Dhaka ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ঝিনাইদহে নিবন্ধন ছাড়াই চলছে ১৯৮টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মহেশপুরে ড্রেন নির্মাণকাজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু বিয়ের দেনমোহর আদায়ে নীতিমালা প্রণয়নে হাইকোর্টের রুল চট্টগ্রাম ছাড়া অন্য সব বোর্ডে চলবে এইচএসসি পরীক্ষা কালীগঞ্জে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ যে পদ্ধতিতে ঘুম আসবে দুই মিনিটেই! ভুয়া ডিবি পরিচয়ে ডাকাতি, নওগাঁয় ডিবি পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ২ ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসবে: সড়কমন্ত্রী পাংশায় বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ৫ আগস্ট পতন দিবস উপলক্ষে জাবিতে মাসব্যাপী কর্মসূচি

বন্যায় চট্টগ্রামে সাপের উপদ্রব, কামড়ে আহত অন্তত ৭৫ জন

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০১:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • / 12

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি বসতবাড়ি ও আশপাশে বিষধর সাপের উপস্থিতি বাড়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার মধ্যে এখন পর্যন্ত সাপের কামড়ে অন্তত ৭৫ জন আহত হয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা। এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ, মিরসরাই, রাউজান, ফটিকছড়ি ও সীতাকুণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বন্যার কারণে সাপের স্বাভাবিক আবাসস্থল তলিয়ে যাওয়ায় তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর, আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু স্থানে চলে আসছে। এ কারণে মানুষের সঙ্গে সাপের সংস্পর্শ বাড়ছে এবং কামড়ের ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা হয়েছে এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোথাও সংকট দেখা দিলে জেলা পর্যায় থেকে দ্রুত সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা জানান, বন্যা শুরুর পর থেকে তাদের হাসপাতালে সাপের কামড়ে আহত ১২ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ৩০ ডোজ অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।

সম্প্রতি বোয়ালখালীর চরখিজিরপুর এলাকায় বন্যার পানিতে একটি পদ্মগোখরা সাপ একটি বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ে। পরে ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিমের সদস্যরা সাপটি উদ্ধার করে নিরাপদে বনে অবমুক্ত করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও সরীসৃপ বিশেষজ্ঞ ড. মো. ফরিদ আহসান বলেন, বন্যার সময় সাপ শুকনো জায়গার সন্ধানে ঝোপঝাড়, কাঠের স্তূপ, খড়ের গাদা, ধ্বংসস্তূপ ও বসতবাড়িতে আশ্রয় নেয়। তাই সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস বা প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌনম বড়ুয়া সাপে কামড়ালে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্ষতস্থান কেটে রক্ত বের করা, বিষ চুষে নেওয়া, শক্ত করে বেঁধে রাখা বা ওঝা-কবিরাজের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বন্যায় চট্টগ্রামে সাপের উপদ্রব, কামড়ে আহত অন্তত ৭৫ জন

প্রকাশের সময় : ০১:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি বসতবাড়ি ও আশপাশে বিষধর সাপের উপস্থিতি বাড়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার মধ্যে এখন পর্যন্ত সাপের কামড়ে অন্তত ৭৫ জন আহত হয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা। এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ, মিরসরাই, রাউজান, ফটিকছড়ি ও সীতাকুণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বন্যার কারণে সাপের স্বাভাবিক আবাসস্থল তলিয়ে যাওয়ায় তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর, আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু স্থানে চলে আসছে। এ কারণে মানুষের সঙ্গে সাপের সংস্পর্শ বাড়ছে এবং কামড়ের ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা হয়েছে এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোথাও সংকট দেখা দিলে জেলা পর্যায় থেকে দ্রুত সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা জানান, বন্যা শুরুর পর থেকে তাদের হাসপাতালে সাপের কামড়ে আহত ১২ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ৩০ ডোজ অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।

সম্প্রতি বোয়ালখালীর চরখিজিরপুর এলাকায় বন্যার পানিতে একটি পদ্মগোখরা সাপ একটি বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ে। পরে ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিমের সদস্যরা সাপটি উদ্ধার করে নিরাপদে বনে অবমুক্ত করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও সরীসৃপ বিশেষজ্ঞ ড. মো. ফরিদ আহসান বলেন, বন্যার সময় সাপ শুকনো জায়গার সন্ধানে ঝোপঝাড়, কাঠের স্তূপ, খড়ের গাদা, ধ্বংসস্তূপ ও বসতবাড়িতে আশ্রয় নেয়। তাই সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস বা প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌনম বড়ুয়া সাপে কামড়ালে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্ষতস্থান কেটে রক্ত বের করা, বিষ চুষে নেওয়া, শক্ত করে বেঁধে রাখা বা ওঝা-কবিরাজের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।