এলাকা ছাড়তে হলো মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোনকে

- প্রকাশের সময় : ০৩:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 12

বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করে বক্তব্য দেওয়ার পর হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁর বোন হেনা বেগম। আতঙ্কে তিনি স্বজনদের সঙ্গে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাইবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত বুধবার স্বজনদের সঙ্গে এলাকা ছাড়েন হেনা বেগম। এর আগে তাঁর কয়েকজন নিকটাত্মীয়ও এলাকা ছেড়েছেন বলে জানা গেছে।
পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়ি। তাঁর বাড়ির পাশেই বসবাস করতেন বোন হেনা বেগম। মানিক পশারী একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জামাতার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
দুই মাস অসুস্থ থাকার পর গত ২৪ অক্টোবর সকালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ পিরোজপুরে নেওয়া হলে গার্ড অব অনার দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় কিছু লোক তাঁর মরদেহ সেখানে দাফন না করার দাবি জানান। এ সময় পিরোজপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নেতাকর্মীদের অবস্থান ও সমবেত হতে দেখা যায়। পরে গভীর রাতে পুলিশ পাহারায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করেন স্বজনেরা।
হেনা বেগম মোবাইল ফোনে বলেন, ভাইয়ের দাফনে যারা বাধা দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে কথা বলার পর থেকে তিনি বিভিন্ন ধরনের হুমকি পাচ্ছেন। রাতে ঝুপড়িঘরে থাকতে ভয় হচ্ছে। এ কারণে এলাকা ছেড়ে দূরে চলে যাচ্ছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাইবেন বলেও জানান।
মানিক পশারীর ভাই পান্না পশারী খুলনার বটিয়াঘাটায় থাকেন। তাঁর অভিযোগ, ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ২৪ অক্টোবর দুপুরে পিরোজপুরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ডে গেলে তাঁকে হুমকি দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে গিয়েও হুমকির কারণে তাঁদের পিরোজপুর ছাড়তে হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে স্বজনদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিয়ানগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আলী হোসেন। তিনি বলেন, তাঁদের দলের পক্ষ থেকে মানিক পশারীর কোনো স্বজনকে হুমকি বা হয়রানি করা হয়নি। এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনের পর এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তারপরও পুলিশ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। গ্রাম পুলিশও খোঁজখবর নিচ্ছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।





















