চিকিৎসককে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসা পেল না কোলের শিশু
- প্রকাশের সময় : ০৬:৫২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
- / 8
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চিকিৎসককে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় রোগীর স্বজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিস এলাকার বাসিন্দা তানভীর হাসান তার দুই বছর বয়সী ছেলে রুজায়াইনকে নিয়ে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান। পরিবারের দাবি, বিড়ালের আঁচড়ে আহত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামকে সালাম দিয়ে ‘ভাই’ সম্বোধন করে শিশুর বিষয়ে জানান তানভীর হাসান। চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ের প্রয়োজনীয় টিকা নেই এবং বিকেলে আসতে বলেন। পরে যোগাযোগের সুবিধার্থে চিকিৎসকের মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে রোগীর স্বজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে তাদের চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রোগীর স্বজনকে বলতে শোনা যায়, ‘প্রথমে ঢুকেই আপনাকে সালাম দিলাম, এরপর ভাই বললাম। আপনি কোন গেজেটেড অফিসার যে আপনাকে ভাই বলা যাবে না?’ জবাবে চিকিৎসক বলেন, ‘আপনি চলে যান, আপনার সঙ্গে কোনো কথা বলব না।’
রোগীর বাবা তানভীর হাসান বলেন, ‘আমি অসুস্থ শিশুকে নিয়ে চিকিৎসার আশায় হাসপাতালে গিয়েছিলাম। চিকিৎসককে সম্মান জানিয়েই কথা বলেছি। কিন্তু “ভাই” বলায় তিনি বিরক্ত হন। পরে মোবাইল নম্বর চাইতেই তিনি তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং চিকিৎসা না দিয়ে চলে যেতে বলেন।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ বলেন, ‘ডা. আরিফুল ইসলাম দায়িত্বশীল ও কর্মঠ একজন চিকিৎসক। ঘটনাটি মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। রোগী যোগাযোগের জন্য নম্বর চাইলে হাসপাতালের অফিসিয়াল নম্বর দেওয়া যেতে পারত। ভিডিওতেও “ভাই” বলে সম্বোধন করতে নিষেধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে শোনা যায় না। আমার মতে, উভয় পক্ষের ভুল বোঝাবুঝির কারণেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসকদের আরও সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।





















