ইরানের বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও সেতুতে মার্কিন হামলা, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ তেহরানের
- প্রকাশের সময় : ১১:১৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
- / 10
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় একটি বিমানবন্দর, একটি রেলস্টেশন এবং দুটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে জানা যায়, হরমোজগান প্রদেশে সেতু লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য এলাকায় হামলায় আরও দুইজন নিহত ও চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেই নতুন দফায় এ হামলা চালানো হয়েছে। টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রসমৃদ্ধ বুশেহর শহরেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
হামলার পর আইআরজিসি দাবি করে, আহভাজ শহরের একটি শিশু ক্যান্সার হাসপাতালের কাছাকাছি মার্কিন হামলার প্রতিবাদে তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় হাসপাতালটি আগেই খালি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
এদিকে ইরানের পাল্টা হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। বাহরাইনেও বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়েছে।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, হরমুজ প্রণালির বিষয়ে তারা কোনো আপস করবে না এবং মার্কিন বাহিনীকে অঞ্চলটি ছেড়ে যেতে হবে। তেহরান আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ রাখা হতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর কঠোর অবরোধ বজায় রেখেছে। ওমান সাগরে একটি জাহাজে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি অবরোধ অমান্য করায় তিনটি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের জন্য ইরানকে জবাবদিহি করতে হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার পথ খোলা রাখলেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না বলেও তিনি জানান।

























