‘খদরে’ খাসি কাণ্ডে নতুন মোড়, সেই জামাইয়ের ফর্দনামা প্রকাশ
- প্রকাশের সময় : ০৪:২৯:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 6
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানের খদরে খাসি না থাকাকে কেন্দ্র করে বিয়ে না করেই জাপান প্রবাসী বর চলে যাওয়ার ঘটনায় নতুন মোড় সামনে এসেছে। ঘটনার পর দুই পক্ষের সম্মতিতে করা একটি ফর্দনামা প্রকাশ্যে এসেছে। এতে ২ লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ে করার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে বরের পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে তার চাচাতো ভাই মনির হোসেনের স্বাক্ষরও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত ১৪ আগস্ট ছেলে ও মেয়ে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে ওই ফর্দনামা করা হয়। সেখানে বিয়ের কাবিনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই পক্ষের সম্মতির কথা লিখিতভাবে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) আখাউড়ার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর ফুল দিয়ে বরকে বরণ করা হয়। এরপর গেট ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হয়। আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বরপক্ষের জন্য খদরের খাবার পরিবেশন করা হলে সেখানে খাসি না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি জানান। খাসি ছাড়া তিনি খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান।
এ সময় কনেপক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত অনেকে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই কনের বাড়ি থেকে একা ফিরে যান তিনি।
এদিকে ঘটনার পর নিজের ফেসবুক পোস্টে জুনায়েদ দাবি করেন, বিয়ের আসরে খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি করে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে এতে রাজি না হওয়ায় কথা-কাটাকাটি হয় এবং তাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে কনের জন্য আনা মালামালও ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া কনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় রাতে কনেপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন জুনায়েদ। তার আরও দাবি, টাকা দিয়ে সাংবাদিক ভাড়া করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে কনেপক্ষ। তাদের দাবি, ১৪ আগস্ট উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে ২ লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ের বিষয়ে লিখিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই ফর্দনামায় বরের পক্ষের প্রতিনিধি মনির হোসেন স্বাক্ষরও করেছেন। ফলে পরবর্তীতে কনেপক্ষের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা।
কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, খদরে খাসির বিষয়টি আমাকে আগে জানানো হলে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কোনো বাবা-মাই চান না মেয়ের বিয়েতে এমন ঘটনা ঘটুক। খাসির বিষয়টি সামনে আসার পর তাকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি।




















