মমতার বিশ্বস্ত সহকর্মী থেকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দুর উত্থানের গল্প
- প্রকাশের সময় : ০৭:৪০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
- / 4
আজ শনিবার পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
শুক্রবার বিকেলে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার নাম ঘোষণার পর সন্ধ্যায় তিনি রাজ্যপাল আরএন রভির কাছে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানান। এ সময় দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
মজার বিষয় হলো, বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হলেও কলকাতার ভবানীপুর আসন থেকে জয়ী দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী তিনি। এই আসন থেকেই তিনবার জিতে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জী।
মমতার একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শুভেন্দু অধিকারী ধীরে ধীরে তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হন। ২০২১ সালে নন্দীগ্রাম এবং সর্বশেষ নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে মমতাকে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন তিনি। এ কারণেই তাকে অনেকেই জয়ান্ট কিলার বলছেন।
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয় পেয়ে বিজেপি সরকার গঠনের অবস্থানে পৌঁছায়। এর মধ্য দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দু অধিকারীকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেয় বিজেপি বিধায়ক দল।
বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথির রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম শুভেন্দুর। তার বাবা শিশির অধিকারী কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। বাবার পথ ধরেই রাজনীতিতে আসেন তিনি।
প্রথমে কংগ্রেস, পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে দ্রুত সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। নন্দীগ্রাম আন্দোলনে তৃণমূল স্তরে সংগঠক হিসেবে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি, যা বামফ্রন্ট সরকারের পতনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হন। পরে ২০১৬ সালে বিধানসভায় ফিরে এসে মমতা সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে। বিশেষ করে অভিষেক ব্যানার্জীর উত্থানের পর দলীয় রাজনীতিতে অবস্থান নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে।
অবশেষে ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর থেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেন এবং ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে মমতাকে হারিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় উঠে আসেন।
বিধানসভা ও রাজপথে সক্রিয় থেকে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষক নিয়োগসহ নানা ইস্যুতে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিনি।
তবে তার রাজনৈতিক পথচলায় বিতর্কও কম নয়। বিভিন্ন সময়ে বক্তব্যের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছেন এবং নির্বাচন কমিশনের নোটিশও পেয়েছেন।
তার উত্থান পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে, যেখানে একসময় দলটি ছিল প্রান্তিক শক্তি।
এখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনিক দক্ষতা দেখানো, বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে রাজ্য পরিচালনা করা।




















