শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
এমপি আজিজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রে সুপারিশ করবে জেলা বিএনপি পুলিশের চাকরিতে থেকেও আইনজীবী সমিতির সদস্য, সরাইলের ওসিকে শোকজ গোপালগঞ্জে জমিতে জোর করে গাছ লাগানোর অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি রাজবাড়ীতে খানকা শরীফে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির হামলা বাবুর্চি নিহত ‘অভিনেত্রী হয়েছি বলে কি ব্যক্তিগত জীবন থাকবে না?’ আইফোনের সূত্রে শনাক্ত তাহসিফের পরিচয়, মৃত্যুরহস্য উন্মোচনে কী জানা যাবে? জুলাই সনদে বিএনপির ভিন্নমত নিয়ে সমঝোতার ইঙ্গিত আওয়ামী লীগের ভয়ে গোপালগঞ্জে জনসভা করতে ভয় পায় জামায়াত: রাশেদ খাঁন নারীদের স্বাস্থ্যসেবায় ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার রাজবাড়ীর নারী নেত্রী ও মানবিক আইনজীবী দেবাহুতি চক্রবর্তী আর নেই

গোপালগঞ্জে জমিতে জোর করে গাছ লাগানোর অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : ১০:০৬:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 6

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে জোর করে প্রবেশ করে গাছ লাগানো, বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একই গ্রামের নাসির সর্দারের ছেলে নাঈম সর্দার, শাহিন সর্দার ও রাসেল সর্দারসহ কয়েকজন গত রাতে মৎস্য ব্যবসায়ী লিটন মোল্লার কেনা জমিতে জোর করে প্রবেশ করে গাছ লাগান। এ সময় জমিতে প্রবেশের কারণ জানতে চাইলে লিটন মোল্লার লোকজনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে লিটন মোল্লার ম্যানেজার ও বাড়িতে থাকা স্বজনেরা সেখান থেকে সরে যান।

লিটন মোল্লা মোল্লা মৎস্য ফার্ম লিমিটেডের কর্ণধর। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় দুই বছর আগে জমিটি কিনে সেখানে বালু ভরাট করেছেন। বাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে ইটও আনা হয়েছে। শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরুর পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যেই নাসির সর্দারের ছেলেরা জোর করে জমিতে প্রবেশ করে গাছ লাগিয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর।

লিটন মোল্লা আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে স্থানীয় রেজাউল সর্দার ও নাসির সর্দার তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মোল্লা এগ্রো ফার্ম লিমিটেডের ম্যানেজার মোহাম্মদ তোরাপ শিকদার বলেন, ‘আমরা প্রায় দুই বছর আগে জায়গাটি কিনে বালু ভরাট করেছি। সেখানে বাড়ি নির্মাণের জন্য ইটও আনা হয়েছে। মৎস্য খামারের ভেতরে পূর্ব পাশের ওই জায়গায় বাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু নাসির সর্দার ও রেজাউল সর্দারের লোকজন সেখানে গাছ লাগিয়ে দেন। বাধা দিতে গেলে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘বিবাদীপক্ষের লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় মৎস্য খামারে বিভিন্ন সময় প্রবেশ করে হয়রানি করেন বলে আমাদের অভিযোগ রয়েছে। গত বছর ওই খামারের প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার মাছ বিষ প্রয়োগে মারা যায়, যা আমরা স্বচক্ষে দেখেছি। সে সময়ও বিষয়টি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। লিটন মোল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। পরে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার আশ্বাসে আর আইনি প্রক্রিয়া এগোয়নি।’

আসাদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘লিটন মোল্লা তাঁর ঘেরসংলগ্ন জায়গায় বাড়ি নির্মাণের জন্য জমি প্রস্তুত করেছেন, বিষয়টি এলাকার অনেকেই জানেন। কিন্তু রাতের আঁধারে সেখানে গাছ লাগানোর ঘটনা আমরা দেখেছি। এ নিয়ে আর্থিক দাবি-দাওয়ার বিষয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসীর অভিযোগ, নাসির সর্দার ও রেজাউল সর্দারকে কেন্দ্র করে এলাকায় জমিজমা নিয়ে বিরোধ, মারামারি ও বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা ঘটছে। তাঁদের বিরুদ্ধে জমি কেনাবেচায় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং টাকা নিয়েও জমি বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অন্যের ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি জোর করে দখল বা ভোগদখলের চেষ্টা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

ভুক্তভোগী পক্ষ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত থানায় মামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযুক্ত নাঈম সর্দার, শাহিন সর্দার, রাসেল সর্দার, নাসির সর্দার ও রেজাউল সর্দারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

গোপালগঞ্জে জমিতে জোর করে গাছ লাগানোর অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি

প্রকাশের সময় : ১০:০৬:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে জোর করে প্রবেশ করে গাছ লাগানো, বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একই গ্রামের নাসির সর্দারের ছেলে নাঈম সর্দার, শাহিন সর্দার ও রাসেল সর্দারসহ কয়েকজন গত রাতে মৎস্য ব্যবসায়ী লিটন মোল্লার কেনা জমিতে জোর করে প্রবেশ করে গাছ লাগান। এ সময় জমিতে প্রবেশের কারণ জানতে চাইলে লিটন মোল্লার লোকজনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে লিটন মোল্লার ম্যানেজার ও বাড়িতে থাকা স্বজনেরা সেখান থেকে সরে যান।

লিটন মোল্লা মোল্লা মৎস্য ফার্ম লিমিটেডের কর্ণধর। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় দুই বছর আগে জমিটি কিনে সেখানে বালু ভরাট করেছেন। বাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে ইটও আনা হয়েছে। শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরুর পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যেই নাসির সর্দারের ছেলেরা জোর করে জমিতে প্রবেশ করে গাছ লাগিয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর।

লিটন মোল্লা আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে স্থানীয় রেজাউল সর্দার ও নাসির সর্দার তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মোল্লা এগ্রো ফার্ম লিমিটেডের ম্যানেজার মোহাম্মদ তোরাপ শিকদার বলেন, ‘আমরা প্রায় দুই বছর আগে জায়গাটি কিনে বালু ভরাট করেছি। সেখানে বাড়ি নির্মাণের জন্য ইটও আনা হয়েছে। মৎস্য খামারের ভেতরে পূর্ব পাশের ওই জায়গায় বাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু নাসির সর্দার ও রেজাউল সর্দারের লোকজন সেখানে গাছ লাগিয়ে দেন। বাধা দিতে গেলে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘বিবাদীপক্ষের লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় মৎস্য খামারে বিভিন্ন সময় প্রবেশ করে হয়রানি করেন বলে আমাদের অভিযোগ রয়েছে। গত বছর ওই খামারের প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার মাছ বিষ প্রয়োগে মারা যায়, যা আমরা স্বচক্ষে দেখেছি। সে সময়ও বিষয়টি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। লিটন মোল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। পরে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার আশ্বাসে আর আইনি প্রক্রিয়া এগোয়নি।’

আসাদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘লিটন মোল্লা তাঁর ঘেরসংলগ্ন জায়গায় বাড়ি নির্মাণের জন্য জমি প্রস্তুত করেছেন, বিষয়টি এলাকার অনেকেই জানেন। কিন্তু রাতের আঁধারে সেখানে গাছ লাগানোর ঘটনা আমরা দেখেছি। এ নিয়ে আর্থিক দাবি-দাওয়ার বিষয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসীর অভিযোগ, নাসির সর্দার ও রেজাউল সর্দারকে কেন্দ্র করে এলাকায় জমিজমা নিয়ে বিরোধ, মারামারি ও বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা ঘটছে। তাঁদের বিরুদ্ধে জমি কেনাবেচায় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং টাকা নিয়েও জমি বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অন্যের ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি জোর করে দখল বা ভোগদখলের চেষ্টা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

ভুক্তভোগী পক্ষ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত থানায় মামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযুক্ত নাঈম সর্দার, শাহিন সর্দার, রাসেল সর্দার, নাসির সর্দার ও রেজাউল সর্দারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।