শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
স্বামীকে কারামুক্ত করার আশ্বাসে নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা সৌদিগামী ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ২২ হাজার যাত্রী এমপি আজিজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রে সুপারিশ করবে জেলা বিএনপি পুলিশের চাকরিতে থেকেও আইনজীবী সমিতির সদস্য, সরাইলের ওসিকে শোকজ গোপালগঞ্জে জমিতে জোর করে গাছ লাগানোর অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি রাজবাড়ীতে খানকা শরীফে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির হামলা বাবুর্চি নিহত ‘অভিনেত্রী হয়েছি বলে কি ব্যক্তিগত জীবন থাকবে না?’ আইফোনের সূত্রে শনাক্ত তাহসিফের পরিচয়, মৃত্যুরহস্য উন্মোচনে কী জানা যাবে? জুলাই সনদে বিএনপির ভিন্নমত নিয়ে সমঝোতার ইঙ্গিত আওয়ামী লীগের ভয়ে গোপালগঞ্জে জনসভা করতে ভয় পায় জামায়াত: রাশেদ খাঁন

পবিপ্রবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, প্রক্টরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

পবিপ্রবি প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : ০৯:২৩:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 43

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বরিশাল ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিল ও পোস্টার স্থাপনের ঘটনা ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির নজরদারি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‘প্রত্যাবর্তন ২.০ লোডিং’ ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচির একটি ভিডিও গত ২৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেক। ভিডিওতে ক্যাম্পাসে মিছিল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামফলকে তাঁর ছবি-সংবলিত পোস্টার স্থাপনের দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচিটি পূজার ছুটির সময় অনুষ্ঠিত হয়। তবে এতে কারা অংশ নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের উপস্থিতিতে কীভাবে ক্যাম্পাসে এমন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “২০২৪ সালের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ থাকা ব্যক্তিরা কীভাবে ক্যাম্পাসে এ ধরনের কর্মসূচি পালন করেন, তা বোধগম্য নয়। প্রক্টরিয়াল বডি কঠোর অবস্থানে থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না।”

পবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. রেদোয়ান বলেন, “নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বাবুগঞ্জ ক্যাম্পাসে মিছিলের ঘটনা উদ্বেগজনক। ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন কর্মকাণ্ড কীভাবে সংঘটিত হলো, তা তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”

ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল নাহিদ দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছুটিতে থাকায় বাবুগঞ্জ ক্যাম্পাসের গেট খোলা ও অরক্ষিত থাকার সুযোগে কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকে ঝটিকা মিছিল করে চলে যান। তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর ভিডিওসহ তথ্যপ্রমাণ দিয়ে প্রক্টর ও উপ-উপাচার্যকে মামলা করার অনুরোধ জানান। প্রক্টর দ্রুত গ্রেপ্তার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, “ঘটনাটি গত ২১ অক্টোবর ঘটেছে। মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা কেউই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন না। ছাত্রলীগ মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের কর্মসূচি পালন করে। পরে ফেসবুকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পদক্ষেপ নিয়েছি।”

ছাত্রদল নেতারা ঘটনার দিনই ভিডিওসহ তথ্যপ্রমাণ দিয়ে বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছিলেন বলে দাবি করলেও প্রক্টর বলেন, তাঁদের দেওয়া ভিডিওটি স্পষ্ট ছিল না। এ কারণে তখন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব প্রক্টরকে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রক্টর বিস্তারিত জানাতে পারবেন। দায়িত্ব দেওয়ার পরও ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হয়ে থাকলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রক্টরের সঙ্গে আবারও কথা বলবেন। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

তবে উপ-উপাচার্যের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, “এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য স্যারের সঙ্গে আমার কোনো কথাই হয়নি।” এতে ঘটনার পর প্রশাসনিক যোগাযোগ ও পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

পবিপ্রবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, প্রক্টরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের সময় : ০৯:২৩:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বরিশাল ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিল ও পোস্টার স্থাপনের ঘটনা ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির নজরদারি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‘প্রত্যাবর্তন ২.০ লোডিং’ ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচির একটি ভিডিও গত ২৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেক। ভিডিওতে ক্যাম্পাসে মিছিল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামফলকে তাঁর ছবি-সংবলিত পোস্টার স্থাপনের দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচিটি পূজার ছুটির সময় অনুষ্ঠিত হয়। তবে এতে কারা অংশ নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের উপস্থিতিতে কীভাবে ক্যাম্পাসে এমন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “২০২৪ সালের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ থাকা ব্যক্তিরা কীভাবে ক্যাম্পাসে এ ধরনের কর্মসূচি পালন করেন, তা বোধগম্য নয়। প্রক্টরিয়াল বডি কঠোর অবস্থানে থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না।”

পবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. রেদোয়ান বলেন, “নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বাবুগঞ্জ ক্যাম্পাসে মিছিলের ঘটনা উদ্বেগজনক। ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন কর্মকাণ্ড কীভাবে সংঘটিত হলো, তা তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”

ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল নাহিদ দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছুটিতে থাকায় বাবুগঞ্জ ক্যাম্পাসের গেট খোলা ও অরক্ষিত থাকার সুযোগে কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকে ঝটিকা মিছিল করে চলে যান। তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর ভিডিওসহ তথ্যপ্রমাণ দিয়ে প্রক্টর ও উপ-উপাচার্যকে মামলা করার অনুরোধ জানান। প্রক্টর দ্রুত গ্রেপ্তার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, “ঘটনাটি গত ২১ অক্টোবর ঘটেছে। মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা কেউই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন না। ছাত্রলীগ মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের কর্মসূচি পালন করে। পরে ফেসবুকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পদক্ষেপ নিয়েছি।”

ছাত্রদল নেতারা ঘটনার দিনই ভিডিওসহ তথ্যপ্রমাণ দিয়ে বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছিলেন বলে দাবি করলেও প্রক্টর বলেন, তাঁদের দেওয়া ভিডিওটি স্পষ্ট ছিল না। এ কারণে তখন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব প্রক্টরকে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রক্টর বিস্তারিত জানাতে পারবেন। দায়িত্ব দেওয়ার পরও ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হয়ে থাকলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রক্টরের সঙ্গে আবারও কথা বলবেন। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

তবে উপ-উপাচার্যের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, “এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য স্যারের সঙ্গে আমার কোনো কথাই হয়নি।” এতে ঘটনার পর প্রশাসনিক যোগাযোগ ও পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।