পাংশায় যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা
- প্রকাশের সময় : ০৮:০০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫
- / 134
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নে যুবদল কর্মী রাশিদুল ইসলামকে (৩৩) কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। নিহত রাশিদুল ইসলাম পাট্টা ইউনিয়নের উত্তর পাট্টা গ্রামের কিয়ামউদ্দিন মন্ডলের ছেলে। পেশায় তিনি একজন কৃষক ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিকভাবে তিনি পাট্টা ইউনিয়ন যুবদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ধান কাটার কাজে এক মাস আগে বরিশাল যান রাশিদুল। সেখান থেকে শুক্রবার রাতে ট্রাকে ধান নিয়ে বাড়ি ফেরেন। শনিবার সকালে ধান ভাগ করার জন্য বাড়ি থেকে বের হলে সকাল ১০টার দিকে নিভা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। তাকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রাশেদুলের স্ত্রী জরিনা বেগম দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে ছিলেন। তার বাড়িতে ভিড় করেছে প্রতিবেশি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জরিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী ধান কেটে একমাস পর বাড়ি ফিরেছিল। সকালে ধান ভাগ করতে যাচ্ছিল, তখনই ওদের হামলা। আওয়ামী লীগের আমলেও আমাদের বাড়িতে হামলা হয়েছিল। এখন আমি দুই সন্তান নিয়ে কী করবো?
নিহতের ঘরের টিনের বেড়ায় কোপানোর চিহ্ন দেখা গেছে। বেড়ার একাংশ কাটা অবস্থায় রয়েছে। পরিবার জানিয়েছে, এক বছর আগেও হামলাকারীরা তাদের বাড়িতে হামলা করে রাশিদুলের বাবা-মাকে মারধর করেছিল।
পাট্টা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জহিরুল আলম মুরাদ বিশ্বাস জানান, স্থানীয় বিএনপির রাজনীতি দুই ভাগে বিভক্ত। সাবেক এমপি নাসিরুল হক সাবু ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদের অনুসারী। রাশিদুল সাবু গ্রæপের কর্মী ছিলেন। তাকে যারা মেরেছে তারা আগেও ওর বাড়িতে হামলা করে। রাশিদ্লুকে না পেয়ে ওর বাবা মাকে পিটিয়ে আহত করে।
রাজবাড়ী জেলা যুবদলের আহŸায়ক খায়রুল আনাম বকুল জানান, রাশেদুল যুবদলের কর্মী কীনা তা তার জানা নেই। ইউনিয়ন পর্যায়ে কোনো কমিটিতে তার নাম থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার জানান, পূর্ব শত্রæতার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। রাশেদুল ব্যক্তিগত কাজে যাওয়ার সময় নিভা নামক স্থানে দুর্বৃত্তরা তার উপর হামলা চালায়। পুলিশের কাছে এমন খবর আসা মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। রাশেদুলকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতের মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত করা হবে। ঘটনার সাথে যারা জড়িত বিভিন্নভাবে তাদের নাম সংগ্রহ করা হচ্ছে। অতি দ্রæত তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে আর কোনো অঘটন না ঘটে সেদিকে পুলিশ সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত।























