কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১১১, নিখোঁজ ১৪০০
- প্রকাশের সময় : ১০:৩৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
- / 14
কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮৭ জন। এ ছাড়া ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি শতাব্দীতে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি।
সোমবার (১০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ভূমিকম্পে পশ্চিম কলম্বিয়ার কালি, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেসসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমারে। ভূপৃষ্ঠের ১০৭ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হয়। ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টায় অন্তত ২১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, শহরটিতে অন্তত ২০টি ভবন ধসে পড়েছে এবং আরও ৩৮০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন।
রিসারালদা অঞ্চলে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অঞ্চলটির রাজধানী পেরেইরাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে ভ্যালে দেল কাউকা অঞ্চলে তিন শিশুসহ অন্তত ২৭ জন মারা গেছেন। উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া ভবনগুলোতে জীবিতদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, মানুষের জীবন রক্ষা, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় স্থানে ত্রাণ পৌঁছে দিতে সরকার তার সব সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার বলেও জানান তিনি।
এদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে একটি ডিজিটাল ডেটাবেস চালু করা হয়েছে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত সেখানে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই কালি ও পেরেইরা শহরের বাসিন্দা। সময়ের সঙ্গে নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পেরেইরায় ভূমিকম্পে বিমানবন্দরের ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এ সময় আশ্রয় নেওয়া যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শহরটিতে একটি চারতলা ভবনও ধসে পড়েছে।
নিরাপত্তার কারণে পশ্চিম কলম্বিয়ার পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আরমেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেন্তুরাসহ কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। প্রকৌশলীরা এসব স্থাপনার কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা করছেন।
কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক পরিষেবা জানিয়েছে, সোমবারের ভূমিকম্পটি একবিংশ শতাব্দীতে দেশটিতে রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি গভীরে হলেও এর শক্তিশালী মাত্রা, স্থলভাগের অভ্যন্তরীণ অবস্থান এবং ভূগর্ভস্থ গতির কারণে জনবহুল এলাকাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সূত্র: আল জাজিরা






















