Dhaka ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
লাগেজ হারিয়েছে সৌদিতে, দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোটচাঁদপুরে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু বারোমাসি বিলে উদ্ধার অজ্ঞাত লাশের রহস্য উদ্ঘাটন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই হত্যাকারী গ্রেপ্তার বাজেটের আকার বড় হলেও এটি বাস্তবায়ন অসম্ভব নয় : এফবিসিসিআই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাদের পুনর্বাসন করবে সরকার: ডা. জাহিদ প্রকাশ্যে উপজেলা যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, এলাকায় উত্তেজনা মরক্কো ম্যাচে খেলবেন না নেইমার কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ, রিকশাচালককে গণপিটুনি দিল জনতা জনগণের মতামতেই নির্ধারিত হয় বাংলাদেশের গতিপ্রবাহ: তথ্যমন্ত্রী পোরশায় গাঁজা ও গাঁজা গাছসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

কালুখালীতে ‘ধলতা’ বিরোধে পেঁয়াজ বেচাকেনা বন্ধ, বিপাকে কৃষক

আশিক হাসান, কালুখালী:
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৩১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / 94

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন হাটে ‘ধলতা’ বা অতিরিক্ত ওজনে পেঁয়াজ কেনাবেচা বন্ধে প্রশাসনের নির্দেশনার প্রতিবাদে আড়তদার ও ব্যাপারীরা পেঁয়াজ কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন শতাধিক প্রান্তিক কৃষক।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে এসে আড়ত বন্ধ দেখতে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কৃষকরা। অনেকেই দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর পণ্য বিক্রি করতে না পেরে বাড়ি ফিরে যান।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় হাটগুলোতে ১ মণ পেঁয়াজ বিক্রির সময় ৪০ কেজির পরিবর্তে ৪৪ থেকে ৪৫ কেজি পেঁয়াজ দিতে বাধ্য করা হতো কৃষকদের, যা ‘ধলতা’ বা ‘দোলন’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি প্রশাসন এ প্রথা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিলে ব্যবসায়ীরা সমন্বিতভাবে আড়ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

মঙ্গলবার সকালে বালিয়াকান্দির বহরপুর বাজার ও কালুখালীর সোনাপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজের আড়তগুলো তালাবদ্ধ রয়েছে। হাটে আসা কৃষক আব্দুল হান্নান শেখ, আব্দুল আজিজ মোল্লা ও মাজেদ মোল্লা অভিযোগ করেন, ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। প্রশাসন ৪০ কেজিতে মণ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত দেওয়ার পরই তারা পেঁয়াজ কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন।

এর আগে সোমবার (৪ মে) বালিয়াকান্দি উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সভায় কৃষিপণ্যের সঠিক ওজন নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় জানানো হয়, ৪০ কেজির বেশি ওজনে পণ্য গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউএনও চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওজন জালিয়াতি বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা কেন হঠাৎ আড়ত বন্ধ রেখেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুতই তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কালুখালীতে ‘ধলতা’ বিরোধে পেঁয়াজ বেচাকেনা বন্ধ, বিপাকে কৃষক

প্রকাশের সময় : ০৪:৩১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন হাটে ‘ধলতা’ বা অতিরিক্ত ওজনে পেঁয়াজ কেনাবেচা বন্ধে প্রশাসনের নির্দেশনার প্রতিবাদে আড়তদার ও ব্যাপারীরা পেঁয়াজ কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন শতাধিক প্রান্তিক কৃষক।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে এসে আড়ত বন্ধ দেখতে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কৃষকরা। অনেকেই দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর পণ্য বিক্রি করতে না পেরে বাড়ি ফিরে যান।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় হাটগুলোতে ১ মণ পেঁয়াজ বিক্রির সময় ৪০ কেজির পরিবর্তে ৪৪ থেকে ৪৫ কেজি পেঁয়াজ দিতে বাধ্য করা হতো কৃষকদের, যা ‘ধলতা’ বা ‘দোলন’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি প্রশাসন এ প্রথা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিলে ব্যবসায়ীরা সমন্বিতভাবে আড়ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

মঙ্গলবার সকালে বালিয়াকান্দির বহরপুর বাজার ও কালুখালীর সোনাপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজের আড়তগুলো তালাবদ্ধ রয়েছে। হাটে আসা কৃষক আব্দুল হান্নান শেখ, আব্দুল আজিজ মোল্লা ও মাজেদ মোল্লা অভিযোগ করেন, ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। প্রশাসন ৪০ কেজিতে মণ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত দেওয়ার পরই তারা পেঁয়াজ কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন।

এর আগে সোমবার (৪ মে) বালিয়াকান্দি উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সভায় কৃষিপণ্যের সঠিক ওজন নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় জানানো হয়, ৪০ কেজির বেশি ওজনে পণ্য গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউএনও চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওজন জালিয়াতি বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা কেন হঠাৎ আড়ত বন্ধ রেখেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুতই তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে।