বিচারিক ক্ষমতা নেই।” তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, হল প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ভিপি আজিজুল হকের উদ্যোগকেও প্রশংসা করছেন।