Dhaka ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সব নাগরিককে এক ডিজিটাল আইডির আওতায় আনতে চায় সরকার : রেহান আসিফ ৯ বছর পর মুক্তি মিলছে গাজীপুর সাফারি পার্কের দুই লেপার্ডের ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত : রাষ্ট্রপতি কানাডার উৎসবে সেরা অভিনেত্রী তুষি, ‘রইদ’ পেল তিন পুরস্কার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুণী শিক্ষক হিসেবে সংবর্ধনা পাচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবার আহাজারি, ‘আমার বাচ্চা ফেরত দেন, আর কিছু চাই না’ এলপিজির দাম বাড়ল সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা!

আবদ্ধ পানিতে ইলিশ চাষ, আশার কথা শোনালেন পশ্চিমবঙ্গের বিজ্ঞানীরা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৯:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 74

বাঙালির প্রিয় মাছ ইলিশ। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় প্রতিবছরই বাজারে ইলিশের দাম থাকে চড়া। এবার সেই সংকট কাটানোর আশার কথা শোনালেন পশ্চিমবঙ্গের বিজ্ঞানীরা। নদী বা সাগরের পরিবর্তে পুকুরসহ আবদ্ধ জলাশয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ইলিশের চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের (সিফ্রি) বিজ্ঞানীরা।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুরে অবস্থিত সিফ্রির রহড়া কেন্দ্রে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এ গবেষণা চলছে। পাশাপাশি কোলাঘাট ও কাকদ্বীপেও গবেষণার কাজ চলছে। গবেষকদের দাবি, নির্দিষ্ট পরিবেশ ও পানির গুণগত মান বজায় রেখে আবদ্ধ জলাশয়েও ইলিশের স্বাভাবিক বৃদ্ধি সম্ভব।

গবেষণায় ইলিশের স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি বিশেষভাবে তৈরি ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন, জুপ্ল্যাঙ্কটন ও পুষ্টিকর ফিড ব্যবহার করা হয়েছে। এতে মাছের দ্রুত বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়। গবেষণায় আবদ্ধ জলাশয়ে সর্বোচ্চ ৯৯২ গ্রাম ওজনের ইলিশ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

সিফ্রির প্রধান বৈজ্ঞানিক শ্রীকান্ত সামন্ত বলেন, ‘ইলিশের বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই ধীরগতির। প্রথম বছরে মাছের ওজন প্রায় ১৫০ গ্রাম এবং দ্বিতীয় বছরে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামে পৌঁছায়। সাধারণত বাজারে যে ইলিশ পাওয়া যায়, তার বয়স তিন থেকে সাড়ে তিন বছর। এবারের গবেষণায় আবদ্ধ জলাশয়ে সর্বোচ্চ ৯৯২ গ্রাম ওজনের ইলিশ উৎপাদন হয়েছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’

গবেষকদের মতে, ইলিশের শরীরে পটকা না থাকায় মাছটির অক্সিজেনের চাহিদা বেশি। তাই এক জলাশয় থেকে অন্য জলাশয়ে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছে। তবে পানির গুণগত মান ঠিক রাখা এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা গেলে আবদ্ধ জলাশয়েও ইলিশের বৃদ্ধি সম্ভব।

ব্যারাকপুর কেন্দ্রের কর্মকর্তা ড. প্রদীপ দে বলেন, ‘গবেষণার ফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আগামী দিনে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পুকুরেও ব্যাপক হারে ইলিশ চাষ সম্ভব হবে। এতে মৎস্যচাষীরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ইলিশের জোগান বাড়বে। ফলে সাধারণ মানুষের কাছেও প্রিয় এই মাছ আরও সহজলভ্য হয়ে উঠবে।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আবদ্ধ পানিতে ইলিশ চাষ, আশার কথা শোনালেন পশ্চিমবঙ্গের বিজ্ঞানীরা

প্রকাশের সময় : ০৯:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

বাঙালির প্রিয় মাছ ইলিশ। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় প্রতিবছরই বাজারে ইলিশের দাম থাকে চড়া। এবার সেই সংকট কাটানোর আশার কথা শোনালেন পশ্চিমবঙ্গের বিজ্ঞানীরা। নদী বা সাগরের পরিবর্তে পুকুরসহ আবদ্ধ জলাশয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ইলিশের চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের (সিফ্রি) বিজ্ঞানীরা।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুরে অবস্থিত সিফ্রির রহড়া কেন্দ্রে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এ গবেষণা চলছে। পাশাপাশি কোলাঘাট ও কাকদ্বীপেও গবেষণার কাজ চলছে। গবেষকদের দাবি, নির্দিষ্ট পরিবেশ ও পানির গুণগত মান বজায় রেখে আবদ্ধ জলাশয়েও ইলিশের স্বাভাবিক বৃদ্ধি সম্ভব।

গবেষণায় ইলিশের স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি বিশেষভাবে তৈরি ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন, জুপ্ল্যাঙ্কটন ও পুষ্টিকর ফিড ব্যবহার করা হয়েছে। এতে মাছের দ্রুত বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়। গবেষণায় আবদ্ধ জলাশয়ে সর্বোচ্চ ৯৯২ গ্রাম ওজনের ইলিশ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

সিফ্রির প্রধান বৈজ্ঞানিক শ্রীকান্ত সামন্ত বলেন, ‘ইলিশের বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই ধীরগতির। প্রথম বছরে মাছের ওজন প্রায় ১৫০ গ্রাম এবং দ্বিতীয় বছরে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামে পৌঁছায়। সাধারণত বাজারে যে ইলিশ পাওয়া যায়, তার বয়স তিন থেকে সাড়ে তিন বছর। এবারের গবেষণায় আবদ্ধ জলাশয়ে সর্বোচ্চ ৯৯২ গ্রাম ওজনের ইলিশ উৎপাদন হয়েছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’

গবেষকদের মতে, ইলিশের শরীরে পটকা না থাকায় মাছটির অক্সিজেনের চাহিদা বেশি। তাই এক জলাশয় থেকে অন্য জলাশয়ে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছে। তবে পানির গুণগত মান ঠিক রাখা এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা গেলে আবদ্ধ জলাশয়েও ইলিশের বৃদ্ধি সম্ভব।

ব্যারাকপুর কেন্দ্রের কর্মকর্তা ড. প্রদীপ দে বলেন, ‘গবেষণার ফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আগামী দিনে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পুকুরেও ব্যাপক হারে ইলিশ চাষ সম্ভব হবে। এতে মৎস্যচাষীরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ইলিশের জোগান বাড়বে। ফলে সাধারণ মানুষের কাছেও প্রিয় এই মাছ আরও সহজলভ্য হয়ে উঠবে।’