শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

আইফোনের সূত্রে শনাক্ত তাহসিফের পরিচয়, মৃত্যুরহস্য উন্মোচনে কী জানা যাবে?

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 2

মরদেহের সঙ্গে পাওয়া গিয়েছিল একটি মানিব্যাগ, হাতঘড়ি ও বন্ধ আইফোন। উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় তখনো শনাক্ত হয়নি। পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ করছিল নৌ পুলিশ। এর মধ্যেই সূত্র হয়ে ওঠে আইফোনটি। ফোনটি চার্জে দিয়ে সচল করার পর আসে একটি কল। অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে মরদেহের স্বজন পরিচয় দিলে শনাক্ত হয় বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির পরিচয়।

বিডিনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন এভাবেই মরদেহ উদ্ধারের পর তাহসিফের পরিচয় শনাক্তের ঘটনা বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, ‘ফোনটি চার্জে লাগানোর একটু পরে যখন সচল হয়, তখন প্রথম কলটিই দেয় তার একজন রিলেটিভ। তার সঙ্গে কথা বলার পর আমরা ভিকটিমের পরিচয় নিশ্চিত হতে পারি। অবশ্য তার ফোনের ওয়ালপেপারে নিজের ছবি রেখেছিলেন তিনি।’

বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। এর আগে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। মরদেহটি ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।

মরদেহ উদ্ধারের পর ফিরোজ উদ্দিন জানিয়েছিলেন, তাহসিফের কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। সেটির মাধ্যমেই তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

মৃত্যুরহস্য উন্মোচনে কতটা সহায়ক আইফোন?

ফোনটির মাধ্যমে তাহসিফের মৃত্যুর আগের চলাচল, যোগাযোগ ও অন্যান্য কার্যকলাপের তথ্য পাওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি তানভীর হাসান জোহা বলেন, ফোন চার্জ দিয়ে চালু করে পরিচয় শনাক্ত করা তদন্তের প্রাথমিক পদক্ষেপ। তবে পরিচয় শনাক্তকরণ ও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা দুটি ভিন্ন বিষয়।

তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া আইফোনটির যথাযথ ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে কলের ইতিহাস, সম্ভাব্য অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, যোগাযোগের বিবরণ, বিভিন্ন অ্যাপের কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাউড অ্যাকাউন্ট থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব তথ্য ঘটনার আগের সময়ের একটি ডিজিটাল সময়রেখা তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। তবে ফোনটির প্রযুক্তিগত অবস্থা, তথ্যের প্রাপ্যতা ও ফরেনসিক পরীক্ষার সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, তদন্তের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ফোনটি উদ্ধারের পর থেকে কীভাবে সংরক্ষণ, পরিচালনা ও পরীক্ষা করা হয়েছে, তার যথাযথ নথিপত্র এবং আলামতের হেফাজত ও হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘এখানে কারও তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে আগাম প্রশ্ন তোলা নয়, বরং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’

তাঁর মতে, ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল, ময়নাতদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ, টেলিযোগাযোগের রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা হলে নির্ভরযোগ্য তদন্তে সহায়ক হতে পারে।

মোটরসাইকেল উদ্ধার, যাচাই করছে পিবিআই

এদিকে তাহসিফের ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজাকে নিয়ে শুক্রবার দুপুরে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা পরিদর্শন করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারা। ‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত এলাকাটি থেকে সকালে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পিবিআই কর্মকর্তাদের ধারণা, মোটরসাইকেলটি তাহসিফের।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ‘দীপ বলছে, তাদের পুলিশের পোশাক পরা কেউ ধাওয়া দিয়েছে। কে ধাওয়া দিল, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তারা মাদকাসক্ত ছিল কি না, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। দীপ অনেক কিছু বলেছে, আমরা সব কিছু যাচাই-বাছাই করছি।’

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আইফোন থেকে পাওয়া যেতে পারে এমন ডিজিটাল তথ্যের পাশাপাশি অন্যান্য আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমেই তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আইফোনের সূত্রে শনাক্ত তাহসিফের পরিচয়, মৃত্যুরহস্য উন্মোচনে কী জানা যাবে?

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

মরদেহের সঙ্গে পাওয়া গিয়েছিল একটি মানিব্যাগ, হাতঘড়ি ও বন্ধ আইফোন। উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় তখনো শনাক্ত হয়নি। পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ করছিল নৌ পুলিশ। এর মধ্যেই সূত্র হয়ে ওঠে আইফোনটি। ফোনটি চার্জে দিয়ে সচল করার পর আসে একটি কল। অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে মরদেহের স্বজন পরিচয় দিলে শনাক্ত হয় বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির পরিচয়।

বিডিনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন এভাবেই মরদেহ উদ্ধারের পর তাহসিফের পরিচয় শনাক্তের ঘটনা বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, ‘ফোনটি চার্জে লাগানোর একটু পরে যখন সচল হয়, তখন প্রথম কলটিই দেয় তার একজন রিলেটিভ। তার সঙ্গে কথা বলার পর আমরা ভিকটিমের পরিচয় নিশ্চিত হতে পারি। অবশ্য তার ফোনের ওয়ালপেপারে নিজের ছবি রেখেছিলেন তিনি।’

বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। এর আগে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। মরদেহটি ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।

মরদেহ উদ্ধারের পর ফিরোজ উদ্দিন জানিয়েছিলেন, তাহসিফের কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। সেটির মাধ্যমেই তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

মৃত্যুরহস্য উন্মোচনে কতটা সহায়ক আইফোন?

ফোনটির মাধ্যমে তাহসিফের মৃত্যুর আগের চলাচল, যোগাযোগ ও অন্যান্য কার্যকলাপের তথ্য পাওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি তানভীর হাসান জোহা বলেন, ফোন চার্জ দিয়ে চালু করে পরিচয় শনাক্ত করা তদন্তের প্রাথমিক পদক্ষেপ। তবে পরিচয় শনাক্তকরণ ও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা দুটি ভিন্ন বিষয়।

তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া আইফোনটির যথাযথ ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে কলের ইতিহাস, সম্ভাব্য অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, যোগাযোগের বিবরণ, বিভিন্ন অ্যাপের কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাউড অ্যাকাউন্ট থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব তথ্য ঘটনার আগের সময়ের একটি ডিজিটাল সময়রেখা তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। তবে ফোনটির প্রযুক্তিগত অবস্থা, তথ্যের প্রাপ্যতা ও ফরেনসিক পরীক্ষার সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, তদন্তের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ফোনটি উদ্ধারের পর থেকে কীভাবে সংরক্ষণ, পরিচালনা ও পরীক্ষা করা হয়েছে, তার যথাযথ নথিপত্র এবং আলামতের হেফাজত ও হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘এখানে কারও তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে আগাম প্রশ্ন তোলা নয়, বরং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’

তাঁর মতে, ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল, ময়নাতদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ, টেলিযোগাযোগের রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা হলে নির্ভরযোগ্য তদন্তে সহায়ক হতে পারে।

মোটরসাইকেল উদ্ধার, যাচাই করছে পিবিআই

এদিকে তাহসিফের ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজাকে নিয়ে শুক্রবার দুপুরে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা পরিদর্শন করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারা। ‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত এলাকাটি থেকে সকালে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পিবিআই কর্মকর্তাদের ধারণা, মোটরসাইকেলটি তাহসিফের।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ‘দীপ বলছে, তাদের পুলিশের পোশাক পরা কেউ ধাওয়া দিয়েছে। কে ধাওয়া দিল, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তারা মাদকাসক্ত ছিল কি না, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। দীপ অনেক কিছু বলেছে, আমরা সব কিছু যাচাই-বাছাই করছি।’

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আইফোন থেকে পাওয়া যেতে পারে এমন ডিজিটাল তথ্যের পাশাপাশি অন্যান্য আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমেই তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।