বাছুরে ভয়ংকর পরজীবী শনাক্ত
- প্রকাশের সময় : ০৭:৫৯:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- / 34
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বাছুরের শরীরে প্রাণঘাতী ‘নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম’ পরজীবী শনাক্ত হওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে টেক্সাস থেকে গবাদি পশু আমদানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কানাডা।
কানাডার খাদ্য পরিদর্শন সংস্থা (সিএফআইএ) জানিয়েছে, সীমান্ত অতিক্রমের আগের ২১ দিনের মধ্যে টেক্সাসে অবস্থান করেছে—এমন কোনো গরু বা ঘোড়াকে কানাডায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) সম্প্রতি টেক্সাসে দ্বিতীয় একটি বাছুরের শরীরেও স্ক্রুওয়ার্ম পরজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিত করে। এরপরই সতর্কতামূলক এই পদক্ষেপ নেয় কানাডা। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ গবাদি পশু উৎপাদনকারী অঞ্চল হওয়ায় টেক্সাসের পরিস্থিতি কৃষি খাতে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে।
টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট পরিস্থিতিকে ‘সম্ভাব্য বড় সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে জরুরি সতর্কতা জারি করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ে সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম এক ধরনের পরজীবী মাছি। স্ত্রী মাছি প্রাণীর খোলা ক্ষত বা নরম চামড়ায় ডিম পাড়ে। সেখান থেকে বের হওয়া লার্ভা জীবন্ত টিস্যু খেতে শুরু করে। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে আক্রান্ত প্রাণীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
টেক্সাসের লা প্রাইরিয়া এলাকায় তিন সপ্তাহ বয়সী একটি বাছুরের নাভির কাছে প্রথম এই পরজীবী শনাক্ত হয়। পরে জাভালা কাউন্টির আরেকটি বাছুরেও একই ধরনের সংক্রমণ ধরা পড়ে। দুই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে কোয়ারেন্টাইন, পশু পরিবহন নিয়ন্ত্রণ এবং নিবিড় নজরদারি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকো হয়ে এই পরজীবী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে। ফলে গবাদি পশু খাতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কানাডা জানিয়েছে, দেশটির শীতল আবহাওয়ায় এই পরজীবীর স্থায়ী বিস্তারের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। তবুও খামারিদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গবাদি পশুর শরীরে ক্ষত বা অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ গবাদি পশু আমদানি করেছিল কানাডা। ফলে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের পশুসম্পদভিত্তিক বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে বন্ধ্যা মাছি অবমুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে পরজীবীটির বংশবিস্তার রোধ করা যায়। পাশাপাশি বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরের মাধ্যমে সংক্রমণ শনাক্তের উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এখনো মতভেদ রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি























