Dhaka ১০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দুইটি স্বর্ণের বারসহ পাসপোর্টধারী যাত্রী আটক গণঅভ্যুত্থান দিবসে পবিপ্রবিতে প্রদর্শনী বিতর্ক নওগাঁয় ডিবির অভিযানে এক কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক মান্দায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বিএনপির র‍্যালি ও আলোচনা সভা জাবিতে প্রকাশ্যে ঘুরছেন জুলাই হামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রলীগকর্মী, আসাদুলের বিরুদ্ধে ‘শেল্টার’ দেওয়ার অভিযোগ রাজবাড়ীতে গাভী পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ পাংশায় জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিল কালুখালীর বড়ইচারা গ্রামের ৩ কিলোমিটার সড়কে দুর্ভোগের শেষ নেই নওগাঁর মান্দায় চোলাই মদসহ গ্রেফতার ১ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে জাককানইবিতে আলোচনা সভা ও দোয়া

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে জাককানইবিতে আলোচনা সভা ও দোয়া

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৫০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 21

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’। এ উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।

আলোচনা সভার শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মোৎসর্গকারীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন উপাচার্য। একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলনে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসকে ‘গণতন্ত্র পুনরুত্থান দিবস’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

উপাচার্য বলেন, “জুলাই একদিকে আনন্দঘন এবং অন্যদিকে বেদনাবিধুর দিন। জুলাই মানে সন্তানহারা মা-বাবার বুকফাটা কান্না; জুলাই মানে ভাইহারা বোন আর বোনহারা ভাইয়ের কান্না। পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস হলো নিজের জীবন। সময়ের প্রয়োজনে দেশের জন্য এ দেশের জনগণ নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। জুলাইয়ের শহীদরা জীবন দিয়ে মৃত্যুকে জয় করেছেন। ছাত্র-শিক্ষক, শ্রমিক-জনতা সবাই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসন থেকে মুক্তি চেয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান সার্বজনীন আন্দোলনে রূপ নেওয়ার কারণেই ফ্যাসিস্ট বিদায় নিতে বাধ্য হয়। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমাদের কাজ করতে হবে। তবেই জুলাইয়ের অর্জন সার্থক হবে।”

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার এবং আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন এবং ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল। স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রায়হানা আক্তার, কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি হারুনুর রশিদ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিজয় র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জুলাই স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে উপাচার্য নির্মাণাধীন প্রস্তাবিত ‘জুলাই সোপান’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে জাককানইবিতে আলোচনা সভা ও দোয়া

প্রকাশের সময় : ০৬:৫০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’। এ উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।

আলোচনা সভার শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মোৎসর্গকারীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন উপাচার্য। একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলনে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসকে ‘গণতন্ত্র পুনরুত্থান দিবস’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

উপাচার্য বলেন, “জুলাই একদিকে আনন্দঘন এবং অন্যদিকে বেদনাবিধুর দিন। জুলাই মানে সন্তানহারা মা-বাবার বুকফাটা কান্না; জুলাই মানে ভাইহারা বোন আর বোনহারা ভাইয়ের কান্না। পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস হলো নিজের জীবন। সময়ের প্রয়োজনে দেশের জন্য এ দেশের জনগণ নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। জুলাইয়ের শহীদরা জীবন দিয়ে মৃত্যুকে জয় করেছেন। ছাত্র-শিক্ষক, শ্রমিক-জনতা সবাই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসন থেকে মুক্তি চেয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান সার্বজনীন আন্দোলনে রূপ নেওয়ার কারণেই ফ্যাসিস্ট বিদায় নিতে বাধ্য হয়। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমাদের কাজ করতে হবে। তবেই জুলাইয়ের অর্জন সার্থক হবে।”

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার এবং আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন এবং ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল। স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রায়হানা আক্তার, কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি হারুনুর রশিদ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিজয় র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জুলাই স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে উপাচার্য নির্মাণাধীন প্রস্তাবিত ‘জুলাই সোপান’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।