Dhaka ০২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: হাইকোর্টে আপিল শুনানি শুরু লন্ডনের রাস্তায় আমিরাতের প্রধানমন্ত্রীকে চরম অপমান! ভিডিও ভাইরাল রামদা ঠেকিয়ে এমপির বাড়ি-জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ, সৎভাইদের বিরুদ্ধে মামলা অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে : তথ্য উপদেষ্টা অভিনয় ছাড়ছেন না হাসান মাসুদ, বললেন ‘ওই কথা বলাটা আমার ভুল হয়েছে’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিসার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ  নওগাঁয় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার সাকিব আল হাসান পচে যাওয়া মানুষ : তথ্য উপদেষ্টা মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, বাতিল ১ লাখ ৭৫ হাজার

রামদা ঠেকিয়ে এমপির বাড়ি-জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ, সৎভাইদের বিরুদ্ধে মামলা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০১:৫১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 12

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে গলায় রামদা ঠেকিয়ে বাড়িসহ সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সৎভাইদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এমপির স্ত্রী পারভিন আক্তার আদালতে মামলা করেছেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (দিরাই আমলি আদালত) নাছির চৌধুরীর তিন ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন তিনি। পরে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহিত লাল চন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলায় আসামি করা হয়েছে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরীকে। এছাড়া দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের মৃত নাজমুল ইসলামের ছেলে আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের আব্দুন নুর মিয়ার ছেলে ছয়ফুল চৌধুরী, তল বাউসী গ্রামের দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ার কাপন গ্রামের নাজমুল ইসলামের ছেলে তাজুল ইসলাম এবং দিরাইয়ের নুরুল ইসলামের মেয়ে মোহরার মমতাজ বেগমকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে পারভিন আক্তার বলেন, নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ থাকার সুযোগ নিয়ে তার দুই স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা করেন আসামিরা। এর অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা পরিচয়ে নাছির চৌধুরীর বাড়িতে নেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, অসুস্থ নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে একটি দলিলে স্বাক্ষর করতে বলা হলে তিনি রাজি হননি। একপর্যায়ে আসামিরা তার গলায় রামদা ধরে স্বাক্ষর না করলে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেন। এ সময় নাছির চৌধুরীর অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরী বাধা দিলে তাকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি মেঝেতে পড়ে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়, ওই সময় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর টঙ্গর এলাকার সমর্থক ওয়াকিব হাসান তাকে দেখতে বাড়িতে গেলে তিনি ঘটনাটি দেখতে পান। পরে মঈন উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্যরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

এ ছাড়া ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে পারভিন আক্তারকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

পারভিন আক্তার বলেন, “আমার স্বামীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তার ভাইয়েরা গলায় দা ধরে সম্পত্তি লিখে নেয়। এই সম্পত্তি ফিরে পেতে আদালতে মামলা করেছি। আদালতের বিচারক কাগজপত্র দেখে মামলাটি গ্রহণ করেছেন।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক। তিনি বলেন, মামলার বিষয়ে তিনি এখনো কিছু জানেন না। বিষয়টি জানার পর আইনিভাবে জবাব দেবেন।

গলায় দা ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এগুলো কখনো হতে পারে না। এসব মিথ্যা কথা। এ ধরনের ঘটনা কখনো ঘটেনি।”

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রামদা ঠেকিয়ে এমপির বাড়ি-জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ, সৎভাইদের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশের সময় : ০১:৫১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে গলায় রামদা ঠেকিয়ে বাড়িসহ সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সৎভাইদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এমপির স্ত্রী পারভিন আক্তার আদালতে মামলা করেছেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (দিরাই আমলি আদালত) নাছির চৌধুরীর তিন ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন তিনি। পরে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহিত লাল চন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলায় আসামি করা হয়েছে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরীকে। এছাড়া দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের মৃত নাজমুল ইসলামের ছেলে আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের আব্দুন নুর মিয়ার ছেলে ছয়ফুল চৌধুরী, তল বাউসী গ্রামের দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ার কাপন গ্রামের নাজমুল ইসলামের ছেলে তাজুল ইসলাম এবং দিরাইয়ের নুরুল ইসলামের মেয়ে মোহরার মমতাজ বেগমকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে পারভিন আক্তার বলেন, নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ থাকার সুযোগ নিয়ে তার দুই স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা করেন আসামিরা। এর অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা পরিচয়ে নাছির চৌধুরীর বাড়িতে নেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, অসুস্থ নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে একটি দলিলে স্বাক্ষর করতে বলা হলে তিনি রাজি হননি। একপর্যায়ে আসামিরা তার গলায় রামদা ধরে স্বাক্ষর না করলে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেন। এ সময় নাছির চৌধুরীর অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরী বাধা দিলে তাকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি মেঝেতে পড়ে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়, ওই সময় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর টঙ্গর এলাকার সমর্থক ওয়াকিব হাসান তাকে দেখতে বাড়িতে গেলে তিনি ঘটনাটি দেখতে পান। পরে মঈন উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্যরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

এ ছাড়া ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে পারভিন আক্তারকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

পারভিন আক্তার বলেন, “আমার স্বামীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তার ভাইয়েরা গলায় দা ধরে সম্পত্তি লিখে নেয়। এই সম্পত্তি ফিরে পেতে আদালতে মামলা করেছি। আদালতের বিচারক কাগজপত্র দেখে মামলাটি গ্রহণ করেছেন।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক। তিনি বলেন, মামলার বিষয়ে তিনি এখনো কিছু জানেন না। বিষয়টি জানার পর আইনিভাবে জবাব দেবেন।

গলায় দা ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এগুলো কখনো হতে পারে না। এসব মিথ্যা কথা। এ ধরনের ঘটনা কখনো ঘটেনি।”