বাবা হারানোর ৭ বছর পর মা-তিন বোন খুন, একা হয়ে গেলেন সিফাত
- প্রকাশের সময় : ০৩:৫৭:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- / 16
বাবাকে হারিয়েছিলেন সাত বছর আগে। এবার একদিনেই হারালেন মা ও তিন বোনকে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পরিবার হারিয়ে একেবারে একা হয়ে গেছেন ১৮ বছর বয়সী জুনায়েদ ইসলাম সিফাত। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে মা ও তিন বোনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় শোকে ভেঙে পড়েছেন তিনি।
সিফাত রায়পুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের হাল ধরতে সাত-আট মাস আগে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সিফাতের বাবা কামাল হোসেন জীবিকার তাগিদে হাড়ি-পাতিল ও সিলভার সামগ্রী বিক্রি করতেন। ২০১৯ সালে গ্রামে ব্যবসা করতে গিয়ে বৃষ্টির মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান তিনি। এরপর থেকে মা শাহিনুর বেগম (৩৮) তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে রায়পুরের দেনায়েতপুর এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর পাড়ের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ওই বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম এবং তার তিন মেয়ে—সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তারকে (৯) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার (২৮) নিহত হন। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা এবং রায়পুরে ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী ছিলেন।
নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
সিফাতের বন্ধু ওমর ফারুক রনি বলেন, “সিফাত ও তার ভাইবোন সবাই খুব মেধাবী। লেখাপড়ার প্রতি তাদের অনেক আগ্রহ ছিল। বাবা মারা যাওয়ার পরও অনেক কষ্ট করে পরিবারটি এগিয়ে যাচ্ছিল। এখন পুরো পরিবারই শেষ হয়ে গেল।”
মায়ের ও তিন বোনের মৃত্যুতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সিফাত বলেন, “আমার মা, বোনদের কী অপরাধ ছিল? কেন তাদের এভাবে হত্যা করা হলো? আমি এখন কাদের নিয়ে বাঁচব? এই পৃথিবীতে আমার আর কেউ রইল না।”
রায়পুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, “সিফাত আমাদের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় সাত-আট মাস ধরে চাকরি করছিল। মাসে আট হাজার টাকা বেতন পেত। পরিবারের দায়িত্ব নিতে সে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করছিল। এমন মর্মান্তিক ঘটনা মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর।”
ঘটনার পর জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি প্রত্যক্ষদর্শী, ভাড়াটিয়া ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
পুলিশ সুপার জানান, অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার তার স্ত্রীকে নিয়ে প্রায় দেড় বছর ওই এলাকায় ভাড়া থাকতেন। সাত-আট মাস আগে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যান। পূর্বপরিচয়ের সূত্রে তিনি সেদিন সকালে ওই বাসায় প্রবেশ করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, রাণী নামে এক প্রতিবেশী অন্তরকে বাসায় দেখে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি পানির পাইপ মেরামত করতে এসেছেন বলে জানান। সন্দেহ হওয়ায় ওই প্রতিবেশী বাসার কলাপসিবল গেট আটকে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।





















