Dhaka ০৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে স্বচ্ছতা আনতে লটারি পদ্ধতি চালু : আইনমন্ত্রী বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতোর মালা, নিন্দা ও ক্ষোভ ‘জ্বালানি তেলের দাম কমে স্থিতিশীল হলে সমন্বয়ের কথা ভাববে সরকার’ ডেঙ্গুতে একদিনে রেকর্ড ১০ জনের মৃত্যু বাংলাদেশিদের শ্রম ভিসা সাময়িক বন্ধ করল লাওস ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটিই যেন না থাকে: খাদ্যমন্ত্রী ২০২৭ সালে শিক্ষাক্রমে যুক্ত হবে নতুন চার বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী নওগাঁয় যানবাহনের কালো ধোঁয়ার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন, গেজেট প্রকাশ চীন-ভারত-জাপানসহ এশিয়ার বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি

ঢাবিতে দোকানদারকে জরিমানা করলেন ভিপি, প্রক্টরের আপত্তি

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৬:১৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 117

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা সূর্যসেন হলে একটি দোকান থেকে টেস্টিং সল্ট (এমএসজি) উদ্ধারকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ছাত্রনেতাদের ক্ষমতার সীমারেখা। হল সংসদের নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) আজিজুল হক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দোকানদারকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ঘটনাটি ঘটে ১২ সেপ্টেম্বর। জানা যায়, সূর্যসেন হলের ৮ নম্বর দোকানে তল্লাশি চালিয়ে এক কেজি টেস্টিং সল্ট উদ্ধার করেন ভিপি আজিজুল। প্রথমে দোকানদার অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে খাবারে টেস্টিং সল্ট মেশানোর কথা স্বীকার করেন। এ সময় ভিপির পক্ষ থেকে দোকানদারের সঙ্গে একটি লিখিত চুক্তিনামা স্বাক্ষরিত হয়, যাতে তিন দিনের মধ্যে জরিমানা না দিলে দোকানের চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করার কথা উল্লেখ ছিল।

ভিপি আজিজুল হক বলেন, “শুরুতে দোকানদার টেস্টিং সল্ট রাখার কথা মানতে চাননি। কিন্তু খুঁজে পাওয়ার পর তিনি স্বীকার করেন যে খাবারে টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করেই এ ব্যবস্থা নিয়েছি।”

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ আপত্তি জানিয়ে বলেন, “জরিমানা করার এখতিয়ার ছাত্রনেতাদের নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত হলে অবশ্যই হল প্রশাসনের মাধ্যমে করতে হবে। প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা তাদের দায়িত্ব, তবে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেটা করা উচিত।”

ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ ভিপির উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও অনেকে প্রশাসনিক সীমারেখা অতিক্রমের অভিযোগ তুলছেন।

ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ঈদুল ফয়সাল সমালোচনা করে বলেন, “ডাকসু নেতাদের জরিমানা করার বা চলাফেরার স্বাধীনতা সীমিত করার কোনো বিচারিক ক্ষমতা নেই।” তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, হল প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ভিপি আজিজুল হকের উদ্যোগকেও প্রশংসা করছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ঢাবিতে দোকানদারকে জরিমানা করলেন ভিপি, প্রক্টরের আপত্তি

প্রকাশের সময় : ০৬:১৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা সূর্যসেন হলে একটি দোকান থেকে টেস্টিং সল্ট (এমএসজি) উদ্ধারকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ছাত্রনেতাদের ক্ষমতার সীমারেখা। হল সংসদের নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) আজিজুল হক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দোকানদারকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ঘটনাটি ঘটে ১২ সেপ্টেম্বর। জানা যায়, সূর্যসেন হলের ৮ নম্বর দোকানে তল্লাশি চালিয়ে এক কেজি টেস্টিং সল্ট উদ্ধার করেন ভিপি আজিজুল। প্রথমে দোকানদার অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে খাবারে টেস্টিং সল্ট মেশানোর কথা স্বীকার করেন। এ সময় ভিপির পক্ষ থেকে দোকানদারের সঙ্গে একটি লিখিত চুক্তিনামা স্বাক্ষরিত হয়, যাতে তিন দিনের মধ্যে জরিমানা না দিলে দোকানের চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করার কথা উল্লেখ ছিল।

ভিপি আজিজুল হক বলেন, “শুরুতে দোকানদার টেস্টিং সল্ট রাখার কথা মানতে চাননি। কিন্তু খুঁজে পাওয়ার পর তিনি স্বীকার করেন যে খাবারে টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করেই এ ব্যবস্থা নিয়েছি।”

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ আপত্তি জানিয়ে বলেন, “জরিমানা করার এখতিয়ার ছাত্রনেতাদের নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত হলে অবশ্যই হল প্রশাসনের মাধ্যমে করতে হবে। প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা তাদের দায়িত্ব, তবে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেটা করা উচিত।”

ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ ভিপির উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও অনেকে প্রশাসনিক সীমারেখা অতিক্রমের অভিযোগ তুলছেন।

ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ঈদুল ফয়সাল সমালোচনা করে বলেন, “ডাকসু নেতাদের জরিমানা করার বা চলাফেরার স্বাধীনতা সীমিত করার কোনো বিচারিক ক্ষমতা নেই।” তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, হল প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ভিপি আজিজুল হকের উদ্যোগকেও প্রশংসা করছেন।