Dhaka ০১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
নিউমোনিক প্লেগ কী? কতটা ভয়ের কারণ হতে পারে এই রোগ? পানি সহযোগিতা নিয়ে ক‌মি‌টি : ভারতীয় প্রতিনিধিদের নাম চেয়েছে ঢাকা ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রাতে সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশে কড়া নির্দেশনা সড়কে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে নতুন কমিটি: রিজভী বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস ‘আমি কোথায়? আপনি কে?’ দুই দফা মৃত্যুদণ্ডের পর জ্ঞান ফিরে ক্রিস্টার প্রশ্ন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই রাশিয়ার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত কালীগঞ্জে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ মানববন্ধনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব?

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • / 143

ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার মহিমান্বিত শিক্ষা নিয়ে আসে পবিত্র ঈদুল আজহা। এ দিনের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো কোরবানি। ইসলামের দৃষ্টিতে কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন,
“অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।”
— (সুরা কাওসার, আয়াত: ২)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“আল্লাহর কাছে তাদের গোশত বা রক্ত পৌঁছে না; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”
— (সুরা হাজ্জ, আয়াত: ৩৭)

হাদিসেও কোরবানির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সে কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।”
— (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২১২৩)

কাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব?

১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক, মুকিম (নিজ এলাকায় অবস্থানরত) মুসলিম নারী বা পুরুষের কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।

কোরবানির নিসাব কত?

নিসাব হলো—

সাড়ে ৭ ভরি (৭.৫ ভরি) স্বর্ণ, অথবা
সাড়ে ৫২ ভরি (৫২.৫ ভরি) রুপা, অথবা
এ পরিমাণ রুপার সমমূল্যের নগদ অর্থ বা সম্পদ।

স্বর্ণ বা রুপা পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না হলেও উভয়টি একত্রে অথবা নগদ টাকা, অতিরিক্ত জমি, ব্যবসার পণ্য বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত আসবাবপত্রসহ মোট সম্পদের মূল্য যদি সাড়ে ৫২ ভরি রুপার সমপরিমাণ হয়, তাহলেও কোরবানি ওয়াজিব হবে।

কোন সম্পদ হিসাব করা হবে?

কোরবানির নিসাব নির্ধারণে যেসব সম্পদ গণনা করা হবে—

স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার
নগদ অর্থ
ব্যাংকে জমা টাকা
ব্যবসায়িক পণ্য
প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি
অতিরিক্ত আসবাবপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী

তবে বসবাসের ঘর, দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও জীবনযাপনের অপরিহার্য সামগ্রী হিসাবের মধ্যে আসবে না।

যাকাত ও কোরবানির পার্থক্য
যার ওপর যাকাত ফরজ হয়, সাধারণত তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব হয়। তবে যাকাতের মতো এখানে এক বছর অতিক্রম হওয়া শর্ত নয়। কোরবানির নির্ধারিত দিনগুলোতে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র
১. বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬
২. আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫
৩. ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব?

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার মহিমান্বিত শিক্ষা নিয়ে আসে পবিত্র ঈদুল আজহা। এ দিনের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো কোরবানি। ইসলামের দৃষ্টিতে কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন,
“অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।”
— (সুরা কাওসার, আয়াত: ২)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“আল্লাহর কাছে তাদের গোশত বা রক্ত পৌঁছে না; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”
— (সুরা হাজ্জ, আয়াত: ৩৭)

হাদিসেও কোরবানির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সে কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।”
— (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২১২৩)

কাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব?

১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক, মুকিম (নিজ এলাকায় অবস্থানরত) মুসলিম নারী বা পুরুষের কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।

কোরবানির নিসাব কত?

নিসাব হলো—

সাড়ে ৭ ভরি (৭.৫ ভরি) স্বর্ণ, অথবা
সাড়ে ৫২ ভরি (৫২.৫ ভরি) রুপা, অথবা
এ পরিমাণ রুপার সমমূল্যের নগদ অর্থ বা সম্পদ।

স্বর্ণ বা রুপা পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না হলেও উভয়টি একত্রে অথবা নগদ টাকা, অতিরিক্ত জমি, ব্যবসার পণ্য বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত আসবাবপত্রসহ মোট সম্পদের মূল্য যদি সাড়ে ৫২ ভরি রুপার সমপরিমাণ হয়, তাহলেও কোরবানি ওয়াজিব হবে।

কোন সম্পদ হিসাব করা হবে?

কোরবানির নিসাব নির্ধারণে যেসব সম্পদ গণনা করা হবে—

স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার
নগদ অর্থ
ব্যাংকে জমা টাকা
ব্যবসায়িক পণ্য
প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি
অতিরিক্ত আসবাবপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী

তবে বসবাসের ঘর, দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও জীবনযাপনের অপরিহার্য সামগ্রী হিসাবের মধ্যে আসবে না।

যাকাত ও কোরবানির পার্থক্য
যার ওপর যাকাত ফরজ হয়, সাধারণত তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব হয়। তবে যাকাতের মতো এখানে এক বছর অতিক্রম হওয়া শর্ত নয়। কোরবানির নির্ধারিত দিনগুলোতে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র
১. বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬
২. আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫
৩. ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫