Dhaka ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
আইন অনুষদের ডিন পদে সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক, প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিংয়ে দেশসেরা জাবি রাজবাড়ীতে সরকারি কর্মচারী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী নওগাঁয় ছিনতাই করতে এসে নারায়ণগঞ্জের তিন ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার কালুখালীর মদাপুরে আইডিয়াল ফাউন্ডেশনের ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন এমপি গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর, প্রথম স্ত্রীর জামিন বেনাপোলে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব প্রায় ৫০৭ কোটি টাকার ভুয়া বিল, মাগুরা পল্লী বিদ্যুতের জিএম বরখাস্ত

আইন অনুষদের ডিন পদে সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক, প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৭:০০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 6

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) আইন অনুষদের ডিন হিসেবে সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমীকে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছেন আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ক্লাস বর্জন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও বিধি উপেক্ষা করে অন্য বিভাগের একজন শিক্ষককে আইন অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা আইন ও বিচার বিভাগ থেকে ডিন নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে আইন ও বিচার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইরফান আজিজ আইন অনুষদের ডিনের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে বর্তমানে ওই দায়িত্ব পেয়েছেন সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী। এ নিয়েই শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬-এর ২২(৫) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অনুষদের বিভাগগুলোর অধ্যাপকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ডিন নিয়োগের বিধান রয়েছে। কোনো বিভাগে অধ্যাপক না থাকলে জ্যেষ্ঠতম সহযোগী অধ্যাপককে ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ বিধান থাকা সত্ত্বেও অন্য অনুষদের শিক্ষককে আইন অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা বিধিসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

আইন ও বিচার বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. তানভীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী এক অনুষদের শিক্ষক অন্য অনুষদের ডিন হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। অথচ সেই বিধি উপেক্ষা করেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অবিলম্বে আইন ও বিচার বিভাগ থেকে ডিন নিয়োগের দাবি জানান।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আতিক বলেন, প্রশাসনিক নিয়োগ অবশ্যই প্রচলিত আইন ও বিধি মেনে হওয়া উচিত। তাদের অনুষদে সহযোগী অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও অন্য বিভাগের শিক্ষককে ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের একমাত্র দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ডিন নিয়োগ করা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক এবং অধ্যাপক না থাকলে সহযোগী অধ্যাপক ডিন হওয়ার কথা। তবে আইন বিভাগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আপত্তি থাকায় সমালোচনা এড়াতে সাময়িকভাবে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, আইন ও বিচার বিভাগ আগে কলা অনুষদের অধীনে থাকায় ডিন পদটি নির্দিষ্ট কোনো বিভাগের শিক্ষকের জন্য নির্ধারিত থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। প্রয়োজন হলে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি নবনিযুক্ত ডিনকে শিক্ষার্থীবান্ধব ও সজ্জন ব্যক্তি বলেও উল্লেখ করেন।

তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নবনিযুক্ত ডিনের নিয়োগ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী আইন ও বিচার বিভাগ থেকে নতুন ডিন নিয়োগের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আইন অনুষদের ডিন পদে সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক, প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

প্রকাশের সময় : ০৭:০০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) আইন অনুষদের ডিন হিসেবে সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমীকে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছেন আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ক্লাস বর্জন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও বিধি উপেক্ষা করে অন্য বিভাগের একজন শিক্ষককে আইন অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা আইন ও বিচার বিভাগ থেকে ডিন নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে আইন ও বিচার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইরফান আজিজ আইন অনুষদের ডিনের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে বর্তমানে ওই দায়িত্ব পেয়েছেন সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী। এ নিয়েই শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬-এর ২২(৫) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অনুষদের বিভাগগুলোর অধ্যাপকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ডিন নিয়োগের বিধান রয়েছে। কোনো বিভাগে অধ্যাপক না থাকলে জ্যেষ্ঠতম সহযোগী অধ্যাপককে ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ বিধান থাকা সত্ত্বেও অন্য অনুষদের শিক্ষককে আইন অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা বিধিসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

আইন ও বিচার বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. তানভীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী এক অনুষদের শিক্ষক অন্য অনুষদের ডিন হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। অথচ সেই বিধি উপেক্ষা করেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অবিলম্বে আইন ও বিচার বিভাগ থেকে ডিন নিয়োগের দাবি জানান।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আতিক বলেন, প্রশাসনিক নিয়োগ অবশ্যই প্রচলিত আইন ও বিধি মেনে হওয়া উচিত। তাদের অনুষদে সহযোগী অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও অন্য বিভাগের শিক্ষককে ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের একমাত্র দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ডিন নিয়োগ করা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক এবং অধ্যাপক না থাকলে সহযোগী অধ্যাপক ডিন হওয়ার কথা। তবে আইন বিভাগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আপত্তি থাকায় সমালোচনা এড়াতে সাময়িকভাবে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, আইন ও বিচার বিভাগ আগে কলা অনুষদের অধীনে থাকায় ডিন পদটি নির্দিষ্ট কোনো বিভাগের শিক্ষকের জন্য নির্ধারিত থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। প্রয়োজন হলে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি নবনিযুক্ত ডিনকে শিক্ষার্থীবান্ধব ও সজ্জন ব্যক্তি বলেও উল্লেখ করেন।

তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নবনিযুক্ত ডিনের নিয়োগ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী আইন ও বিচার বিভাগ থেকে নতুন ডিন নিয়োগের দাবিতে অনড় রয়েছেন।