বাবার মৃত্যুর পর ঢোল-বাঁশি বাজিয়ে উল্লাস!
- প্রকাশের সময় : ০১:২৩:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
- / 29
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকায় বাবার মৃত্যুর পর শোক প্রকাশের পরিবর্তে ঢোল-বাঁশি বাজিয়ে উল্লাস করার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পরে এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন মৃত ব্যক্তির ছেলে খাইরুল ইসলাম।
রোববার (৭ জুন) কটিয়াদী পৌর এলাকার বাসিন্দা শামসুদ্দিন মারা যান। পরিবারের সদস্যরা তার দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তার ছোট ছেলে, পেশায় কাঠমিস্ত্রি খাইরুল ইসলাম, বাবার মরদেহ গোসলের আগে বাড়িতে ঢোল-বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ-উৎসবের মতো পরিবেশ সৃষ্টি করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশী ও উৎসুক জনতা ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। অনেকেই এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের একাংশ এটিকে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেন। পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মরদেহের জানাজায় অংশগ্রহণ নিয়েও অনীহা দেখা দেয় এলাকাবাসীর মধ্যে।
পরে স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাদের হস্তক্ষেপে খাইরুল ইসলাম প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করে সবার কাছে ক্ষমা চান। এরপর আলেমদের সহযোগিতায় মরদেহের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় ইমাম মাওলানা তফাজ্জল হক রাশেদীন বলেন, মৃত্যু মানুষের জীবনের চূড়ান্ত সত্য। ইসলাম মৃত্যুর সময় ধৈর্য ধারণ, দোয়া করা এবং মরহুমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার শিক্ষা দেয়। এ ধরনের ঘটনায় মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। তাই ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি সচেতন থাকা প্রয়োজন।
তবে খাইরুল ইসলামের দাবি, তার কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি বলেন, তার বাবা জীবদ্দশায় বলে গিয়েছিলেন যেন মৃত্যুর পর অতিরিক্ত শোক না করা হয় এবং তাকে আনন্দের সঙ্গে বিদায় দেওয়া হয়। তিনি বাবার সেই ইচ্ছা পূরণের চেষ্টা করেছিলেন। তবে এতে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।























