৯ দাবিতে আন্তর্জাতিক ক্লিন এনার্জি দিবস পালন
- প্রকাশের সময় : ০৬:৩৫:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 141
ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস), রাজবাড়ীর আয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল ক্লিন এনার্জি দিবস উপলক্ষ্যে রাজবাড়ী প্রধান সড়কে সোমবার মানবববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সরকারী কর্মকর্তা, ইয়েস, এসিজি সদস্যগণ, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার শতাধিক মানুষ মানববন্ধনে অংশগ্রহন করেন।
ইন্টারন্যাশনাল ক্লিন এনার্জি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইয়েস সদস্য মানিক হোসেন । তিনি বলেন, আমাদের ক্লীন এনার্জির ব্যবহার ব্যবহার বাড়াতে হবে। আমাদেরকে বায়োগ্যাস, সৌরশক্তি, জলবিদ্যুৎ ব্যবহার করে পরিবেশ দূষণ রোধ করতে হবে, জীবাস্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে হবে। দিবসের ধারণাপত্র পাঠ করেন ইয়েস সহ দলনেতা সানজিদা সিদ্দিকী।
মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে দিবসের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. তবিবুর রহমান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, রাজবাড়ীর সহকারী পরিচালক(অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জামাল উদ্দিন খাঁন, এসিজি সদস্য জোহরা খাতুন প্রমূখ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে জীবাস্ম জ্বালানির উপর চাপ কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সৌরশক্তি, বায়োগ্যাসের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে জনসাধারণকে উৎসাহিত করতে সরকারের আরো কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন প্রয়োজন। ক্লিন এনার্জি হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি একটি আশার আলো হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা টেকসই ভবিষ্যতের পথে উত্তরণে অন্যতম অনুঘটক হিসাবে কাজ করছে। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ এর মতো নবায়নযোগ্য উৎস থেকে প্রাপ্ত জ্বালানি আমাদের জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে জ্বালানি খাতে সুশাসন নিশ্চিতসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির রূপান্তরে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের বিবেচনার জন্য সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দলসমূহকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বন্ধ করা এবং জ্বালানি মিশ্রণে নবানয়নযোগ্য জ্বালানির পরিমাণ বৃদ্ধির অঙ্গীকার করতে হবে; যার মধ্যে থাকবে- জীবাশ্ম জ্বালানির্ভরতা থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার প্রদান করা এবং খসড়া ‘এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সেক্টর মাস্টার প্ল্যান (ইপিএসএমপি) ২০২৫’ চূড়ান্তকরণের পূর্বে নাগরিক সমাজ, নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজিয়ে চূড়ান্ত করা; ২০৫০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরসহ ‘নেট-জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জ্বালানি খাতে নীতি করায়ত্ত বন্ধ এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব প্রতিরোধসহ এখাত সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করা; আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ও নবায়নযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর প্রকল্পে অর্থায়ন ও এর ব্যবহার ক্রমান্বয়ে কমানোর জন্য সময়াবদ্ধ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা; নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর-সংক্রান্ত কার্যক্রমে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)- কে একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা প্রদানসহ এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা; নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য তহবিল বরাদ্দ এবং গবেষণা ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা নিশ্চিত করা; এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫ সহ বিদ্যমান সকল নীতি ও পরিকল্পনায় অভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে নীতিগত অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার জন্য এর উৎপাদন ও সরবরাহ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ একটি উপযুক্ত বিনিয়োগ কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে।
জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদান এবং দূষণ ও পরিবেশ-বিষয়ক তদারকিতে স্বচ্ছ ও যথাযথ- প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত জ্বালানি খাতের সকল প্রকল্প প্রস্তাব এবং চুক্তির নথি প্রকাশ করতে হবে।
এনডিসি’র অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বাতিল হওয়া কয়লা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমিতে সোলারসহ নাবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।
শিল্প ও আবাসিক গ্রাহকদের নেট মিটারিং সৌর বিদ্যুৎ স্থাপন সহজীকরণ, ফিড-ইন-ট্যারিফ কার্যকর এবং তাদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রণোদনা প্রদান করতে হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনকে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে; স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত থেকে প্রকল্প অনুমোদন ও চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে সুশাসন ঘাটতি ও দুর্নীতি ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রকল্প অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, চুক্তির শর্ত নির্ধারণ, পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান এবং বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে ইয়েস সদস্য, একটিভ সিটিজেন্স গ্রুপের সদস্যগণ, শিক্ষার্থী, যুব সমাজ ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার শতাধিক মানুষ অংশগ্রহন করেন।

























