Dhaka ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি নওগাঁর মান্দায় চোলাই মদ তৈরির উপকরণ ধ্বংস, মাদক আইনে মামলা নওগাঁর নিয়ামতপুরে ২২ লিটার চোলাই মদসহ আটক ৩ সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের গুলশানের ফ্ল্যাটে দুদকের অভিযান, উদ্ধার বিলাসবহুল সামগ্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৫১ সহজ ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস জয়, জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে সিরিজ বাংলাদেশের হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা নওগাঁয় সাংবাদিককে মামলার হুমকির অভিযোগ, পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ যাত্রীবেশী প্রতারকের খপ্পরে অটোভ্যান খোয়ালেন কালুখালীর চালক, থানায় অভিযোগ

ইরান যুদ্ধে ৪৪৬ মার্কিন সেনা হতাহত

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১২:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • / 16

 

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। ইরানও পাল্টা জবাব দিতে থাকে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

যুদ্ধবিরতি ভেঙে পরবর্তীতে ইরানের ওপর এককভাবে হামলা চালাতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। এই যুদ্ধে শুরু থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪৪৬ জন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জন নিহত হয়েছে। সর্বশেষ জর্ডানে দু’জন সেনার প্রাণহানি ঘটেছে। আর আহত হয়েছে ৪৩০ জনের বেশি সেনা।

এছাড়া একজন সেনা রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন হামলা ও দুর্ঘটনায় মার্কিন সেনাদের হতাহতের বিষয়ে পাওয়া তথ্যানুযায়ী ঘটনাগুলো হলো-

যুদ্ধ শুরুর অল্প সময় পর, ১ মার্চ প্রথম প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ওই দিন ইরানের একটি ড্রোন কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে হামলা চালায়। এতে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়।

একই দিনে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের আরেকটি হামলায় গুরুতর আহত হয় আরও এক মার্কিন সেনা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে তিনি মারা যান। এর ফলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।

এরপর ১২ মার্চ ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত একটি কেসি-১৩৫ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হলে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, দুর্ঘটনার আগে আরেকটি বিমানের সঙ্গে একটি অনির্দিষ্ট ঘটনা ঘটেছিল। তবে তদন্তে শত্রুপক্ষের হামলা কিংবা নিজেদের বাহিনীর ভুলবশত গুলিবর্ষণের (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সবশেষ ১ জুলাই, আরব সাগরে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলে মার্কিন নৌবাহিনীর একজন পাইলট নিহত হয়। নৌবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি শত্রুপক্ষের কোনও হামলার কারণে ঘটেছে-এমন কোনও তথ্য বা প্রমাণ তাদের কাছে নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলায় আরও দু’জন সেনা নিহত হওয়ায় ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে যুদ্ধ চলাকালে আহতের সংখ্যা ৪৩০ জন ছাড়িয়েছে। আহতদের অনেকেই ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযানে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া একজন মার্কিন সেনা এখনও নিখোঁজ রয়েছে, যার সন্ধানে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হতাহতের এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও আরও বাড়তে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ইরান যুদ্ধে ৪৪৬ মার্কিন সেনা হতাহত

প্রকাশের সময় : ১২:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

 

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। ইরানও পাল্টা জবাব দিতে থাকে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

যুদ্ধবিরতি ভেঙে পরবর্তীতে ইরানের ওপর এককভাবে হামলা চালাতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। এই যুদ্ধে শুরু থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪৪৬ জন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জন নিহত হয়েছে। সর্বশেষ জর্ডানে দু’জন সেনার প্রাণহানি ঘটেছে। আর আহত হয়েছে ৪৩০ জনের বেশি সেনা।

এছাড়া একজন সেনা রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন হামলা ও দুর্ঘটনায় মার্কিন সেনাদের হতাহতের বিষয়ে পাওয়া তথ্যানুযায়ী ঘটনাগুলো হলো-

যুদ্ধ শুরুর অল্প সময় পর, ১ মার্চ প্রথম প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ওই দিন ইরানের একটি ড্রোন কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে হামলা চালায়। এতে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়।

একই দিনে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের আরেকটি হামলায় গুরুতর আহত হয় আরও এক মার্কিন সেনা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে তিনি মারা যান। এর ফলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।

এরপর ১২ মার্চ ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত একটি কেসি-১৩৫ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হলে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, দুর্ঘটনার আগে আরেকটি বিমানের সঙ্গে একটি অনির্দিষ্ট ঘটনা ঘটেছিল। তবে তদন্তে শত্রুপক্ষের হামলা কিংবা নিজেদের বাহিনীর ভুলবশত গুলিবর্ষণের (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সবশেষ ১ জুলাই, আরব সাগরে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলে মার্কিন নৌবাহিনীর একজন পাইলট নিহত হয়। নৌবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি শত্রুপক্ষের কোনও হামলার কারণে ঘটেছে-এমন কোনও তথ্য বা প্রমাণ তাদের কাছে নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলায় আরও দু’জন সেনা নিহত হওয়ায় ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে যুদ্ধ চলাকালে আহতের সংখ্যা ৪৩০ জন ছাড়িয়েছে। আহতদের অনেকেই ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযানে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া একজন মার্কিন সেনা এখনও নিখোঁজ রয়েছে, যার সন্ধানে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হতাহতের এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও আরও বাড়তে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা