নওগাঁর পত্নীতলায় ১৪ বিজিবির উদ্যোগে ফ্রিল্যান্সিং ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সনদ বিতরণ
- প্রকাশের সময় : ০৫:২০:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
- / 13
নওগাঁর পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) এর উদ্যোগে পরিচালিত সীমান্ত ফ্রিল্যান্সিং ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ এবং যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, পিএসসি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ও উপমহাপরিচালক কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন, পিএসসি, রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম-বার, পিএইচডি, রাজশাহী বিভাগের আনসার ও ভিডিপির উপমহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, পিএইচডি, জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মো. আল মামুন মিয়া এবং পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম।
বক্তারা বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি মানবিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষিত বেকার যুবকদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিজিবি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতায় করিয়া বিওপি এবং ভূটিয়াপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় “সীমান্ত ফ্রিল্যান্সিং অ্যান্ড কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার” নামে দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, করিয়া বিওপি সংলগ্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে যাত্রা শুরু করে। এ পর্যন্ত তিনটি ব্যাচ সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। এসব ব্যাচে মোট ৩৬ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে চতুর্থ ব্যাচে ১০ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণরত রয়েছেন।
অন্যদিকে ভূটিয়াপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ধলাহার ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত সীমান্ত ফ্রিল্যান্সিং ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি ১৮ আগস্ট ২০২৪ থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ইতোমধ্যে চারটি ব্যাচের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব ব্যাচে মোট ৬৯ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে পঞ্চম ব্যাচে ছয়জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণরত রয়েছেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো সীমান্ত এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবসমাজকে তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা, যাতে তারা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম হয়।
তারা জানান, প্রশিক্ষণের ফলে সীমান্ত এলাকার যুবসমাজ প্রযুক্তিনির্ভর কর্মমুখী শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে, আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি যুবকদের মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সীমান্ত এলাকায় জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নধর্মী কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিজিবি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে। ভবিষ্যতেও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




















