নওগাঁয় সাংবাদিককে মামলার হুমকির অভিযোগ, পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
- প্রকাশের সময় : ০৮:৩৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / 60
নওগাঁ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক গোলাম মো. আজমের বিরুদ্ধে এক সাংবাদিককে মামলার হুমকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে নওগাঁর হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এছাড়া জেলার কয়েকটি ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার, নওগাঁ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শফিক ছোটন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে যান।
অভিযোগে বলা হয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ থাকার কারণ এবং পুনরায় চালুর সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপ-পরিচালক গোলাম মো. আজম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, “ক্যামেরা বের করলে আপনার বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করব।” এছাড়া তার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক ও মারমুখী আচরণের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক আরমান হোসেন রুমন বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ থাকায় সৃষ্ট জনদুর্ভোগ নিয়ে প্রশ্ন করতেই উপ-পরিচালক সাংবাদিক শফিক ছোটনের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। পরে অন্য সাংবাদিকরা সেখানে গেলে তাদের সামনেও মামলার হুমকি দেওয়া হয়।
সাংবাদিক শফিক ছোটন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে উপ-পরিচালক তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং ভিডিও জার্নালিস্টকে গালিগালাজ করেন। পরে সহকর্মীদের উপস্থিতিতেও তাকে মামলার হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নওগাঁ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন, নওগাঁ জেলা শাখা ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে।
নওগাঁ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফরিদুল করিম বলেন, জনগণের স্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার না করা হলে কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক গোলাম মো. আজম বলেন, সংশ্লিষ্ট ভিডিও জার্নালিস্ট অনুমতি ছাড়াই ক্যামেরা বের করেছিলেন। এ কারণে তিনি উচ্চস্বরে কথা বলেছেন, তবে মারমুখী আচরণ করেননি। তিনি আরও বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী ক্যামেরায় বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে।
























