Dhaka ১০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সব নাগরিককে এক ডিজিটাল আইডির আওতায় আনতে চায় সরকার : রেহান আসিফ ৯ বছর পর মুক্তি মিলছে গাজীপুর সাফারি পার্কের দুই লেপার্ডের ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত : রাষ্ট্রপতি কানাডার উৎসবে সেরা অভিনেত্রী তুষি, ‘রইদ’ পেল তিন পুরস্কার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুণী শিক্ষক হিসেবে সংবর্ধনা পাচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবার আহাজারি, ‘আমার বাচ্চা ফেরত দেন, আর কিছু চাই না’ এলপিজির দাম বাড়ল সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা!

৯ বছর পর মুক্তি মিলছে গাজীপুর সাফারি পার্কের দুই লেপার্ডের

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ১০:১৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1

গাজীপুর সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী হাসপাতাল এলাকায় ছোট একটি ঘরে প্রায় নয় বছর ধরে বন্দী জীবন কাটাচ্ছে দুটি লেপার্ড। অথচ কোয়ারেন্টিনের জন্য তাদের সেখানে রাখার কথা ছিল মাত্র তিন সপ্তাহ। এত দিন পর এবার তাদের জন্য তৈরি হচ্ছে আলাদা বেষ্টনী। এতে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা, গাছে ওঠা ও পানির সুবিধার পাশাপাশি থাকবে রাতযাপনের ব্যবস্থাও।

রবিবার দুপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান এসব তথ্য জানান।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালে চালু হওয়া সাফারি পার্কের অত্যাবশ্যকীয় ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে লেপার্ডের জন্য আলাদা বেষ্টনী তৈরির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ বেষ্টনী নির্মাণে ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, বেষ্টনীটির আয়তন হবে প্রায় ১৫০ বর্গমিটার। সেখানে লেপার্ডের স্বাভাবিকভাবে গাছে ওঠার জন্য প্রাকৃতিক গাছপালা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তা সম্ভব না হলে কৃত্রিম গাছ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি থাকবে পানির ব্যবস্থা ও রাতযাপনের জন্য আলাদা আশ্রয়স্থল।

তবে বেষ্টনীটি সাফারি পার্কের কোথায় নির্মাণ করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। জায়গা নির্ধারণের পর বেষ্টনীটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে কি না, তা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

সাফারি পার্ক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া এলাকায় একটি গাড়ি থেকে দুটি লেপার্ড ও দুটি সিংহশাবক উদ্ধার করে পুলিশ। বন্য প্রাণী পাচারের অভিযোগে এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়। পরে চারটি শাবককে গাজীপুর সাফারি পার্কে আনা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, শাবকগুলোকে তিন সপ্তাহের জন্য কোয়ারেন্টিন শেডে রাখা হয়েছিল। পরে দুটি সিংহশাবককে সাফারি পার্কে স্থানান্তর করা হলেও লেপার্ডের দুটি শাবককে ওই শেডেই রাখা হয়।

উদ্ধারের সময় লেপার্ড দুটির বয়স ছিল মাত্র দেড় মাস। এখন তাদের বয়স প্রায় নয় বছর। অর্থাৎ জীবনের প্রায় পুরোটা সময়ই তারা গাজীপুর সাফারি পার্কের ছোট ঘরের বন্দিদশায় কাটিয়েছে।

লেপার্ড সাধারণত চটপটে ও দক্ষ শিকারি প্রাণী। গাছে ওঠার অসাধারণ ক্ষমতাও রয়েছে তাদের। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে লোহার গ্রিল দিয়ে ঘেরা ছোট ঘরে থাকায় স্বাভাবিকভাবে গাছে ওঠা, দৌড়ানো কিংবা শিকার করার সুযোগ পায়নি প্রাণী দুটি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

৯ বছর পর মুক্তি মিলছে গাজীপুর সাফারি পার্কের দুই লেপার্ডের

প্রকাশের সময় : ১০:১৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুর সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী হাসপাতাল এলাকায় ছোট একটি ঘরে প্রায় নয় বছর ধরে বন্দী জীবন কাটাচ্ছে দুটি লেপার্ড। অথচ কোয়ারেন্টিনের জন্য তাদের সেখানে রাখার কথা ছিল মাত্র তিন সপ্তাহ। এত দিন পর এবার তাদের জন্য তৈরি হচ্ছে আলাদা বেষ্টনী। এতে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা, গাছে ওঠা ও পানির সুবিধার পাশাপাশি থাকবে রাতযাপনের ব্যবস্থাও।

রবিবার দুপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান এসব তথ্য জানান।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালে চালু হওয়া সাফারি পার্কের অত্যাবশ্যকীয় ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে লেপার্ডের জন্য আলাদা বেষ্টনী তৈরির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ বেষ্টনী নির্মাণে ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, বেষ্টনীটির আয়তন হবে প্রায় ১৫০ বর্গমিটার। সেখানে লেপার্ডের স্বাভাবিকভাবে গাছে ওঠার জন্য প্রাকৃতিক গাছপালা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তা সম্ভব না হলে কৃত্রিম গাছ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি থাকবে পানির ব্যবস্থা ও রাতযাপনের জন্য আলাদা আশ্রয়স্থল।

তবে বেষ্টনীটি সাফারি পার্কের কোথায় নির্মাণ করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। জায়গা নির্ধারণের পর বেষ্টনীটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে কি না, তা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

সাফারি পার্ক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া এলাকায় একটি গাড়ি থেকে দুটি লেপার্ড ও দুটি সিংহশাবক উদ্ধার করে পুলিশ। বন্য প্রাণী পাচারের অভিযোগে এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়। পরে চারটি শাবককে গাজীপুর সাফারি পার্কে আনা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, শাবকগুলোকে তিন সপ্তাহের জন্য কোয়ারেন্টিন শেডে রাখা হয়েছিল। পরে দুটি সিংহশাবককে সাফারি পার্কে স্থানান্তর করা হলেও লেপার্ডের দুটি শাবককে ওই শেডেই রাখা হয়।

উদ্ধারের সময় লেপার্ড দুটির বয়স ছিল মাত্র দেড় মাস। এখন তাদের বয়স প্রায় নয় বছর। অর্থাৎ জীবনের প্রায় পুরোটা সময়ই তারা গাজীপুর সাফারি পার্কের ছোট ঘরের বন্দিদশায় কাটিয়েছে।

লেপার্ড সাধারণত চটপটে ও দক্ষ শিকারি প্রাণী। গাছে ওঠার অসাধারণ ক্ষমতাও রয়েছে তাদের। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে লোহার গ্রিল দিয়ে ঘেরা ছোট ঘরে থাকায় স্বাভাবিকভাবে গাছে ওঠা, দৌড়ানো কিংবা শিকার করার সুযোগ পায়নি প্রাণী দুটি।