সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot

লবণাক্ততাসহিষ্ণু নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৮:১৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 4
উপকূলীয় কৃষিতে লবণাক্ততা মোকাবিলার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারে নতুন উচ্চফলনশীল ধানের জাত ‘ব্রি ধান১১৯’ উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা। রোপা আমন ও বোরো—উভয় মৌসুমে চাষোপযোগী এই জাতটি সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৬তম সভায় রোপা আমন মৌসুমে চাষের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
‘লোকেশন স্পেসিফিক টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের অর্থায়নে ব্রির মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ এখলাছুর রহমানের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী জাতটি উদ্ভাবন করেন।
গবেষকদের তথ্যমতে, ব্রি ধান১১৯-এর জীবনকাল মাত্র ১১৫ দিন এবং গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৫.৭ টন, যা অনুকূল পরিবেশে সর্বোচ্চ ৭.৬ টন পর্যন্ত হতে পারে। প্রচলিত ব্রি ধান৭৩-এর তুলনায় এটি হেক্টরে প্রায় এক টন বেশি ফলন দেয়। কাণ্ড শক্ত হওয়ায় হেলে পড়ে না এবং প্রতিটি শীষে গড়ে ২১৫টি পর্যন্ত পুষ্ট দানা ধরে। চাল মাঝারি চিকন, সাদা এবং রান্নায় ভাত ঝরঝরে হয়।
জাতটির মূল শক্তি লবণাক্ততা সহনশীলতা। চারা অবস্থায় এটি ১২ ডেসিসিমেন্স/মিটার এবং বৃদ্ধি থেকে প্রজনন পর্যায়ে ৮–১০ ডেসিসিমেন্স/মিটার পর্যন্ত লবণাক্ততা অনায়াসে সহ্য করতে পারে। কক্সবাজার ও সাতক্ষীরার মাঠপরীক্ষায় এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।
স্বল্প জীবনকালের কারণে এ ধান কাটার পর জমিতে অনায়াসে সূর্যমুখী বা সরিষা এবং বোরো মৌসুম শেষে সবুজ সার হিসেবে ধইঞ্চা চাষের সুযোগ মিলবে। বোরো মৌসুমেও এর সফল মাঠমূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং সেখানেও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ব্রি ধান১১৯ উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদন ও আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

লবণাক্ততাসহিষ্ণু নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন

প্রকাশের সময় : ০৮:১৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
উপকূলীয় কৃষিতে লবণাক্ততা মোকাবিলার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারে নতুন উচ্চফলনশীল ধানের জাত ‘ব্রি ধান১১৯’ উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা। রোপা আমন ও বোরো—উভয় মৌসুমে চাষোপযোগী এই জাতটি সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৬তম সভায় রোপা আমন মৌসুমে চাষের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
‘লোকেশন স্পেসিফিক টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের অর্থায়নে ব্রির মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ এখলাছুর রহমানের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী জাতটি উদ্ভাবন করেন।
গবেষকদের তথ্যমতে, ব্রি ধান১১৯-এর জীবনকাল মাত্র ১১৫ দিন এবং গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৫.৭ টন, যা অনুকূল পরিবেশে সর্বোচ্চ ৭.৬ টন পর্যন্ত হতে পারে। প্রচলিত ব্রি ধান৭৩-এর তুলনায় এটি হেক্টরে প্রায় এক টন বেশি ফলন দেয়। কাণ্ড শক্ত হওয়ায় হেলে পড়ে না এবং প্রতিটি শীষে গড়ে ২১৫টি পর্যন্ত পুষ্ট দানা ধরে। চাল মাঝারি চিকন, সাদা এবং রান্নায় ভাত ঝরঝরে হয়।
জাতটির মূল শক্তি লবণাক্ততা সহনশীলতা। চারা অবস্থায় এটি ১২ ডেসিসিমেন্স/মিটার এবং বৃদ্ধি থেকে প্রজনন পর্যায়ে ৮–১০ ডেসিসিমেন্স/মিটার পর্যন্ত লবণাক্ততা অনায়াসে সহ্য করতে পারে। কক্সবাজার ও সাতক্ষীরার মাঠপরীক্ষায় এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।
স্বল্প জীবনকালের কারণে এ ধান কাটার পর জমিতে অনায়াসে সূর্যমুখী বা সরিষা এবং বোরো মৌসুম শেষে সবুজ সার হিসেবে ধইঞ্চা চাষের সুযোগ মিলবে। বোরো মৌসুমেও এর সফল মাঠমূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং সেখানেও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ব্রি ধান১১৯ উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদন ও আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।