Dhaka ০৭:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান মা হিন্দু, বাবা মুসলিম; কোন ধর্মে বিশ্বাসী জিনাত আমান? ব্যস্ত সড়কে বালি-পাথর ফেলে রাখায় নওগাঁয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা মধুখালীতে ২ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক চার দিনের ভোগান্তির অবসান, আশ্রয় পেল শিশুসন্তানসহ সীমান্তে আটকে থাকা দম্পতি প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে উধাও ‘জিনের বাদশা’! জামায়াত এমপিকে পর্দা ও মাইক্রোওয়েভ ওভেন দিতে চাইলেন পার্থ ‘তোমাকে আদর করে মারতে চাই’, ছাত্রীকে খুবি শিক্ষক ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সুপার এজেন্টের বিরুদ্ধে সাব-এজেন্ট শাখা বন্ধের অভিযোগ ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ দাবি করা জামায়াত এমপির দুঃখ প্রকাশ

সাপাহারে আম বেচাকেনায় ওজন নিয়ে বিতর্ক, চাষি-ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

খোরশেদ আলম, নওগাঁ
  • প্রকাশের সময় : ০৪:১৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / 43

নওগাঁর আমের রাজধানীখ্যাত সাপাহার উপজেলার বিভিন্ন আমের আড়তে ওজন পদ্ধতি নিয়ে চাষি ও ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকারি ওজন পদ্ধতির পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত নিয়মে আম কেনাবেচা হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সরেজমিনে সাপাহারের কয়েকটি আমের আড়ত ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ আড়তেই ৫২ কেজি আমকে এক মণ হিসেবে গণ্য করে কেনাবেচা করা হচ্ছে। চাষি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এতে আম বিক্রির ক্ষেত্রে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে সাপাহার আম আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি কার্তিক সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না বলে জানান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ইমাম হোসেন রিফাতের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

পরে সাধারণ সম্পাদক মো. ইমাম হোসেন রিফাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আম চাষিরা যদি এই নিয়মে আম বিক্রি করে সন্তুষ্ট থাকেন, তাহলে এতে সমস্যা কোথায়? চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকাতেও এ ধরনের পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। আম একটি পচনশীল কৃষিপণ্য। এছাড়া ক্যারেটের ওজনও হিসাবের মধ্যে ধরা হয়।”

তবে আড়তে ব্যবহৃত একটি ক্যারেটের ওজন পরিমাপ করে প্রায় ১ দশমিক ২৫ কেজি পাওয়া যায়। সে হিসাবে দুটি ক্যারেটের ওজন প্রায় আড়াই কেজি হলেও এ বিষয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের অমিল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, সমিতির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কথা বলার সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চান না।

এ বিষয়ে জানতে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা রিয়াজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হলেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর মেলেনি।

এদিকে পার্শ্ববর্তী পোরসা উপজেলার নোচনাহার আম মোকামে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে ৪০ কেজিকে এক মণ হিসেবে ধরে আম কেনাবেচা করা হচ্ছে।

নোচনাহার আম আড়ৎদার সমিতির সভাপতি মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “আমরা সরকারি নিয়মের বাইরে কোনো কাজ করি না। ৪০ কেজিতেই আম কেনাবেচা হয়।”

ঢাকার বাদামতলী থেকে আসা কয়েকজন পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ী জানান, নোচনাহারে ৪০ কেজিতে ক্রয়-বিক্রয় হওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়েই সুবিধা পান। ফলে অনেক ব্যবসায়ী সাপাহারের পরিবর্তে নোচনাহার মোকামে আম কিনতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, আমের বেচাকেনায় একটি অভিন্ন ও স্বচ্ছ ওজন পদ্ধতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সাপাহারে আম বেচাকেনায় ওজন নিয়ে বিতর্ক, চাষি-ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

প্রকাশের সময় : ০৪:১৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

নওগাঁর আমের রাজধানীখ্যাত সাপাহার উপজেলার বিভিন্ন আমের আড়তে ওজন পদ্ধতি নিয়ে চাষি ও ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকারি ওজন পদ্ধতির পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত নিয়মে আম কেনাবেচা হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সরেজমিনে সাপাহারের কয়েকটি আমের আড়ত ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ আড়তেই ৫২ কেজি আমকে এক মণ হিসেবে গণ্য করে কেনাবেচা করা হচ্ছে। চাষি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এতে আম বিক্রির ক্ষেত্রে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে সাপাহার আম আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি কার্তিক সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না বলে জানান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ইমাম হোসেন রিফাতের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

পরে সাধারণ সম্পাদক মো. ইমাম হোসেন রিফাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আম চাষিরা যদি এই নিয়মে আম বিক্রি করে সন্তুষ্ট থাকেন, তাহলে এতে সমস্যা কোথায়? চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকাতেও এ ধরনের পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। আম একটি পচনশীল কৃষিপণ্য। এছাড়া ক্যারেটের ওজনও হিসাবের মধ্যে ধরা হয়।”

তবে আড়তে ব্যবহৃত একটি ক্যারেটের ওজন পরিমাপ করে প্রায় ১ দশমিক ২৫ কেজি পাওয়া যায়। সে হিসাবে দুটি ক্যারেটের ওজন প্রায় আড়াই কেজি হলেও এ বিষয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের অমিল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, সমিতির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কথা বলার সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চান না।

এ বিষয়ে জানতে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা রিয়াজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হলেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর মেলেনি।

এদিকে পার্শ্ববর্তী পোরসা উপজেলার নোচনাহার আম মোকামে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে ৪০ কেজিকে এক মণ হিসেবে ধরে আম কেনাবেচা করা হচ্ছে।

নোচনাহার আম আড়ৎদার সমিতির সভাপতি মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “আমরা সরকারি নিয়মের বাইরে কোনো কাজ করি না। ৪০ কেজিতেই আম কেনাবেচা হয়।”

ঢাকার বাদামতলী থেকে আসা কয়েকজন পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ী জানান, নোচনাহারে ৪০ কেজিতে ক্রয়-বিক্রয় হওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়েই সুবিধা পান। ফলে অনেক ব্যবসায়ী সাপাহারের পরিবর্তে নোচনাহার মোকামে আম কিনতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, আমের বেচাকেনায় একটি অভিন্ন ও স্বচ্ছ ওজন পদ্ধতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।