আগুনে পুড়ে যাওয়া রোগীর চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত, কানাডার বিজ্ঞানীদের বিশ্বজয়
- প্রকাশের সময় : ০৪:১৯:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
- / 22
গুরুতর অগ্নিদগ্ধ রোগীর চিকিৎসায় বিশ্বে প্রথমবারের মতো ‘এক্সোজোম থেরাপি’ (Exosome Therapy) প্রয়োগ করে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন কানাডার চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা। এই নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে মুখমণ্ডল ও ঘাড়ে মারাত্মকভাবে দগ্ধ এক তরুণীর ক্ষত উল্লেখযোগ্যভাবে নিরাময় করা সম্ভব হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বার্ন চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
কানাডার অন্টারিও প্রদেশের Hamilton Health Sciences-এর চিকিৎসকরা এই সাফল্য অর্জন করেন। চিকিৎসা গ্রহণকারী ১৮ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী কেইটলিন জেফরি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে তার মুখে স্কিন গ্রাফট করার প্রয়োজন হতো, যা স্থায়ী দাগ এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক জটিলতার কারণ হতে পারত।
তবে চিকিৎসকরা পরীক্ষামূলকভাবে ‘এক্সোজোম থেরাপি’ প্রয়োগ করে তার মুখমণ্ডল ও ঘাড়ের স্বাভাবিক ত্বক অনেকাংশে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন।
এই চিকিৎসা কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন বিশ্বের অন্যতম খ্যাতিমান বার্ন বিশেষজ্ঞ ড. মার্ক জেশকে। তিনি Hamilton Health Sciences-এর গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট, অন্টারিওর দুটি আঞ্চলিক বার্ন সেন্টারের একটির মেডিকেল ডিরেক্টর এবং ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক।
ড. জেশকে ও তার দল Health Canada-এর বিশেষ অনুমোদন নিয়ে প্রথমবারের মতো মানবদেহে অগ্নিদগ্ধ রোগীর ক্ষেত্রে এই থেরাপি প্রয়োগ করেন। প্রাথমিক ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হওয়ায় ভবিষ্যতে এটি গুরুতর দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার নতুন মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
Hamilton General Hospital-এর Centre for Burn Research এবং ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা ও চিকিৎসা সহযোগিতার ফলেই এই বিশ্ব-প্রথম সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
চিকিৎসা শেষে কেইটলিন জেফরি বলেন, “এটি আমার কাছে অলৌকিক কিছু।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্সোজোম হলো কোষ থেকে নিঃসৃত অতি ক্ষুদ্র জৈব কণিকা, যা কোষের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুর পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ ভবিষ্যতে পোড়া ক্ষত, টিস্যু পুনর্গঠন এবং পুনর্জননভিত্তিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
এদিকে, গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইকেল জি. ডিগ্রুট স্কুল অব মেডিসিন বিশ্বব্যাপী চিকিৎসা শিক্ষার অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। আধুনিক Evidence-Based Medicine (EBM) বা প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিকাশে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
বিশ্বখ্যাত Problem-Based Learning (PBL) শিক্ষাপদ্ধতির পথিকৃত হিসেবেও ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় সুপরিচিত। এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই বাস্তব রোগী ও ক্লিনিক্যাল সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়ে চিকিৎসা বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে।
গবেষকরা মনে করছেন, বিজ্ঞান ও গবেষণায় ধারাবাহিক বিনিয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমন উদ্ভাবন মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তথ্যসূত্র: Hamilton Health Sciences





















