দৌলতদিয়ায় পদ্মা পাড়ের বালু বিক্রি বন্ধ
- প্রকাশের সময় : ০৭:২১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২১
- / 240
জনতার আদালত অনলাইন ॥ গোয়ালন্দ উপজেলা দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় পদ্মা নদী থেকে বালু তুলে ট্রাকে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রভাবশালী মহল। এতেকরে পদ্মাপাড়ের অসংখ্য বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি প্রতিদিন শত শত বালুবাহি ট্রাকের চলাচলে চরম দূর্বিষহ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসীর জীবন যাপন।
পদ্মা নদীর পাড় কেটে বালুমাটি বিক্রি জন্য তৈরী রাস্তা বাঁশ দিয়ে আটকে দিয়েছেন এলাকাবাসী। গত শুক্রবার দুপুরে এ কাজে থানা-পুলিশও এলাকাবাসীকে সহযোগিতা করে। একই সঙ্গে গ্রামের লোকজন বালুমাটি কাটা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই সপ্তাহ ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের সদস্যরা উপজেলার বাহিরচর ছাত্তার মেম্বারপাড়া থেকে বালুমাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক বালুমাটি কেটে গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলার দৌলতদিয়া পদ্মা নদীর কোল ঘেষে প্রায় ১৫ একর জমিতে অবৈধভাবে মাটি খনন করে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি আসছে স্থানীয় এই প্রভাবশালীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকেই জানান, আমরা কয়েকদফা নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে এখানে এসে বসবাস করছি। এখান থেকেও মাটি কাটার কারনে অনেকেই নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে অন্যত্র চলে গেছে। আমরা নিষেধ করা সত্ত্বেও এখানে প্রতি বছরই ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ইটভাটা, নির্মানাধীন ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এবার যেভাবে তারা মাটি কাটছে তাতে বর্ষা মৌসুমে আমাদের বাড়িঘর ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হবার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসী সিনবাদ মন্ডল, হালিম খা, রজ্জব শেখ, জোসন মোল্লাসহ অনেকেই জানান, আমরা নদী পাড়ের অসহায় মানুষ। এই নদীই আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। নদীর পাড়ই আশ্রয়স্থল। এই আশ্রয়স্থলই আজ ধ্বংসের মুখে। এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মোহন মন্ডল, মুসা মন্ডল, কুদ্দুস মন্ডল প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে তারা অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি কেটে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি। এই মাটি কাটাতে আমাদের ভিটেবাড়ী বিলিন হয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছর সরকারীভাবে কিছু কিছু জিও ব্যাগ ফেলায়। তাতে কিছুটা ভিটেবাড়ী রক্ষা পায়। এবার বন্যা চলে যাওয়ার পর আবারো এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আমাদের ভিটেবাড়ী রক্ষার জন্য জিও ফেলানো হয়েছিল। সে ব্যাগগুলো কেটে তাদের মাটির ট্রাক যাওয়া আসার জন্য একটি রাস্তা তৈরী করে। আমরা এলাকার নারী-পুরুষ মিলে তাদের বাঁধা দেই। তারা সে বাঁধা অমান্য করে জোর করে ট্রাক যাওয়া-আসার রাস্তা বানায়। দিনরাত ট্রাক চলাচল করায় ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা করতে পারে না। ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না।
এ বিষয়ে এলাকার ইউপি সদস্য কাশেম শেখ জানান, মুসা মন্ডল, কুদ্দুস মন্ডলসহ আরো অনেকেই এই অবৈধ কাটার সাথে জড়িত। তাদের অনেক বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করেছি তারা বাঁধারে অগ্রাহ্য করে জোর মাটি কাটতে থাকে। পরে এলাকার চেয়ারম্যান কে বিষয়টি অবগত করি। মাটি কাটতে কয়েকবার বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করি। তারা বাঁধা তোয়াক্কা না করে জোর করে মাটি কাটতে থাকে। পরে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসিকে বিষয়টি জানানোর পর তিনি সরেজমিনে এসে এলাকাবাসী দাবীতে মাটি কাটা বন্ধ করে দেয় এবং বেশ কয়েকটি মাটির ট্রাক আটক করে।
শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিবাদ ও দাবীর প্রেক্ষিতে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি ১নং ওয়ার্ডের ৭নং ফেরিঘাট সংলগ্ন ছাত্তার মেম্বার পাড়া এলাকার পদ্মা নদীর কোল ঘেসা জমিতে অভিযান চালিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করে দেন। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এসকাভেটরের চালক, মাটি বাহনের গাড়ি চালকসহ সংশ্লিষ্টরা সব কিছু রেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়। সেখানে কাউকে না পেয়ে মাটি খননকারি এসকাভেটর, বহনকারি ড্রামট্রাকসহ যাতায়াতের পথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেন এবং এই মাটি কাটার সাথে জড়িত সকলকে কঠোর হুশিয়ারি দেন ওসি।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, এ অঞ্চলটি একটি নদী ভাঙন কবলিত এলাকা। প্রতি বছরই নদী ভাঙন হয়। এই নদীর পাড়ের মানুষও নদী ভাঙনের শিকার। এলাকার কিছু ভুমিদস্যু আছে। যারা বালু ব্যবসা করে। মুলত তারা নদীর পাড়ে বাড়ীঘরের পাশ দিয়ে সরকারীভাবে ফেলানো জিও ব্যাগ কেটে অবৈধভাবে মাটির ট্রাক চলাচলের রাস্তা তৈরী করে। এভাবে গাড়ী চলাচল করলে বাড়ীঘরগুলো থাকবে না। এলাকার মেম্বর ও এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করি ও মাটির ট্রাক যেন চলাচল করতে পারে সে কারণে রাস্তাটি বন্ধ দেই। পরবর্তীতে খোজ খবর নিয়ে এই ভুমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করবো।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহন মন্ডল জানান, আমার দাদার রেকর্ডিয় ১৩ একর জমি থেকে আমরা মাটি কেটে বিক্রি করছি। এটা পদ্মা নদী বা সরকারী কোন সম্পত্তি নয়। এছাড়া ট্রাক যাতায়াতের জন্য যে পথ তৈরী করা হয়েছে, সেখানেও যার যার জমি ব্যবহৃত হচ্ছে তাদেরকে টাকা প্রদান করা হয়েছে। এখানে অবৈধ কিছু করা হচ্ছে বলে আমি মনে করি না। ওসি সাহেব আমাদের কাছে জমির কাগজ পত্র না চেয়ে সরাসরি এসে বন্ধ করে দিয়ে গেছেন। আমরা ওসি সাহেবের আসার বিষয়টি জানতামও না।




















