Dhaka ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
‘নিজের পরিবারকে সময় দিন’ লিখে সুষমা রেজা জানালেন বিচ্ছেদের খবর বালিয়াকান্দিতে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ শুরু ইট বেঁধে কুকুরকে নদীতে ছুঁড়ে ফেলার ভিডিও প্রধানমন্ত্রীর নজরে, দিলেন যে নির্দেশ করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় চীনে পণ্য পৌঁছানো যাবে : বাণিজ্যমন্ত্রী নওগাঁ ডিবির অভিযানে ১৭ লিটার চোলাই মদসহ গ্রেফতার ১ কর্মদক্ষতায় সংসারের হাল ধরতে চায় প্রতিবন্ধী জয় হালদার বিয়ে-জন্মদিনে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে জনপ্রতি ২৫ টাকা ফি! ১২ দেশের বিদায়ে বিশ্বকাপের নকআউটে ২৮ দল, অপেক্ষায় ৮ শ্বাসনালীতে দুধ আটকে তিন মাস বয়সি শিশুর মৃত্যু ভুয়া ভিসা ও জব অফার রুখতে চালু হলো ভিসা ভেরিফিকেশন সেন্টার

বিয়ে-জন্মদিনে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে জনপ্রতি ২৫ টাকা ফি!

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৭:১৪:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • / 19

দেশে বিয়ে, জন্মদিনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অপচয় রোধ এবং অতিথির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ১৯৮৪ সালে জারি করা হয়েছিল ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আদেশ, ১৯৮৪’ (দ্য গেস্ট কন্ট্রোল অর্ডার, ১৯৮৪)। তবে আইনটি এখনো বাতিল না হলেও দীর্ঘদিন ধরে এর বাস্তব প্রয়োগ নেই।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বিয়ে ও গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জাঁকজমক এবং অপচয় রোধে এ আইন কার্যকর করার আহ্বান জানান। এরপর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

১৯৮৪ সালের ৩ জুলাই তৎকালীন খাদ্য মন্ত্রণালয় দেশের সামগ্রিক খাদ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের অপচয় রোধে এ আদেশ জারি করে। এটি ১৯৫৬ সালের ‘দ্য কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্ট’-এর ৩(১) ধারার ক্ষমতাবলে প্রণীত হয়েছিল।

১০০ জনের বেশি অতিথির ওপর বিধিনিষেধ

আদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা আয়োজক বিয়ে, জন্মদিন, আকিকা কিংবা অন্য কোনো সামাজিক, ধর্মীয় বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে আয়োজক পরিবারের সদস্যদের বাইরে ১০০ জনের বেশি অতিথিকে চাল বা গম দিয়ে তৈরি খাবার পরিবেশন করতে পারবেন না।

বিশেষ প্রয়োজনে ১০০ জনের বেশি অতিথিকে আপ্যায়ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে নির্ধারিত ফরমে পূর্বানুমতি নিতে হবে। পাশাপাশি ১০০ জনের অতিরিক্ত প্রতিটি অতিথির জন্য সরকারি কোষাগারে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জনপ্রতি ২৫ টাকা (প্রাথমিকভাবে যা ছিল ১০ টাকা) জমা দিতে হবে।

তদারকি ও শাস্তির বিধান

আইনটি বাস্তবায়নের জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক, পুলিশের গেজেটেড কর্মকর্তা অথবা জেলা প্রশাসক বা ইউএনও মনোনীত কর্মকর্তাদের অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ, তল্লাশি ও বিধি প্রতিপালন যাচাইয়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।

আদেশ অমান্য করলে তা ১৯৫৬ সালের আইনের আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো। সেক্ষেত্রে অনুষ্ঠান আয়োজকের পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থল—যেমন কমিউনিটি সেন্টার বা কনভেনশন হলের মালিকের বিরুদ্ধেও জরিমানা এবং ক্ষেত্রবিশেষে কারাদণ্ডের বিধান ছিল।

২০০৩ সালের সংশোধনী

২০০৩ সালে এ আদেশে সংশোধন এনে মিলাদ মাহফিল, ইফতার পার্টি, কুলখানি, চেহলাম, ওরস ও শ্রাদ্ধের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোকে অতিথি-সীমা ও অতিরিক্ত ফি প্রদানের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বর্তমানে কার্যত অকার্যকর

যদিও ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আদেশ, ১৯৮৪’ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়নি, তবে দীর্ঘদিন ধরে এর কোনো কার্যকর প্রয়োগ বা নজরদারি নেই। বর্তমানে রেস্তোরাঁ, কমিউনিটি সেন্টার ও কনভেনশন হলে শত শত বা হাজারো অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান হলেও অনুমতি নেওয়া কিংবা অতিরিক্ত অতিথির জন্য ফি পরিশোধের বিধান বাস্তবে অনুসরণ করা হয় না।

ফলে আইনটি কাগজে-কলমে বহাল থাকলেও প্রয়োগের অভাবে কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বিয়ে-জন্মদিনে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে জনপ্রতি ২৫ টাকা ফি!

প্রকাশের সময় : ০৭:১৪:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

দেশে বিয়ে, জন্মদিনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অপচয় রোধ এবং অতিথির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ১৯৮৪ সালে জারি করা হয়েছিল ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আদেশ, ১৯৮৪’ (দ্য গেস্ট কন্ট্রোল অর্ডার, ১৯৮৪)। তবে আইনটি এখনো বাতিল না হলেও দীর্ঘদিন ধরে এর বাস্তব প্রয়োগ নেই।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বিয়ে ও গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জাঁকজমক এবং অপচয় রোধে এ আইন কার্যকর করার আহ্বান জানান। এরপর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

১৯৮৪ সালের ৩ জুলাই তৎকালীন খাদ্য মন্ত্রণালয় দেশের সামগ্রিক খাদ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের অপচয় রোধে এ আদেশ জারি করে। এটি ১৯৫৬ সালের ‘দ্য কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্ট’-এর ৩(১) ধারার ক্ষমতাবলে প্রণীত হয়েছিল।

১০০ জনের বেশি অতিথির ওপর বিধিনিষেধ

আদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা আয়োজক বিয়ে, জন্মদিন, আকিকা কিংবা অন্য কোনো সামাজিক, ধর্মীয় বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে আয়োজক পরিবারের সদস্যদের বাইরে ১০০ জনের বেশি অতিথিকে চাল বা গম দিয়ে তৈরি খাবার পরিবেশন করতে পারবেন না।

বিশেষ প্রয়োজনে ১০০ জনের বেশি অতিথিকে আপ্যায়ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে নির্ধারিত ফরমে পূর্বানুমতি নিতে হবে। পাশাপাশি ১০০ জনের অতিরিক্ত প্রতিটি অতিথির জন্য সরকারি কোষাগারে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জনপ্রতি ২৫ টাকা (প্রাথমিকভাবে যা ছিল ১০ টাকা) জমা দিতে হবে।

তদারকি ও শাস্তির বিধান

আইনটি বাস্তবায়নের জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক, পুলিশের গেজেটেড কর্মকর্তা অথবা জেলা প্রশাসক বা ইউএনও মনোনীত কর্মকর্তাদের অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ, তল্লাশি ও বিধি প্রতিপালন যাচাইয়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।

আদেশ অমান্য করলে তা ১৯৫৬ সালের আইনের আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো। সেক্ষেত্রে অনুষ্ঠান আয়োজকের পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থল—যেমন কমিউনিটি সেন্টার বা কনভেনশন হলের মালিকের বিরুদ্ধেও জরিমানা এবং ক্ষেত্রবিশেষে কারাদণ্ডের বিধান ছিল।

২০০৩ সালের সংশোধনী

২০০৩ সালে এ আদেশে সংশোধন এনে মিলাদ মাহফিল, ইফতার পার্টি, কুলখানি, চেহলাম, ওরস ও শ্রাদ্ধের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোকে অতিথি-সীমা ও অতিরিক্ত ফি প্রদানের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বর্তমানে কার্যত অকার্যকর

যদিও ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আদেশ, ১৯৮৪’ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়নি, তবে দীর্ঘদিন ধরে এর কোনো কার্যকর প্রয়োগ বা নজরদারি নেই। বর্তমানে রেস্তোরাঁ, কমিউনিটি সেন্টার ও কনভেনশন হলে শত শত বা হাজারো অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান হলেও অনুমতি নেওয়া কিংবা অতিরিক্ত অতিথির জন্য ফি পরিশোধের বিধান বাস্তবে অনুসরণ করা হয় না।

ফলে আইনটি কাগজে-কলমে বহাল থাকলেও প্রয়োগের অভাবে কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে।