দেশে ফেরানো ঠেকাতে দুবাইয়ে নিজের নামে মামলা করালেন বেনজীর!
- প্রকাশের সময় : ১০:২২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
- / 8
বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ ঠেকাতে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে নিজের পক্ষ থেকে একটি মামলা করিয়েছেন বলে দাবি উঠেছে। তবে এ বিষয়ে বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠদের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
দুবাইভিত্তিক একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের তৎপরতা জোরদার হওয়ার পর তিনি নতুন আইনি কৌশল গ্রহণ করেছেন। সূত্রগুলোর দাবি, তার ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি আর্থিক বিরোধসংক্রান্ত একটি মামলার বাদী হয়েছেন, যার সঙ্গে বেনজীর আহমেদের নাম যুক্ত করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেনজীর আহমেদের আইনি বিষয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তি অভিযোগটি নাকচ করে দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা তার জামিন নিয়ে ব্যস্ত। এ অবস্থায় নিজের লোক দিয়ে মামলা করার প্রশ্নই আসে না।”
সূত্রমতে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক ও আইনি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রতিনিধিরাও বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করছেন।
দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ী দাবি করেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে নতুন একটি দেওয়ানি ও ব্যক্তিগত আর্থিক অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তার মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনে স্থানীয়ভাবে বিচারাধীন কোনো আর্থিক বা সম্পত্তি-সংক্রান্ত মামলা থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি ব্যক্তিরা প্রায়ই স্থানীয় আদালতে বিভিন্ন আবেদন বা মামলা করে থাকেন। এসব আবেদনের মাধ্যমে তারা বিচারিক সুরক্ষা, গ্রেপ্তারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ বা প্রত্যর্পণ কার্যক্রম স্থগিত রাখার সুযোগ চাইতে পারেন। আন্তর্জাতিক আইনে এমন উদ্যোগ অস্বাভাবিক নয়।
আইনজীবীদের মতে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বা তার পক্ষে কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আদালতের নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এখন পর্যন্ত তিনি নিজেই লোক দিয়ে মামলা করিয়েছেন—এমন দাবির পক্ষে প্রকাশ্য কোনো আদালতের নথি বা সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সরকার এর আগে জানিয়েছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দুবাইয়ের আদালত বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ আবেদন কীভাবে মূল্যায়ন করে। আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা অব্যাহত থাকতে পারে।
তবে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আদালতের যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অভিযোগ বা গুঞ্জনকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।






















