Dhaka ১০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
আমার মান-সম্মান নিয়ে যেন টানাটানি করা না হয়: কুদ্দুস বয়াতি সেই স্ত্রীকে আবারও তালাক দিলেন আবু ত্বহা আদনান গাজীপুরে ৫ খুনের ঘটনায় পলাতক ফোরকানকে আসামি করে মামলা দেশকে ধ্বংসস্তুপ থেকে টেনে তোলাই বিএনপির নতুন চ্যালেঞ্জ: মির্জা ফখরুল কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব? নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করতে পুলিশের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ পাংশায় ড্রাম ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল চালক নিহত দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত বৃষ্টি মমতার বিশ্বস্ত সহকর্মী থেকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দুর উত্থানের গল্প কালুখালীতে ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন

কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব?

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • / 17

ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার মহিমান্বিত শিক্ষা নিয়ে আসে পবিত্র ঈদুল আজহা। এ দিনের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো কোরবানি। ইসলামের দৃষ্টিতে কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন,
“অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।”
— (সুরা কাওসার, আয়াত: ২)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“আল্লাহর কাছে তাদের গোশত বা রক্ত পৌঁছে না; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”
— (সুরা হাজ্জ, আয়াত: ৩৭)

হাদিসেও কোরবানির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সে কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।”
— (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২১২৩)

কাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব?

১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক, মুকিম (নিজ এলাকায় অবস্থানরত) মুসলিম নারী বা পুরুষের কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।

কোরবানির নিসাব কত?

নিসাব হলো—

সাড়ে ৭ ভরি (৭.৫ ভরি) স্বর্ণ, অথবা
সাড়ে ৫২ ভরি (৫২.৫ ভরি) রুপা, অথবা
এ পরিমাণ রুপার সমমূল্যের নগদ অর্থ বা সম্পদ।

স্বর্ণ বা রুপা পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না হলেও উভয়টি একত্রে অথবা নগদ টাকা, অতিরিক্ত জমি, ব্যবসার পণ্য বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত আসবাবপত্রসহ মোট সম্পদের মূল্য যদি সাড়ে ৫২ ভরি রুপার সমপরিমাণ হয়, তাহলেও কোরবানি ওয়াজিব হবে।

কোন সম্পদ হিসাব করা হবে?

কোরবানির নিসাব নির্ধারণে যেসব সম্পদ গণনা করা হবে—

স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার
নগদ অর্থ
ব্যাংকে জমা টাকা
ব্যবসায়িক পণ্য
প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি
অতিরিক্ত আসবাবপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী

তবে বসবাসের ঘর, দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও জীবনযাপনের অপরিহার্য সামগ্রী হিসাবের মধ্যে আসবে না।

যাকাত ও কোরবানির পার্থক্য
যার ওপর যাকাত ফরজ হয়, সাধারণত তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব হয়। তবে যাকাতের মতো এখানে এক বছর অতিক্রম হওয়া শর্ত নয়। কোরবানির নির্ধারিত দিনগুলোতে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র
১. বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬
২. আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫
৩. ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব?

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার মহিমান্বিত শিক্ষা নিয়ে আসে পবিত্র ঈদুল আজহা। এ দিনের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো কোরবানি। ইসলামের দৃষ্টিতে কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন,
“অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।”
— (সুরা কাওসার, আয়াত: ২)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“আল্লাহর কাছে তাদের গোশত বা রক্ত পৌঁছে না; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”
— (সুরা হাজ্জ, আয়াত: ৩৭)

হাদিসেও কোরবানির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সে কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।”
— (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২১২৩)

কাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব?

১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক, মুকিম (নিজ এলাকায় অবস্থানরত) মুসলিম নারী বা পুরুষের কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।

কোরবানির নিসাব কত?

নিসাব হলো—

সাড়ে ৭ ভরি (৭.৫ ভরি) স্বর্ণ, অথবা
সাড়ে ৫২ ভরি (৫২.৫ ভরি) রুপা, অথবা
এ পরিমাণ রুপার সমমূল্যের নগদ অর্থ বা সম্পদ।

স্বর্ণ বা রুপা পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না হলেও উভয়টি একত্রে অথবা নগদ টাকা, অতিরিক্ত জমি, ব্যবসার পণ্য বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত আসবাবপত্রসহ মোট সম্পদের মূল্য যদি সাড়ে ৫২ ভরি রুপার সমপরিমাণ হয়, তাহলেও কোরবানি ওয়াজিব হবে।

কোন সম্পদ হিসাব করা হবে?

কোরবানির নিসাব নির্ধারণে যেসব সম্পদ গণনা করা হবে—

স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার
নগদ অর্থ
ব্যাংকে জমা টাকা
ব্যবসায়িক পণ্য
প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি
অতিরিক্ত আসবাবপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী

তবে বসবাসের ঘর, দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও জীবনযাপনের অপরিহার্য সামগ্রী হিসাবের মধ্যে আসবে না।

যাকাত ও কোরবানির পার্থক্য
যার ওপর যাকাত ফরজ হয়, সাধারণত তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব হয়। তবে যাকাতের মতো এখানে এক বছর অতিক্রম হওয়া শর্ত নয়। কোরবানির নির্ধারিত দিনগুলোতে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র
১. বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬
২. আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫
৩. ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫