বাগেরহাটে ৪ আসন বহালের দাবিতে হরতাল, জনজীবন স্থবির
- প্রকাশের সময় : ০৩:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 155
বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে চলছে সর্বাত্মক হরতাল। জেলা সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ব্যানারে বিএনপি ও জামায়াত এ কর্মসূচির ডাক দেয়। হরতাল চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
হরতালের কারণে জেলা সদরসহ নয়টি উপজেলায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে মোংলা-খুলনা, মোংলা-ঢাকা, বাগেরহাট-ঢাকা, খুলনা-বাগেরহাট-বরিশাল এবং সাইনবোর্ড-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কে দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা স্থবির হয়ে পড়েছে; পণ্য ওঠানামা ও পরিবহন কার্যক্রমে চরম প্রভাব পড়েছে।
সকালে সরেজমিন দেখা যায়, জেলার প্রধান সড়কের অন্তত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গাছ ফেলে ও বেঞ্চ বসিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়েছে। খেয়া ও ফেরি চলাচলও বন্ধ রয়েছে। শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ সড়কে অবস্থান নিয়ে পিকেটিং করছে। জেলা প্রশাসন এলাকাও হরতালের প্রভাবে অচল হয়ে পড়ে। জেলা কালেক্টরেটের সামনে অবস্থান নেন বিএনপি নেতা এম.এ সালাম, জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট ইউনুছসহ হরতাল আহ্বানকারীরা। এ সময় জেলা প্রশাসককেও গাড়ি রেখে হেঁটে অফিসে যেতে দেখা গেছে।
বেলা ২টার মধ্যে জেলার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দোকানপাট, বাজার, অফিস-আদালতও বন্ধ হয়ে যায়।
হরতালে অংশ নিয়ে বিএনপি নেতা এম.এ সালাম বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকেই বাগেরহাটে ৪টি সংসদীয় আসন ছিল। নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগ ও ভারতের ইশারায় ষড়যন্ত্র করছে। ভারতের নির্দেশেই একটি আসন কমিয়ে তিনটি করা হয়েছে।”
জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের অভিযোগ, “বাগেরহাটের উন্নয়ন ব্যাহত করতেই পরিকল্পিতভাবে একটি আসন কমানো হয়েছে। আমরা তা কোনোভাবেই মেনে নেব না।”
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে নির্বাচন কমিশন ভোটার অনুপাতে আসন পুনর্বিন্যাস করে বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসন বাদ দিয়ে গাজীপুরে নতুন একটি আসন যোগ করে। এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বাগেরহাটে একাধিক বিক্ষোভ, মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অংশ নিলেও দাবি মানা হয়নি। পরবর্তীতে ৪ সেপ্টেম্বর তিন আসনের গেজেট চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করে কমিশন।






















