সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot

হেমায়েতপুরে জাবির বাসে হামলা, ছাত্রীসহ আহত ৩

জাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ১০:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / 21

 

সাভারের হেমায়েতপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বঙ্গবাজারগামী ভাড়ায় চালিত বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাসটির কয়েকটি জানালার কাঁচ ও দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম ব্যাচের এক ছাত্রীসহ তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে হেমায়েতপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হেমায়েতপুর এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে আটকে থাকা বাসগুলো একে একে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছিল। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবাজারগামী বিকেল ৩টার বাসটিও সামনে এগিয়ে যায়। বাসের সামনের দিকে থাকা একদল লোক চলাচলে বাধা না দিলেও পেছন দিক থেকে কয়েকজন দৌড়ে এসে হামলা চালায়। এ সময় বাসটির সামনে, পেছনে ও বাম পাশ থেকে রড ও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে কয়েকটি জানালার কাঁচ ও দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি একটি রড বাসের ভেতরেও ঢুকে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সামনের দিক থেকে একদল লোক বলছিল, ভাই বাস ছেড়ে দেন, সমস্যা নাই। কিন্তু পেছন থেকে কয়েকজন কিশোর দৌড়ে এসে হঠাৎ বাসে হামলা চালায়। সামনের দিক থেকে গ্লাস ভাঙে, বাম পাশ থেকে দুটি গ্লাস ভাঙে এবং পেছন থেকেও একটি গ্লাস ভাঙে। মোটামুটি তিন দিক থেকে হামলা চালানো হয়। এ সময় রড ও লাঠি দিয়ে বাসে আঘাত করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, হামলার সময় বাসে থাকা ৫৩তম ব্যাচের এক ছাত্রীসহ দুই-তিনজন আহত হন। পরে চিকিৎসার জন্য ওই ছাত্রীকে ধানমন্ডির কাছাকাছি নামানো হয়। তিনি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে যান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর গাড়িটি নিরাপদে চলে গেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদে আছেন।’

তিনি আরও বলেন, পরিবহন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক শফিককে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আগামীকাল বাসচালকের বক্তব্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে প্রক্টরের কাছে জমা দেওয়া হবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত কমিটি গঠনের কোনো পরিকল্পনা নেই।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

হেমায়েতপুরে জাবির বাসে হামলা, ছাত্রীসহ আহত ৩

প্রকাশের সময় : ১০:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

 

সাভারের হেমায়েতপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বঙ্গবাজারগামী ভাড়ায় চালিত বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাসটির কয়েকটি জানালার কাঁচ ও দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম ব্যাচের এক ছাত্রীসহ তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে হেমায়েতপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হেমায়েতপুর এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে আটকে থাকা বাসগুলো একে একে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছিল। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবাজারগামী বিকেল ৩টার বাসটিও সামনে এগিয়ে যায়। বাসের সামনের দিকে থাকা একদল লোক চলাচলে বাধা না দিলেও পেছন দিক থেকে কয়েকজন দৌড়ে এসে হামলা চালায়। এ সময় বাসটির সামনে, পেছনে ও বাম পাশ থেকে রড ও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে কয়েকটি জানালার কাঁচ ও দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি একটি রড বাসের ভেতরেও ঢুকে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সামনের দিক থেকে একদল লোক বলছিল, ভাই বাস ছেড়ে দেন, সমস্যা নাই। কিন্তু পেছন থেকে কয়েকজন কিশোর দৌড়ে এসে হঠাৎ বাসে হামলা চালায়। সামনের দিক থেকে গ্লাস ভাঙে, বাম পাশ থেকে দুটি গ্লাস ভাঙে এবং পেছন থেকেও একটি গ্লাস ভাঙে। মোটামুটি তিন দিক থেকে হামলা চালানো হয়। এ সময় রড ও লাঠি দিয়ে বাসে আঘাত করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, হামলার সময় বাসে থাকা ৫৩তম ব্যাচের এক ছাত্রীসহ দুই-তিনজন আহত হন। পরে চিকিৎসার জন্য ওই ছাত্রীকে ধানমন্ডির কাছাকাছি নামানো হয়। তিনি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে যান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর গাড়িটি নিরাপদে চলে গেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদে আছেন।’

তিনি আরও বলেন, পরিবহন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক শফিককে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আগামীকাল বাসচালকের বক্তব্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে প্রক্টরের কাছে জমা দেওয়া হবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত কমিটি গঠনের কোনো পরিকল্পনা নেই।