ঐচ্ছিক অনুদানের তালিকায় দুই জায়গায় জামায়াত এমপির মেয়ের নাম

- প্রকাশের সময় : ০৯:৪২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
- / 4
নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান (বাচ্চু)–এর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের জন্য সচিবালয় অনুমোদিত তালিকার দুই স্থানে তাঁর এক মেয়ের নাম থাকায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তালিকাটি ছড়িয়ে পড়ার পর এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সংসদ সদস্য।
শুক্রবার সচিবালয়ের একটি অনুদান মঞ্জুরির চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা ২১ জনের মধ্যে বিতরণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় দেখা যায়, ১ ও ৮ নম্বরে ‘ফাইজা’ নামে দুজনের নাম রয়েছে। একজনের বাবার নামের স্থানে ‘মো. বাচ্চু’ এবং অন্যজনের ক্ষেত্রে ‘মো. আতাউর’ লেখা রয়েছে। উভয়ের জন্য ১০ হাজার টাকা করে অনুদান বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। ফাইজা সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ওঠে। এছাড়া তালিকার অধিকাংশ উপকারভোগী সংসদ সদস্যের নিজ ইউনিয়ন ও শ্বশুরবাড়ি এলাকার হওয়ায়ও প্রশ্ন দেখা দেয়।
শনিবার নড়াইল জেলা পরিষদে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান তালিকাটি সঠিক বলে নিশ্চিত করেন। তবে তিনি দাবি করেন, তালিকা প্রস্তুতের দায়িত্বে ছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস)।
আতাউর রহমান বলেন, তিনি তখন নড়াইলে ছিলেন না। সচিবালয়ে জমা দেওয়ার জন্য তাঁর পিএসকে একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করতে বলেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, পিএস পরিচিতজনদের নাম দিয়ে তালিকাটি তৈরি করেছেন। সে কারণেই পরিবারের সদস্য ও পরিচিত এলাকার মানুষের নাম তালিকায় চলে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, অনুদানের অর্থ ছাড় হয়েছে—এ বিষয়েও তিনি অবগত ছিলেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁর দাবি, তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে অর্থ বিতরণের ইচ্ছা তাঁর ছিল না; তিনি নতুন তালিকা অনুযায়ী প্রকৃত উপকারভোগীদের অনুদান দিতে চেয়েছিলেন।
তবে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির বলেন, সচিবালয় থেকে যে তালিকা অনুমোদিত হয়ে এসেছে, নীতিমালা অনুযায়ী সেই তালিকার বাইরে কাউকে অনুদান দেওয়ার সুযোগ নেই। তালিকাভুক্ত কেউ অনুদান গ্রহণ না করলে অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে। তালিকা পরিবর্তন করতে হলে সেটি সচিবালয় থেকেই সংশোধন করতে হবে।






















