Dhaka ০৭:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেধা বিকাশের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব

মো. রিয়াসাদ উদ্দিন
  • প্রকাশের সময় : ১২:২৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / 362

মো. রিয়াসাদ উদ্দিন

একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হলো তার জনগণের মেধা ও দক্ষতা। শিক্ষা-প্রযুক্তি, প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প সব খাতেই মেধা ও কর্মদক্ষতার মূল্য অপরিসীম। মানব সভ্যতার বিকাশে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে মানুষের মেধাশক্তি।

এটা কোনো পুথিগত বিদ্যা বা বিশেষ সনদ নয় বরং মেধা হল ব্যক্তির অন্তর্নিহিত জ্ঞান, জ্ঞান অর্জনের ক্ষমতা, বিশ্লেষণী দক্ষতা, সৃজনশীলতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা ও সুনির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সামর্থ্য, যা একটি জাতিকে ক্রমাগত উন্নতির দিকে ধাবিত করে এবং প্রভাবশালী করে তোলে।

মেধার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব :
একটি জাতি তখনই এগিয়ে যায় যখন সেই জাতি তার মেধাবী, সৃজনশীল এবং উদ্ভাবনী শক্তিকে যথাযথ ও পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে পারে।
বিশ্বজুড়ে উন্নত ও শক্তিশালী দেশগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাব তাদের অগ্রগতির পেছনে মেধাবী জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, প্রশাসন, অর্থনীতি সব খাতেই মেধাবীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একটি দেশ বা জাতির সুশাসন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা করতে বা জাতিকে প্রভাবশালী করে তুলতে মেধাই একমাত্র বিকল্প। তাই মেধার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার শেষ কথা বলতে কিছু নেই।

উদাহরণ হিসেবে পৃথিবীর উন্নত জাতিগুলোর দিকে যদি তাকাই দেখব আমেরিকার চীন ও রাশিয়া মেধার বিস্তৃত বিকাশের মাধ্যমে তারা তাদের উন্নত শক্তিশালী অবস্থানে এসেছে। যেমন সমগ্র পৃথিবীর মেধাবীদের তারা বিনা খরচে শিক্ষার জন্য সুযোগ তৈরি করে দিয়ে তাদেরকেই তারা নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে থাকে এবং সকল ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক ব্যবস্থার ধারক ও বাহক হিসেবে আবির্ভূত হতে থাকে।

মেধাবীদেরকে যথাযথ ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি উদ্ভাবন, কার্যকরী রাষ্ট্র ব্যবস্থা তৈরি, ব্যবসা প্রবৃদ্ধি, উদ্যোক্তা তৈরি, গবেষণা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশগুলো নিজেদের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসন, গবেষণা, অর্থনীতি, সমরাস্ত্র সক্ষমতা, নেতৃত্ব সকল বিষয়ে প্রতিনিয়ত আধুনিক ও প্রভাবশালী অবস্থানে নিজেদের অধিষ্ঠিত করে যাচ্ছে। যা তাদের মেধা বিকাশের ফলাফল। তাই মেধা বিকাশের সুযোগ প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব মানব সভ্যতা উন্নত হতে ও টিকে থাকতে একটি অপরিহার্য বিষয়।

কোটা :
আমাদের সমাজে এমন অনেক পিছিয়ে পড়া ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী রয়েছে যারা মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও তারা সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক অবস্থার কারণে তাদের মেধার যথাযথ বিকাশ ঘটাতে পারে না। এই বৈষম্য দূর করতে কোটা ব্যবস্থা সুবিধা বঞ্চিতদের জন্য একটি কার্যকর সামাজিক নীতি হিসেবে কাজ করে।

কোটার ভূমিকা
কোটা ব্যবস্থা কখনোই মেধার প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বা কোটা মানে মেধাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয় বা সমাজের কোনো কোনো গোষ্ঠীর সুযোগ বা সুবিধা সৃষ্টি করা নয়। বরং এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে সমাজের সকল গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।

-কোটা সমাজে সাম্য ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় বিশেষ ভূমিকা রাখে
-পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করে
-দীর্ঘ মেয়েদের টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা গড়ে তোলে

একটি ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়তে কেবল মেধার বিকাশ নয় বরং জাতিগত উন্নয়নে সকলের অংশগ্রহণে সমতা প্রতিষ্ঠা করাও জরুরী।

জাতিগত উন্নয়নে মেধার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবহার অপরিহার্য। মেধা দেশ ও জাতির চালিকাশক্তি। মেধার বিকাশ যেন সমাজের প্রতিটি স্তরে ঘুটতে পারে সেটাই কোটার মূল উদ্দেশ্য। প্রতিটি মেধাই যেন রাষ্ট্র ও জাতিগত উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে, সমতার ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই রাষ্ট্রের অত্যাবশ্যকীয় কার্য্য, যা কোটার সঠিক গন্তব্যগত অবস্থান।

 

লেখক: কলামিস্ট।

 

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মেধা বিকাশের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব

প্রকাশের সময় : ১২:২৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫

একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হলো তার জনগণের মেধা ও দক্ষতা। শিক্ষা-প্রযুক্তি, প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প সব খাতেই মেধা ও কর্মদক্ষতার মূল্য অপরিসীম। মানব সভ্যতার বিকাশে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে মানুষের মেধাশক্তি।

এটা কোনো পুথিগত বিদ্যা বা বিশেষ সনদ নয় বরং মেধা হল ব্যক্তির অন্তর্নিহিত জ্ঞান, জ্ঞান অর্জনের ক্ষমতা, বিশ্লেষণী দক্ষতা, সৃজনশীলতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা ও সুনির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সামর্থ্য, যা একটি জাতিকে ক্রমাগত উন্নতির দিকে ধাবিত করে এবং প্রভাবশালী করে তোলে।

মেধার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব :
একটি জাতি তখনই এগিয়ে যায় যখন সেই জাতি তার মেধাবী, সৃজনশীল এবং উদ্ভাবনী শক্তিকে যথাযথ ও পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে পারে।
বিশ্বজুড়ে উন্নত ও শক্তিশালী দেশগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাব তাদের অগ্রগতির পেছনে মেধাবী জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, প্রশাসন, অর্থনীতি সব খাতেই মেধাবীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একটি দেশ বা জাতির সুশাসন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা করতে বা জাতিকে প্রভাবশালী করে তুলতে মেধাই একমাত্র বিকল্প। তাই মেধার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার শেষ কথা বলতে কিছু নেই।

উদাহরণ হিসেবে পৃথিবীর উন্নত জাতিগুলোর দিকে যদি তাকাই দেখব আমেরিকার চীন ও রাশিয়া মেধার বিস্তৃত বিকাশের মাধ্যমে তারা তাদের উন্নত শক্তিশালী অবস্থানে এসেছে। যেমন সমগ্র পৃথিবীর মেধাবীদের তারা বিনা খরচে শিক্ষার জন্য সুযোগ তৈরি করে দিয়ে তাদেরকেই তারা নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে থাকে এবং সকল ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক ব্যবস্থার ধারক ও বাহক হিসেবে আবির্ভূত হতে থাকে।

মেধাবীদেরকে যথাযথ ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি উদ্ভাবন, কার্যকরী রাষ্ট্র ব্যবস্থা তৈরি, ব্যবসা প্রবৃদ্ধি, উদ্যোক্তা তৈরি, গবেষণা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশগুলো নিজেদের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসন, গবেষণা, অর্থনীতি, সমরাস্ত্র সক্ষমতা, নেতৃত্ব সকল বিষয়ে প্রতিনিয়ত আধুনিক ও প্রভাবশালী অবস্থানে নিজেদের অধিষ্ঠিত করে যাচ্ছে। যা তাদের মেধা বিকাশের ফলাফল। তাই মেধা বিকাশের সুযোগ প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব মানব সভ্যতা উন্নত হতে ও টিকে থাকতে একটি অপরিহার্য বিষয়।

কোটা :
আমাদের সমাজে এমন অনেক পিছিয়ে পড়া ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী রয়েছে যারা মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও তারা সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক অবস্থার কারণে তাদের মেধার যথাযথ বিকাশ ঘটাতে পারে না। এই বৈষম্য দূর করতে কোটা ব্যবস্থা সুবিধা বঞ্চিতদের জন্য একটি কার্যকর সামাজিক নীতি হিসেবে কাজ করে।

কোটার ভূমিকা
কোটা ব্যবস্থা কখনোই মেধার প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বা কোটা মানে মেধাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয় বা সমাজের কোনো কোনো গোষ্ঠীর সুযোগ বা সুবিধা সৃষ্টি করা নয়। বরং এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে সমাজের সকল গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।

-কোটা সমাজে সাম্য ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় বিশেষ ভূমিকা রাখে
-পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করে
-দীর্ঘ মেয়েদের টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা গড়ে তোলে

একটি ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়তে কেবল মেধার বিকাশ নয় বরং জাতিগত উন্নয়নে সকলের অংশগ্রহণে সমতা প্রতিষ্ঠা করাও জরুরী।

জাতিগত উন্নয়নে মেধার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবহার অপরিহার্য। মেধা দেশ ও জাতির চালিকাশক্তি। মেধার বিকাশ যেন সমাজের প্রতিটি স্তরে ঘুটতে পারে সেটাই কোটার মূল উদ্দেশ্য। প্রতিটি মেধাই যেন রাষ্ট্র ও জাতিগত উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে, সমতার ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই রাষ্ট্রের অত্যাবশ্যকীয় কার্য্য, যা কোটার সঠিক গন্তব্যগত অবস্থান।

 

লেখক: কলামিস্ট।