কর্মদক্ষতায় সংসারের হাল ধরতে চায় প্রতিবন্ধী জয় হালদার
- প্রকাশের সময় : ০৭:৩৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
- / 11
জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী জয় হালদার (১৯)। নিজে চলাফেরা করতে পারেন না, কথাও স্পষ্টভাবে বলতে পারেন না। দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে শুয়ে বা বসে। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পা দিয়ে স্মার্টফোন পরিচালনা করে সাইবার সেবা, ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেছেন তিনি।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক সুশীল হালদারের ছেলে জয় হালদার। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই তিনি বাংলা ও ইংরেজিতে দক্ষতার সঙ্গে লিখতে পারেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
জয় হালদার বলেন, তিনি পরিবারের বোঝা হয়ে থাকতে চান না। একটি ল্যাপটপ ও একটি স্মার্টফোন পেলে ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের দায়িত্ব নিতে চান।
ভাঙা কণ্ঠে জয় বলেন, “মানুষ চিরদিন বেঁচে থাকে না। একসময় আমার মা-বাবাও থাকবেন না। তখন আমাকে কে দেখবে—এই চিন্তা থেকেই আমি কিছু করতে চাই। আমি কারও বোঝা হতে চাই না। একটি ল্যাপটপ ও একটি স্মার্টফোন পেলে নিজে কাজ করে পরিবারের হাল ধরতে পারব।”
তিনি আরও বলেন, “একটি ল্যাপটপ ও স্মার্টফোনের জন্য আমি অনেক আগে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হোয়াটসঅ্যাপে আবেদন পাঠিয়েছিলাম। এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং আমাদের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর সহযোগিতা কামনা করছি।”
জয়ের বাবা সুশীল হালদার বলেন, “সাত বছর আগে ১২ হাজার টাকা দিয়ে ছেলেকে একটি স্মার্টফোন কিনে দিয়েছিলাম। পা দিয়ে মোবাইল চালাতে চালাতে সে এখন বিশ্বের নানা তথ্য জানে। বাংলা ও ইংরেজিতে সুন্দরভাবে আবেদন লিখতে পারে। তার লেখায় ভুল থাকে না।”
তিনি জানান, এলাকার মানুষ বিকাশ ও নগদ হিসাব খোলা, জমির পর্চা উত্তোলনের আবেদন, বিধবা ও বয়স্ক ভাতার আবেদনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার জন্য জয়ের সহযোগিতা নেন।
জয়ের মা বীভা হালদার বলেন, “আমি কখনো আমার ছেলেকে পরিবারের বোঝা মনে করি না। প্রতিদিনই বিভিন্ন মানুষ তার কাছে মোবাইল ও ল্যাপটপের কাজ শেখার জন্য আসে। ও তাদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে।”
তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “জয় এখন বড় হয়েছে। বাথরুমে নেওয়ার জন্য তাকে ঘরের বাইরে বহন করে নিতে হয়। ঘরের সঙ্গে একটি বাথরুম নির্মাণ করা গেলে আমার কষ্ট অনেকটাই কমে যেত।”
রাজাপুর গ্রামের লেখক ও নাট্যকার আকাশ রঞ্জন বলেন, “জয় হালদার আমাদের গ্রামের গর্ব। তার মতো বিরল প্রতিভার মানুষ খুব কম দেখা যায়। তার মেধাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।”
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, “আমি কিছুদিন আগে জয় হালদারের একটি আবেদন পেয়েছি। সেখানে তিনি একটি ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন চেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করব।”























