Dhaka ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মান্দায় ৪৬০ লিটার চোলাই মদ তৈরির উপকরণসহ নারী আটক জাবিতে সায়েন্স ক্লাবের ‘ফ্রেশার মাইন্ড হান্টার্স ২০২৬’ অনুষ্ঠিত ‘লাশ বিলের পানিতে ভাসিয়ে দেব’—ভূমি কর্মকর্তাকে সেবাগ্রহীতার হুমকি কালুখালীতে নবাগত ইউএনওর সঙ্গে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ইছামতীর পানিতে প্লাবিত বেনাপোলে ১০০ পরিবার পেল বিজিবির ত্রাণ কোস্ট গার্ডের নতুন মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মঈনুল হাসান কারা মহাপরিদর্শক মোতাহের হোসেনকে সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবাসন শার্শায় ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, আটক ১ রাজবাড়ী উদীচীতে কমরেড কমল কৃষ্ণ গুহকে স্মরণ পরিবেশ কর্মসূচির ব্যানারে জাকসুর নাম বাদ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

৫০০ ভরি স্বর্ণ চুরির রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৪

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫৩:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / 85

মালিবাগের ফরচুন শপিং মলের শম্পা জুয়েলার্স থেকে প্রায় ৫০০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় রহস্য উন্মোচন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চুরি মামলার তদন্তে জড়িত থাকার অভিযোগে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ১৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

শুক্রবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- শাহিন মাতব্বর ওরফে শাহিন (৪৬), নুরুল ইসলাম (৩৩), উত্তম চন্দ্র সূর (৪৯) এবং অনিতা রায় (৩১)।

অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, গত ৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে মালিবাগের ফরচুন মার্কেটের দোতলায় অবস্থিত শম্পা জুয়েলার্সে চুরির ঘটনা ঘটে। রমনা থানায় মামলা হওয়ার পর ডিবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার ও মাঠ পর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে টানা ৭২ ঘণ্টার অভিযানে বিভিন্ন জেলায় এ চোরচক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি জানান, পরিকল্পিত এই চুরির আগে চক্রটি প্রায় তিন মাস ধরে দোকানটি লক্ষ্য করে পর্যবেক্ষণ চালায়। ঘটনার আগের দিন মার্কেটের বাথরুমের জানালায় সূতো বাঁধা হয়, পরে রাতে সেই সুতোর সাহায্যে রশি লাগিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে গ্রিল কেটে চুরি করা হয়।

ডিবি জানায়, প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে শাহিন মাতব্বরকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার দেখানো মতে ফরিদপুর থেকে স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এরপর বরিশাল থেকে আরও দুজনকে এবং ঢাকায় অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলযোগে রেকি পরিচালনাকারী নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের একজনের স্ত্রীও এই ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন।

চুরি যাওয়া ৫০০ ভরি স্বর্ণের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ১৯০ ভরি। বাকিটা কোথায়- এ প্রশ্নে ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, এখনও চক্রের একজন সদস্য পলাতক আছেন। তাকে গ্রেফতার করতে পারলেই বাকি স্বর্ণ উদ্ধারের সূত্র পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, স্বর্ণ বিক্রির আগেই তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যদিও কিছু অংশ ইতোমধ্যে গলানো হয়।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, চক্রের সদস্যরা মূলত কৃষি কাজ ও গরুর খামারে শ্রমিকের আড়ালে কাজ করলেও সুযোগ পেলেই বড় ধরণের চুরি করত। তারা ২০২১ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী মার্কেটে স্বর্ণ চুরির ঘটনার সাথেও জড়িত ছিল। গ্রেফতার হয়ে জামিনে বেরিয়ে তারা আবার একই ধরনের অপরাধে যুক্ত হয়।

উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বোরকা পরিহিত দুই ব্যক্তি তালা ভেঙে শম্পা জুয়েলার্সে ঢুকে স্বর্ণালংকার চুরি করছে। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

৫০০ ভরি স্বর্ণ চুরির রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৪

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৩:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

মালিবাগের ফরচুন শপিং মলের শম্পা জুয়েলার্স থেকে প্রায় ৫০০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় রহস্য উন্মোচন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চুরি মামলার তদন্তে জড়িত থাকার অভিযোগে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ১৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

শুক্রবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- শাহিন মাতব্বর ওরফে শাহিন (৪৬), নুরুল ইসলাম (৩৩), উত্তম চন্দ্র সূর (৪৯) এবং অনিতা রায় (৩১)।

অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, গত ৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে মালিবাগের ফরচুন মার্কেটের দোতলায় অবস্থিত শম্পা জুয়েলার্সে চুরির ঘটনা ঘটে। রমনা থানায় মামলা হওয়ার পর ডিবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার ও মাঠ পর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে টানা ৭২ ঘণ্টার অভিযানে বিভিন্ন জেলায় এ চোরচক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি জানান, পরিকল্পিত এই চুরির আগে চক্রটি প্রায় তিন মাস ধরে দোকানটি লক্ষ্য করে পর্যবেক্ষণ চালায়। ঘটনার আগের দিন মার্কেটের বাথরুমের জানালায় সূতো বাঁধা হয়, পরে রাতে সেই সুতোর সাহায্যে রশি লাগিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে গ্রিল কেটে চুরি করা হয়।

ডিবি জানায়, প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে শাহিন মাতব্বরকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার দেখানো মতে ফরিদপুর থেকে স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এরপর বরিশাল থেকে আরও দুজনকে এবং ঢাকায় অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলযোগে রেকি পরিচালনাকারী নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের একজনের স্ত্রীও এই ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন।

চুরি যাওয়া ৫০০ ভরি স্বর্ণের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ১৯০ ভরি। বাকিটা কোথায়- এ প্রশ্নে ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, এখনও চক্রের একজন সদস্য পলাতক আছেন। তাকে গ্রেফতার করতে পারলেই বাকি স্বর্ণ উদ্ধারের সূত্র পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, স্বর্ণ বিক্রির আগেই তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যদিও কিছু অংশ ইতোমধ্যে গলানো হয়।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, চক্রের সদস্যরা মূলত কৃষি কাজ ও গরুর খামারে শ্রমিকের আড়ালে কাজ করলেও সুযোগ পেলেই বড় ধরণের চুরি করত। তারা ২০২১ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী মার্কেটে স্বর্ণ চুরির ঘটনার সাথেও জড়িত ছিল। গ্রেফতার হয়ে জামিনে বেরিয়ে তারা আবার একই ধরনের অপরাধে যুক্ত হয়।

উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বোরকা পরিহিত দুই ব্যক্তি তালা ভেঙে শম্পা জুয়েলার্সে ঢুকে স্বর্ণালংকার চুরি করছে। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।