প্রভাতী ট্রেনের দাবিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে যশোর রেলস্টেশনে অবস্থান কর্মসূচি
- প্রকাশের সময় : ০৮:১৬:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
- / 33
মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঢাকাগামী প্রভাতী ট্রেন চালুসহ ছয় দফা দাবিতে যশোর রেলওয়ে জংশনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আন্দোলনকারীরা রেল কর্তৃপক্ষকে এক মাসের সময় বেঁধে দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এর মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে রেল অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ঢাকা-যশোর পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের শুরু থেকেই যশোরবাসী প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত। প্রকল্পের নাম ঢাকা-যশোর হলেও যশোরবাসী পেয়েছে মাত্র একটি আন্তঃনগর ট্রেন, সেটিও যাত্রীদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সময়ে নয়। প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পে দিনে মাত্র একটি ট্রেনের দুই দফা চলাচল রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করছে না বলেও তারা দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, যশোর থেকে ভোরে একটি প্রভাতী ট্রেন চালু হলে যাত্রীরা সকালে ঢাকায় পৌঁছে অফিস, চিকিৎসা কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে একই দিন সন্ধ্যায় ফিরতি ট্রেনে বাড়ি ফিরতে পারবেন। তাই যশোর থেকে ভোরের ট্রেন এবং ঢাকা থেকে সন্ধ্যায় ফিরতি ট্রেন চালুর দাবি দীর্ঘদিনের।
সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী রুহুল আমিন ছয় দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, দেশের গণপরিবহনে রেলকে প্রধান মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে যশোর অঞ্চলের যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় দ্রুত নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় হকি কোচ কাওসার আলী বলেন, ২০২৩ সাল থেকে তারা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে আসছেন। এ সময় রেলমন্ত্রী, রেল সচিব, রেলওয়ের মহাপরিচালক, প্রধান উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মানববন্ধন, বিক্ষোভ, দুই দফা রেল অবরোধ এবং কালো পতাকা প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের পর রেল সচিব ও রেলওয়ের মহাপরিচালক মার্চ-এপ্রিল ২০২৬ সালের মধ্যে আরও একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু জুলাই মাস শুরু হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। জুনের মধ্যে প্রভাতী ট্রেন চালুর আল্টিমেটামও উপেক্ষিত হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে রেল অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক কাওসার আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম উদ্দৌলা, সংগ্রাম কমিটির নেতা জিল্লুর রহমান ভিটুসহ অন্যরা।























