Dhaka ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মান্দায় ৪৬০ লিটার চোলাই মদ তৈরির উপকরণসহ নারী আটক জাবিতে সায়েন্স ক্লাবের ‘ফ্রেশার মাইন্ড হান্টার্স ২০২৬’ অনুষ্ঠিত ‘লাশ বিলের পানিতে ভাসিয়ে দেব’—ভূমি কর্মকর্তাকে সেবাগ্রহীতার হুমকি কালুখালীতে নবাগত ইউএনওর সঙ্গে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ইছামতীর পানিতে প্লাবিত বেনাপোলে ১০০ পরিবার পেল বিজিবির ত্রাণ কোস্ট গার্ডের নতুন মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মঈনুল হাসান কারা মহাপরিদর্শক মোতাহের হোসেনকে সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবাসন শার্শায় ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, আটক ১ রাজবাড়ী উদীচীতে কমরেড কমল কৃষ্ণ গুহকে স্মরণ পরিবেশ কর্মসূচির ব্যানারে জাকসুর নাম বাদ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

১২ লাখ টাকায় খুন সালমান শাহ, আসামির জবানবন্দিতে বেরিয়ে এলো রহস্য

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১২:৫৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 118

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহের রহস্যজনক মৃত্যু প্রায় তিন দশক পর নতুন মোড় নিয়েছে। দীর্ঘ সময় পর এ মৃত্যু মামলা এখন হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে। আদালত ইতোমধ্যে সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।

একই সঙ্গে মামলার আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রমনা থানা পুলিশ এবং এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ১৯৯৭ সালে আসামি রেজভী আহমেদ ফরহাদের দেওয়া জবানবন্দি আবারও আলোচনায় এসেছে। সেই জবানবন্দিতে রেজভী দাবি করেন, “আমরাই সালমান শাহকে হত্যা করেছি, আর সেটিকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানো হয়েছে।” তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডে সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি ও পরিবারের আরও কয়েকজন সরাসরি জড়িত ছিলেন।

১২ লাখ টাকার ‘খুনের চুক্তি’

রেজভীর ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, সালমান শাহকে হত্যা করা হয় ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে। এই চুক্তি করেছিলেন নায়কের শাশুড়ি লতিফা হক লুসি। পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন বাংলা সিনেমার খলনায়ক ডন, ডেভিড, ফারুক ও জাভেদ।

রেজভীর বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাতে গুলিস্তানের এক বারে বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ ও রেজভী। পরে সেখানে যোগ দেন ছাত্তার ও সাজু নামের আরও দুই ব্যক্তি।

বৈঠকে ফারুক ২ লাখ টাকা দেখিয়ে বলেন, “এই টাকা দিয়েছে সামিরার মা, পুরো কাজের দাম ১২ লাখ।” এ নিয়ে ডন ও ফারুকের মধ্যে তর্ক বাধে। কিছুক্ষণ পর ফারুক আরও ৪ লাখ টাকা নিয়ে ফিরে আসেন এবং জানান—কাজের আগে ৬ লাখ, কাজ শেষে ৬ লাখ দেওয়া হবে। এরপর তারা হত্যা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে দড়ি, সিরিঞ্জ ও রিভলভারসহ প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করে।

রেজভীর মতে, ৫ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটায় ডন, ডেভিড, ফারুক ও আজিজ মোহাম্মদ ভাই সালমান শাহের বাসায় প্রবেশ করেন। সালমান তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। রেজভীর দাবি, সামিরা নিজ হাতে সালমানের মুখে ক্লোরোফর্ম দেন, ফলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফেরার পর ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় আজিজ ভাই সালমানের শরীরে ইনজেকশন পুশ করার নির্দেশ দেন। এরপর সালমান শাহকে হত্যা করে তার দেহ সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার দৃশ্য সাজানো হয়।

রেজভীর দাবি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় উপস্থিত ছিলেন সামিরা, তার মা লুসি এবং আত্মীয়া রুবি।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে রহস্যজনকভাবে মারা যান সালমান শাহ। এতদিন বিভিন্ন তদন্ত কমিটি ঘটনাটিকে “অপমৃত্যু” বলে উল্লেখ করলেও বাস্তব সত্য আড়ালে রয়ে গেছে বলে অভিযোগ ছিল।

দীর্ঘ ২৯ বছর পর অবশেষে অপমৃত্যু মামলা রূপ নিয়েছে হত্যা মামলায়। নতুন মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

প্রধান আসামি: সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক।

অন্যান্য আসামি: প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়া বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রেজভী আহমেদ ফরহাদ।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

১২ লাখ টাকায় খুন সালমান শাহ, আসামির জবানবন্দিতে বেরিয়ে এলো রহস্য

প্রকাশের সময় : ১২:৫৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহের রহস্যজনক মৃত্যু প্রায় তিন দশক পর নতুন মোড় নিয়েছে। দীর্ঘ সময় পর এ মৃত্যু মামলা এখন হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে। আদালত ইতোমধ্যে সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।

একই সঙ্গে মামলার আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রমনা থানা পুলিশ এবং এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ১৯৯৭ সালে আসামি রেজভী আহমেদ ফরহাদের দেওয়া জবানবন্দি আবারও আলোচনায় এসেছে। সেই জবানবন্দিতে রেজভী দাবি করেন, “আমরাই সালমান শাহকে হত্যা করেছি, আর সেটিকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানো হয়েছে।” তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডে সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি ও পরিবারের আরও কয়েকজন সরাসরি জড়িত ছিলেন।

১২ লাখ টাকার ‘খুনের চুক্তি’

রেজভীর ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, সালমান শাহকে হত্যা করা হয় ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে। এই চুক্তি করেছিলেন নায়কের শাশুড়ি লতিফা হক লুসি। পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন বাংলা সিনেমার খলনায়ক ডন, ডেভিড, ফারুক ও জাভেদ।

রেজভীর বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাতে গুলিস্তানের এক বারে বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ ও রেজভী। পরে সেখানে যোগ দেন ছাত্তার ও সাজু নামের আরও দুই ব্যক্তি।

বৈঠকে ফারুক ২ লাখ টাকা দেখিয়ে বলেন, “এই টাকা দিয়েছে সামিরার মা, পুরো কাজের দাম ১২ লাখ।” এ নিয়ে ডন ও ফারুকের মধ্যে তর্ক বাধে। কিছুক্ষণ পর ফারুক আরও ৪ লাখ টাকা নিয়ে ফিরে আসেন এবং জানান—কাজের আগে ৬ লাখ, কাজ শেষে ৬ লাখ দেওয়া হবে। এরপর তারা হত্যা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে দড়ি, সিরিঞ্জ ও রিভলভারসহ প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করে।

রেজভীর মতে, ৫ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটায় ডন, ডেভিড, ফারুক ও আজিজ মোহাম্মদ ভাই সালমান শাহের বাসায় প্রবেশ করেন। সালমান তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। রেজভীর দাবি, সামিরা নিজ হাতে সালমানের মুখে ক্লোরোফর্ম দেন, ফলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফেরার পর ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় আজিজ ভাই সালমানের শরীরে ইনজেকশন পুশ করার নির্দেশ দেন। এরপর সালমান শাহকে হত্যা করে তার দেহ সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার দৃশ্য সাজানো হয়।

রেজভীর দাবি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় উপস্থিত ছিলেন সামিরা, তার মা লুসি এবং আত্মীয়া রুবি।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে রহস্যজনকভাবে মারা যান সালমান শাহ। এতদিন বিভিন্ন তদন্ত কমিটি ঘটনাটিকে “অপমৃত্যু” বলে উল্লেখ করলেও বাস্তব সত্য আড়ালে রয়ে গেছে বলে অভিযোগ ছিল।

দীর্ঘ ২৯ বছর পর অবশেষে অপমৃত্যু মামলা রূপ নিয়েছে হত্যা মামলায়। নতুন মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

প্রধান আসামি: সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক।

অন্যান্য আসামি: প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়া বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রেজভী আহমেদ ফরহাদ।