ঝিনাইদহে নিবন্ধন ছাড়াই চলছে ১৯৮টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার
- প্রকাশের সময় : ১১:৪১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
- / 17
ঝিনাইদহ জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের নিবন্ধন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে ১৯৮টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। স্বাস্থ্য বিভাগের নীতিমালা উপেক্ষা করে বছরের পর বছর এসব প্রতিষ্ঠান চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। এতে রোগীরা প্রতারণার শিকার হওয়ার পাশাপাশি ভুল চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা বাড়ছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ২২৮টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে নিবন্ধিত রয়েছে মাত্র ৩০টি। অর্থাৎ প্রায় ৮৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই নিবন্ধনহীন। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, দক্ষ জনবল ও মানসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার ঘাটতি রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছরে চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগে জেলার ছয়টি উপজেলায় অন্তত ১৯ জন প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এসব ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনিবন্ধিত ক্লিনিকগুলোকে দায়ী করা হয়েছে—এমন তথ্য নিশ্চিত হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত তদারকির অভাবে অনেক ক্লিনিক মালিক ইচ্ছেমতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। এছাড়া সরকারি হাসপাতালের কিছু চিকিৎসকের সঙ্গে বেসরকারি ক্লিনিকের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার কারণে অনেক রোগীকে সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্লিনিক দালালের মাধ্যমে রোগী সংগ্রহ করে এবং রোগী ভর্তির বিপরীতে কমিশন প্রদান করে। এসব প্রতিষ্ঠানে নন-এসি কক্ষের ভাড়া ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং এসি কক্ষের ভাড়া ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুন্সি আবু জাফর বলেন, নতুন সরকার অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে রোগীরা প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তিনি আরও জানান, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবিতে শিগগিরই আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কয়েকটিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জেলার অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দেড় শতাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















