Dhaka ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এলাকাবাসী ও চেয়ারম্যানের ভিন্ন বক্তব্য

পাংশায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৭

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 243

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ সাতজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন জলিল মল্লিক, সাগর হাসান, কামেনা খাতুন, আজমল মন্ডল, ইকবাল খান, শাহাদত খান ও মো. রফিক। তাদের সবার বাড়ি একই গ্রামে। আহতদের পাংশা ও খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকাবাসী বলছে, অবৈধভাবে মাটি কাটায় বাধা দেওয়ায় সংঘর্ষ হয়েছে। তবে ইউপি চেয়ারম্যান বলছেন, রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সবুর হোসেন জানান, তাদের এলাকায় একটি খাল খনন করা হয়। চেয়ারম্যানের লোকজন কারো অনুমতি না নিয়ে ওই খালের মাটি অবৈধভাবে বিক্রি করছিল। ওখানে যাদের জমি আছে তারা বাধা দেয়। বিষয়টি প্রশাসনকেও জানানো হয়েছিল। যেকারণে চেয়ারম্যানের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের লোকজনকে বেধরক মারধর করে। ওখানে রাস্তা নির্মাণের কোনো বিষয় নেই। জমির মাঝখান দিয়ে সরকারি রাস্তা রয়েছে।

কসবামাজাইল ইউপি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার মাহমুদ সুফল জানান, ওই এলাকার ক্ষেতের ফসল আনা নেওয়ার জন্য কোনো রাস্তা নেই। ওই ক্ষেতে যারা চাষাবাদ করেন তাদের কুষ্টিয়ার বিহারার মাঠ দিয়ে ঘুরে ফসল আনা নেওয়া করতে হয়। এটা নিয়ে ওই এলাকার মানুষের সাথে মাঝে মধ্যে ঝামেলা হয়। এজন্য একটি রাস্তা খুবই প্রয়োজন। এলাকার মানুষেরও দাবি একটি রাস্তার। কিন্তু রাস্তার জন্য পর্যাপ্ত জমি প্রয়োজন। এখানে বিএডিসির একটি খাল রয়েছে। তিন বছর আগে খালটি সংস্কার করা হয়। সংস্কারের মাটি পাড়েই রাখা ছিল। বিএডিসির একটি নিয়ম আছে যে, তিন বছরের মধ্যে কেউ মাটি সরাতে পারবে না। মাটিগুলোর কারণে অনেকের জমি বøক হয়েছিল। এটার পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের দাবিতে সবার মতামত নিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। কিন্তু গ্রামে দলাদলি থাকে। এক সামাজিকতার মানুষের জমি কেটে রাস্তা করার পর আরেক সামাজিকতার জমির উপর গেছে তখন ঝামেলা হয়। তবে,  মাটি কাটা বা মাটি বিক্রির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার জানান, ওখানে দুটি পক্ষ রয়েছে। চেয়ারম্যানের পক্ষের লোকজন খালের পাড় সংস্কার করছিল। যাতে করে মানুষ যাতায়াত করতে পারে। এটাকে কেন্দ্র করে যাদের জমির উপর দিয়ে রাস্তা যাচ্ছে কী যাচ্ছে না বা তাদের যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়নি এমন বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি নিজেও সেখানে গিয়েছেন। তাদের বলা হয়েছে, বসে যেন বিষয়টি মীমাংসা করে নেয়। এ ঘটনায় কেউ যদি অভিযোগ দেয় তাহলে যাচাই বাছাই করে যদি দেখা যায় মামলা হওয়ার মত গ্রাউন্ড আছে তাহলে অবশ্যই মামলা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

এলাকাবাসী ও চেয়ারম্যানের ভিন্ন বক্তব্য

পাংশায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৭

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ সাতজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন জলিল মল্লিক, সাগর হাসান, কামেনা খাতুন, আজমল মন্ডল, ইকবাল খান, শাহাদত খান ও মো. রফিক। তাদের সবার বাড়ি একই গ্রামে। আহতদের পাংশা ও খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকাবাসী বলছে, অবৈধভাবে মাটি কাটায় বাধা দেওয়ায় সংঘর্ষ হয়েছে। তবে ইউপি চেয়ারম্যান বলছেন, রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সবুর হোসেন জানান, তাদের এলাকায় একটি খাল খনন করা হয়। চেয়ারম্যানের লোকজন কারো অনুমতি না নিয়ে ওই খালের মাটি অবৈধভাবে বিক্রি করছিল। ওখানে যাদের জমি আছে তারা বাধা দেয়। বিষয়টি প্রশাসনকেও জানানো হয়েছিল। যেকারণে চেয়ারম্যানের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের লোকজনকে বেধরক মারধর করে। ওখানে রাস্তা নির্মাণের কোনো বিষয় নেই। জমির মাঝখান দিয়ে সরকারি রাস্তা রয়েছে।

কসবামাজাইল ইউপি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার মাহমুদ সুফল জানান, ওই এলাকার ক্ষেতের ফসল আনা নেওয়ার জন্য কোনো রাস্তা নেই। ওই ক্ষেতে যারা চাষাবাদ করেন তাদের কুষ্টিয়ার বিহারার মাঠ দিয়ে ঘুরে ফসল আনা নেওয়া করতে হয়। এটা নিয়ে ওই এলাকার মানুষের সাথে মাঝে মধ্যে ঝামেলা হয়। এজন্য একটি রাস্তা খুবই প্রয়োজন। এলাকার মানুষেরও দাবি একটি রাস্তার। কিন্তু রাস্তার জন্য পর্যাপ্ত জমি প্রয়োজন। এখানে বিএডিসির একটি খাল রয়েছে। তিন বছর আগে খালটি সংস্কার করা হয়। সংস্কারের মাটি পাড়েই রাখা ছিল। বিএডিসির একটি নিয়ম আছে যে, তিন বছরের মধ্যে কেউ মাটি সরাতে পারবে না। মাটিগুলোর কারণে অনেকের জমি বøক হয়েছিল। এটার পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের দাবিতে সবার মতামত নিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। কিন্তু গ্রামে দলাদলি থাকে। এক সামাজিকতার মানুষের জমি কেটে রাস্তা করার পর আরেক সামাজিকতার জমির উপর গেছে তখন ঝামেলা হয়। তবে,  মাটি কাটা বা মাটি বিক্রির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার জানান, ওখানে দুটি পক্ষ রয়েছে। চেয়ারম্যানের পক্ষের লোকজন খালের পাড় সংস্কার করছিল। যাতে করে মানুষ যাতায়াত করতে পারে। এটাকে কেন্দ্র করে যাদের জমির উপর দিয়ে রাস্তা যাচ্ছে কী যাচ্ছে না বা তাদের যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়নি এমন বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি নিজেও সেখানে গিয়েছেন। তাদের বলা হয়েছে, বসে যেন বিষয়টি মীমাংসা করে নেয়। এ ঘটনায় কেউ যদি অভিযোগ দেয় তাহলে যাচাই বাছাই করে যদি দেখা যায় মামলা হওয়ার মত গ্রাউন্ড আছে তাহলে অবশ্যই মামলা হবে।