পুশ-ইন প্রতিরোধে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতায় ১৪ বিজিবি
- প্রকাশের সময় : ০৬:২১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
- / 41
সীমান্ত পথে বাংলাদেশে পুশ-ইনের সম্ভাব্য অপচেষ্টা প্রতিরোধে নওগাঁর পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দিন-রাত নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
১৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন পিএসসি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী দেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে বিভিন্ন ব্যক্তিকে সীমান্ত পথে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি বলেন, সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন টহল কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্ত এলাকায় রাতের টহলে বাঁশি, টর্চলাইট, নাইট ভিশন গগলস ও বাইনোকুলারের মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে সম্ভাব্য পুশ-ইন এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সীমান্ত অতিক্রম না করার জন্যও সতর্ক করা হচ্ছে।
এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আনসার-ভিডিপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইনের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন, পুশ-ইন, মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত হত্যা প্রতিরোধ এবং সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিপক্ষ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডারদের সঙ্গে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সমন্বয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পুশ-ইন সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রচলিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় যথাযথ প্রতিবাদ জানানো হবে।
সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো অপরিচিত ব্যক্তির চলাচল, সন্দেহজনক কার্যক্রম কিংবা পুশ-ইনের সম্ভাব্য তথ্য নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প অথবা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জনগণের জানমাল রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বদা সতর্ক, সজাগ ও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, পুশ-ইন ও সার্বভৌমত্ববিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।






















