Dhaka ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মধুখালীতে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবিতে মহিলা পরিষদের মানববন্ধন ‘খদরে’ খাসি কাণ্ডে নতুন মোড়, সেই জামাইয়ের ফর্দনামা প্রকাশ ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে নিজস্ব অর্থায়নে যেতে হবে : অর্থমন্ত্রী ওসি-কমিশনারের কথা শোনার টাইম নাই বলা সেই এসআইকে প্রত্যাহার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকার নতুন ঘর দিচ্ছে: ত্রাণমন্ত্রী গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৩ কালুখালীতে ৩৭ খামারির মাঝে ১১১ ভেড়া বিতরণ সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে তলিয়ে যায় রাজবাড়ীর বড় বাজার পাংশায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে চালক নিহত ঢাকায় ২০০ ইভি বাস কিনছে সরকার, নারীদের জন্য ১০০টি : সড়কমন্ত্রী

ওসি-কমিশনারের কথা শোনার টাইম নাই বলা সেই এসআইকে প্রত্যাহার

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৫১:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 5

আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে থানায় প্রবেশ না করায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে থানা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এসআই নিহার রঞ্জনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানায় সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এসআইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি থানার ওসি এ কে এম নাজমুল কাদের।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, সোমবার দুপুরে চুরির অভিযোগের বিষয়ে কটকিপাড়া এলাকার সাব্বির হাসানকে থানায় ডেকে আনেন এসআই নিহার রঞ্জন। সাব্বিরের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে গালিগালাজ করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানতে দৈনিক কালবেলার রংপুর ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান রনিসহ কয়েকজন সাংবাদিক থানায় যান। সেখানে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এসআই নিহার রঞ্জন।

এ বিষয়ে দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক রেজওয়ান রনি বলেন, ‘থানায় গেলে এসআই নিহার রঞ্জনকে প্রথমে পরিচয় দেওয়ার পর তিনি বসতে বলেন। কিন্তু অভিযুক্তকে গালাগালি ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করতেই এসআই আমার আইডি কার্ড দেখতে চান। এ সময় তাকে ভিজিটিং কার্ড দিলেও তিনি তা দেখেননি।’

পরে ওসি ‘আমাকে চেনেন’ এবং তার সঙ্গে কথা বলতে বললে এসআই বলেন, ‘ওসি, কমিশনারের কথা শোনার টাইম নাই আমার।’

রনি আরও বলেন, ‘থানায় আসা সাংবাদিকদের সবাইকে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে প্রবেশ করতে হয়- এ কথা জানিয়ে তিনি উচ্চ স্বরে চিৎকার করতে করতে আমাকে থানা থেকে বের করে দেন। থানায় আইডি কার্ড নিয়ে আসতে বলেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে কয়েকজন সাংবাদিক থানায় এলে এসআই নিহার রঞ্জন আবারও চিৎকার করে সবাইকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে থানা থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন।’

এ সময় আরএনবি নিউজের হেড অব ডিজিটাল এ কে এম সুমন মিয়া বলেন, ‘থানায় এসে এসআই নিহার রঞ্জনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি আমার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে জানান, আইডি কার্ড ছাড়া সাংবাদিকরা থানার ভেতরে আসতে পারবেন না। এ সময় তিনি আমার গায়ে ধাক্কা দিয়ে বলেন, ধুর! এখান থেকে যান তো। এ ভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে চরম অশোভন আচরণ এবং সব সাংবাদিকদের থানা থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা পুলিশ কমিশনারকে জানানো হলে তিনি বিষয়টি দেখছেন বলে জানান। পরে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশে এসআই নিহার রঞ্জনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে নেওয়া হয়।’

সার্বিক বিষয়ে মহানগর কোতোয়ালি থানার ওসি এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, ‘সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে এসআই নিহার রঞ্জনকে সিসি দিয়ে কমিশনার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ওসি-কমিশনারের কথা শোনার টাইম নাই বলা সেই এসআইকে প্রত্যাহার

প্রকাশের সময় : ০৩:৫১:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে থানায় প্রবেশ না করায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে থানা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এসআই নিহার রঞ্জনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানায় সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এসআইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি থানার ওসি এ কে এম নাজমুল কাদের।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, সোমবার দুপুরে চুরির অভিযোগের বিষয়ে কটকিপাড়া এলাকার সাব্বির হাসানকে থানায় ডেকে আনেন এসআই নিহার রঞ্জন। সাব্বিরের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে গালিগালাজ করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানতে দৈনিক কালবেলার রংপুর ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান রনিসহ কয়েকজন সাংবাদিক থানায় যান। সেখানে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এসআই নিহার রঞ্জন।

এ বিষয়ে দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক রেজওয়ান রনি বলেন, ‘থানায় গেলে এসআই নিহার রঞ্জনকে প্রথমে পরিচয় দেওয়ার পর তিনি বসতে বলেন। কিন্তু অভিযুক্তকে গালাগালি ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করতেই এসআই আমার আইডি কার্ড দেখতে চান। এ সময় তাকে ভিজিটিং কার্ড দিলেও তিনি তা দেখেননি।’

পরে ওসি ‘আমাকে চেনেন’ এবং তার সঙ্গে কথা বলতে বললে এসআই বলেন, ‘ওসি, কমিশনারের কথা শোনার টাইম নাই আমার।’

রনি আরও বলেন, ‘থানায় আসা সাংবাদিকদের সবাইকে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে প্রবেশ করতে হয়- এ কথা জানিয়ে তিনি উচ্চ স্বরে চিৎকার করতে করতে আমাকে থানা থেকে বের করে দেন। থানায় আইডি কার্ড নিয়ে আসতে বলেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে কয়েকজন সাংবাদিক থানায় এলে এসআই নিহার রঞ্জন আবারও চিৎকার করে সবাইকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে থানা থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন।’

এ সময় আরএনবি নিউজের হেড অব ডিজিটাল এ কে এম সুমন মিয়া বলেন, ‘থানায় এসে এসআই নিহার রঞ্জনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি আমার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে জানান, আইডি কার্ড ছাড়া সাংবাদিকরা থানার ভেতরে আসতে পারবেন না। এ সময় তিনি আমার গায়ে ধাক্কা দিয়ে বলেন, ধুর! এখান থেকে যান তো। এ ভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে চরম অশোভন আচরণ এবং সব সাংবাদিকদের থানা থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা পুলিশ কমিশনারকে জানানো হলে তিনি বিষয়টি দেখছেন বলে জানান। পরে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশে এসআই নিহার রঞ্জনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে নেওয়া হয়।’

সার্বিক বিষয়ে মহানগর কোতোয়ালি থানার ওসি এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, ‘সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে এসআই নিহার রঞ্জনকে সিসি দিয়ে কমিশনার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।’