Dhaka ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সাংবাদিকদের ‘পেটানোর হুমকি’, ক্ষমা চাইতে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ শিক্ষার্থীদের অনুপযুক্ত স্পর্শ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় : মিজানুর রহমান আজহারি লং মার্চ-মিছিল না করে আলোচনায় আসুন, বিরোধী দলকে চিফ হুইপ শ্রেণিভেদ নির্মূল করে মানবতার কল্যাণের কথা বলেছেন গৌতম বুদ্ধ: রিজভী ডোপ টেস্টের কিট কিনতে কালীগঞ্জ থানাকে ৫০ হাজার টাকা দিল মোটর মালিক সমিতি সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন সীমান্তে ‌‌‘বিএসএফের ছেড়ে দেওয়া’ বাঘের আক্রমণে নারীসহ আহত ৩ চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চারটি পাঠ্যবই অনুমোদন ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন পুলিশকে শক্তিশালী না করলে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা সম্ভব নয় : আইজিপি

শ্রীমঙ্গলের লোকালয়ে দুই বনবিড়াল শাবক

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা
  • প্রকাশের সময় : ০৬:২৭:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 120

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লোকালয়ে হাঁস শিকার করতে এসে ধরা পড়েছে দুইটি বনবিড়ালের শাবক। পরে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা শাবক দুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন। গত বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার লাহারপুর এলাকায় আব্দুল ওহাব উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাহারপুরের বাসিন্দা সমর মোদকের বাড়িতে হাঁসের প্যাক প্যাক শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা বাইরে বের হন। এ সময় তারা তিনটি বনবিড়ালকে হাঁস শিকারের চেষ্টা করতে দেখেন। পরে বনবিড়ালগুলো ধরার চেষ্টা করলে একটি মা বনবিড়াল পালিয়ে যায়। এ সময় দুটি বাচ্চা বনবিড়াল ধরা পড়ে।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাচ্চা দুটিকে উদ্ধার করেন। তারা বনবিড়াল দুটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করেন।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, বনবিড়াল সাধারণ গৃহপালিত বিড়ালের তুলনায় কিছুটা বড় এবং এর কান খাড়া। সাধারণত এরা মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে। তবে শ্রীমঙ্গলের শহরতলি ও ঝোপঝাড়পূর্ণ এলাকাতেও মাঝে মাঝে বনবিড়ালের দেখা মেলে।

পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন, বনবিড়াল মূলত নিশাচর প্রাণী। গোধূলি ও ভোরের সময় এরা বেশি সক্রিয় থাকে। দিনের বেলায় ঘন ঝোপঝাড়,কাশবন কিংবা অন্য প্রাণীর পরিত্যক্ত গর্তে আশ্রয় নেয়। সাধারণত এরা একাকী জীবনযাপন করে এবং প্রজননকাল ছাড়া দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে না।

তিনি আরও বলেন,বনবিড়ালের খাদ্যতালিকায় ইঁদুর রয়েছে। ইঁদুর ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খাওয়ার মাধ্যমে এরা কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল কমে যাওয়ায় খাবারের সন্ধানে মাঝে মাঝে বনবিড়াল লোকালয়ে ঢুকে হাঁস-মুরগি শিকার করে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

শ্রীমঙ্গলের লোকালয়ে দুই বনবিড়াল শাবক

প্রকাশের সময় : ০৬:২৭:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লোকালয়ে হাঁস শিকার করতে এসে ধরা পড়েছে দুইটি বনবিড়ালের শাবক। পরে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা শাবক দুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন। গত বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার লাহারপুর এলাকায় আব্দুল ওহাব উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাহারপুরের বাসিন্দা সমর মোদকের বাড়িতে হাঁসের প্যাক প্যাক শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা বাইরে বের হন। এ সময় তারা তিনটি বনবিড়ালকে হাঁস শিকারের চেষ্টা করতে দেখেন। পরে বনবিড়ালগুলো ধরার চেষ্টা করলে একটি মা বনবিড়াল পালিয়ে যায়। এ সময় দুটি বাচ্চা বনবিড়াল ধরা পড়ে।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাচ্চা দুটিকে উদ্ধার করেন। তারা বনবিড়াল দুটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করেন।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, বনবিড়াল সাধারণ গৃহপালিত বিড়ালের তুলনায় কিছুটা বড় এবং এর কান খাড়া। সাধারণত এরা মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে। তবে শ্রীমঙ্গলের শহরতলি ও ঝোপঝাড়পূর্ণ এলাকাতেও মাঝে মাঝে বনবিড়ালের দেখা মেলে।

পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন, বনবিড়াল মূলত নিশাচর প্রাণী। গোধূলি ও ভোরের সময় এরা বেশি সক্রিয় থাকে। দিনের বেলায় ঘন ঝোপঝাড়,কাশবন কিংবা অন্য প্রাণীর পরিত্যক্ত গর্তে আশ্রয় নেয়। সাধারণত এরা একাকী জীবনযাপন করে এবং প্রজননকাল ছাড়া দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে না।

তিনি আরও বলেন,বনবিড়ালের খাদ্যতালিকায় ইঁদুর রয়েছে। ইঁদুর ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খাওয়ার মাধ্যমে এরা কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল কমে যাওয়ায় খাবারের সন্ধানে মাঝে মাঝে বনবিড়াল লোকালয়ে ঢুকে হাঁস-মুরগি শিকার করে।