Dhaka ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বদলগাছীতে চার মাদকসেবীর তিন মাসের কারাদণ্ড ভারতে বিমান বিধ্বস্তে পাঁচ সেনা নিহত শিক্ষাক্ষেত্রে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট তারেক রহমান সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী ‘শ্রেষ্ঠ কৃষক পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু ২০ বছরে মাদক ব্যবসা করে এক হাজার ব্যক্তি কোটিপতি: ভূমিমন্ত্রী নতুন বাজেট বাস্তবায়ন করে দেশের মানুষের ভাগ্য বদলাতে চাই: প্রধানমন্ত্রী রাজবাড়ীর কালুখালীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন চরের দেড়শ পরিবার পেল ফলজ বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিয়ে এড়াতে আত্মগোপন, ধর্ষণ ও ভ্রুণ নষ্টের মামলায় গ্রেফতার শিবির নেতা

ঢাবিতে দোকানদারকে জরিমানা করলেন ভিপি, প্রক্টরের আপত্তি

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৬:১৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 92

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা সূর্যসেন হলে একটি দোকান থেকে টেস্টিং সল্ট (এমএসজি) উদ্ধারকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ছাত্রনেতাদের ক্ষমতার সীমারেখা। হল সংসদের নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) আজিজুল হক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দোকানদারকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ঘটনাটি ঘটে ১২ সেপ্টেম্বর। জানা যায়, সূর্যসেন হলের ৮ নম্বর দোকানে তল্লাশি চালিয়ে এক কেজি টেস্টিং সল্ট উদ্ধার করেন ভিপি আজিজুল। প্রথমে দোকানদার অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে খাবারে টেস্টিং সল্ট মেশানোর কথা স্বীকার করেন। এ সময় ভিপির পক্ষ থেকে দোকানদারের সঙ্গে একটি লিখিত চুক্তিনামা স্বাক্ষরিত হয়, যাতে তিন দিনের মধ্যে জরিমানা না দিলে দোকানের চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করার কথা উল্লেখ ছিল।

ভিপি আজিজুল হক বলেন, “শুরুতে দোকানদার টেস্টিং সল্ট রাখার কথা মানতে চাননি। কিন্তু খুঁজে পাওয়ার পর তিনি স্বীকার করেন যে খাবারে টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করেই এ ব্যবস্থা নিয়েছি।”

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ আপত্তি জানিয়ে বলেন, “জরিমানা করার এখতিয়ার ছাত্রনেতাদের নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত হলে অবশ্যই হল প্রশাসনের মাধ্যমে করতে হবে। প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা তাদের দায়িত্ব, তবে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেটা করা উচিত।”

ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ ভিপির উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও অনেকে প্রশাসনিক সীমারেখা অতিক্রমের অভিযোগ তুলছেন।

ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ঈদুল ফয়সাল সমালোচনা করে বলেন, “ডাকসু নেতাদের জরিমানা করার বা চলাফেরার স্বাধীনতা সীমিত করার কোনো বিচারিক ক্ষমতা নেই।” তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, হল প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ভিপি আজিজুল হকের উদ্যোগকেও প্রশংসা করছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ঢাবিতে দোকানদারকে জরিমানা করলেন ভিপি, প্রক্টরের আপত্তি

প্রকাশের সময় : ০৬:১৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা সূর্যসেন হলে একটি দোকান থেকে টেস্টিং সল্ট (এমএসজি) উদ্ধারকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ছাত্রনেতাদের ক্ষমতার সীমারেখা। হল সংসদের নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) আজিজুল হক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দোকানদারকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ঘটনাটি ঘটে ১২ সেপ্টেম্বর। জানা যায়, সূর্যসেন হলের ৮ নম্বর দোকানে তল্লাশি চালিয়ে এক কেজি টেস্টিং সল্ট উদ্ধার করেন ভিপি আজিজুল। প্রথমে দোকানদার অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে খাবারে টেস্টিং সল্ট মেশানোর কথা স্বীকার করেন। এ সময় ভিপির পক্ষ থেকে দোকানদারের সঙ্গে একটি লিখিত চুক্তিনামা স্বাক্ষরিত হয়, যাতে তিন দিনের মধ্যে জরিমানা না দিলে দোকানের চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করার কথা উল্লেখ ছিল।

ভিপি আজিজুল হক বলেন, “শুরুতে দোকানদার টেস্টিং সল্ট রাখার কথা মানতে চাননি। কিন্তু খুঁজে পাওয়ার পর তিনি স্বীকার করেন যে খাবারে টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করেই এ ব্যবস্থা নিয়েছি।”

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ আপত্তি জানিয়ে বলেন, “জরিমানা করার এখতিয়ার ছাত্রনেতাদের নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত হলে অবশ্যই হল প্রশাসনের মাধ্যমে করতে হবে। প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা তাদের দায়িত্ব, তবে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেটা করা উচিত।”

ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ ভিপির উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও অনেকে প্রশাসনিক সীমারেখা অতিক্রমের অভিযোগ তুলছেন।

ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ঈদুল ফয়সাল সমালোচনা করে বলেন, “ডাকসু নেতাদের জরিমানা করার বা চলাফেরার স্বাধীনতা সীমিত করার কোনো বিচারিক ক্ষমতা নেই।” তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, হল প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ভিপি আজিজুল হকের উদ্যোগকেও প্রশংসা করছেন।