প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিওতে ছবি জুড়ে অপপ্রচারের অভিযোগ এলিনের
- প্রকাশের সময় : ০৯:১০:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
- / 5
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর সঙ্গে নিজের ছবি যুক্ত করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং চরিত্রহননের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পঞ্চগড়ের তরুণী রাহেমীন মারিয়া এলিন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে রাহেমীন মারিয়া এলিন জানান, তিনি পঞ্চগড়ের মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের বিএসএস শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। পারিবারিক পরিচয়ের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘মারিয়া সরকার’ নামে পরিচিত। তিনি বলেন, তিনি মুসলিম এবং পঞ্চগড়ের স্থায়ী বাসিন্দা।
তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর সঙ্গে তার ছবি যুক্ত করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ ধরনের প্রচারণার মাধ্যমে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও চরিত্রহননের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, কয়েক মাস আগে একটি সামাজিক সংগঠনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময় তৎকালীন নির্বাচনের প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে একটি রেস্টুরেন্টে ছবি তুলেছিলেন। সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অশ্লীল ভিডিওর সঙ্গে সেই পুরোনো ছবিটি যুক্ত করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্টে ভুল পরিচয় ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
এলিন বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে থাকা নারী তিনি নন। তবুও তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ভিন্ন পরিচয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, উপস্থাপনার কাজের সূত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় ও ছবি রয়েছে। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। কয়েক দিন আগে ব্যক্তিগতভাবে একটি পুরোনো ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করলেও পরে রাজনৈতিকভাবে ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে ভেবে তা মুছে ফেলেন। তার দাবি, কেউ সেই ছবি সংরক্ষণ করে পরে অপপ্রচারের কাজে ব্যবহার করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে এলিন অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তার মানহানি করা হচ্ছে এবং তাকে হিন্দু তরুণী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, তার বাবা-মা দুজনই মারা গেছেন। অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া ও নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন। কিন্তু এ ধরনের অপপ্রচারের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হতে পারে কিংবা অন্য কোনো ঘটনার ভিডিওও হতে পারে বলে তার ধারণা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত বছর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন সময় তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এ সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার সম্মানহানির বিচার দাবি করেন।






















