Dhaka ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বালিয়াকান্দিতে হাট-বাজারে ‘খাস’ আদায়ের নামে চলছে লুটপাট

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ১০:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 151

 

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

হাট ইজারা না দিয়ে ‘খাস কালেকশন’-এর নামে চলছে লুটপাট। খাস আদায়ের টাকা সরকারি কোষাগারে নামমাত্র জমা দিয়ে বেশির ভাগই পকেটে ভরছে খাস আদায়ের সাথে জড়িতরা। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর হাট থেকে গত বছর (১৪৩০) প্রতি সপ্তাহে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাজস্ব খাতে জমা হলেও, চলতি (১৪৩১) বছরে সপ্তাহে খাস আদায় হচ্ছে মাত্র ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে হাটের খাস আদায়ের টাকা হরিলুট করছে খাস কালেকশনে দায়িত্বে থাকা বহরপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা।

বহরপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি ও বিগত বছরগুলোর হাট ইজারা নেওয়া ইজারাদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বহরপুর হাট একটি ঐতিহ্যবাহী হাট। ২০২৩/২৪ অর্থবছরে প্রায় ১ কোটি ২০/২৫ লাখ টাকায় হাটটি বিক্রি হয়। এ বছর কেন বিক্রি হয়নি তা জানিনা আর এখন কেন এতো কত খাস আদায় হচ্ছে তাও জানা নেই।

হাটের দিন ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগের তুলনায় এখন বেশী হাড়ে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। একজন মাছ বিক্রেতা বলেন, প্রতি হাটে তাকে ৭ শত থেকে ৮ শত টাকা খাজনা দিতে হয়। একই অভিযোগ অন্য মাছ ব্যবসায়ীদের তারাও বলছেন বিগত বছরের তুলনায় এখন অনেক বেশি খাজনা দিতে হয় আমাদের। বাজারের কাঁচামাল বিক্রেতা মাংস বিক্রেতা সহ বিভিন্ন দোকানিদের সঙ্গে কথা হলে তারা একই অভিযোগ করে বলেন যখন হাট ইজারায় বিক্রি হত তখন এত খাজনা দেওয়া লাগত না এখন খাস আদায়ের নামে অতিরিক্ত খাজনা নেওয়া হচ্ছে আমাদের থেকে।

বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, হাট ইজারা না দিয়ে বহিরাগত লোক দিয়ে হাটের খাস আদায় করে নাম মাত্র সরকারের কোষাগারে জমা দিয়ে বাকি টাকা ভাগবাটোয়ারা করে খাচ্ছেন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা।

বাজারে খাস কালেকশন কারা করছে জানতে বহরপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার কর্মকারকে ফোন করা হলে তিনি জানান, আজকে সুমন নামে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া আছে তার সাথে কথা বলেন, পরে সুমনের সাথে যোগাযোগ করা হলে সুমন খাস আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

সুমনকে বাজারের খাস আদায়ের দায়িত্ব কে দিয়েছে বা সুমন ভূমি অফিসের কেউ কি না জানতে আবারও বহরপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমারকে ফোন করলে তিনি জানান সুমনের দায়িত্ব ইউএনও স্যার দিয়েছেন তার সঙ্গে কথা বলেন।

বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে হাজির হয়ে- কেন এত টাকা খাজনা নেওয়া হচ্ছে প্রশ্ন করলে ভূমি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার কিছু না বলে ভূমি অফিস ছেড়ে পালিয়ে যায়।

কোন নিয়মে খাস আদায় করা হচ্ছে বা দোকান প্রতি কত টাকা খাস আদায় করার কথা আছে জানতে চাইলে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটার কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ নেই ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা যেভাবে কালেকশন করে সেভাবেই হয় আর কি। খাস আদায়ের সঙ্গে জড়িত বহিরাগত সুমন বা অন্যদের আপনি দায়িত্ব দিয়েছেন ভূমিক কর্মকর্তা বলেছে এমন প্রশ্ন তিনি বলেন আমি ভুমি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি আমি সুমনকে দায়িত্ব দেইনি।

অন্যদিকে খাস আদায়ের তথ্য চাইতে ভূমি অফিসে গেলে তিনি দিতে চাননি পরবর্তীতে উপজেলা ভূমিকর্তাকে বিষয়টি জানালে তিনি তাকে তথ্য দিতে বলেন। তখন ভূমি ইউনিয়ন কর্মকর্তা একটি রেজিস্টার খাতা বের করে দেন যেখানে দেখা যায় হাট প্রতি ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খাস আদায়ের তথ্য রয়েছে। খাস আদায়কারীর নাম লেখা আছে সুমন ও জুয়েল যারা দুজনেই বহিরাগত, হাট সংশ্লিষ্ট কেউ না।

 

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বালিয়াকান্দিতে হাট-বাজারে ‘খাস’ আদায়ের নামে চলছে লুটপাট

প্রকাশের সময় : ১০:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

 

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

হাট ইজারা না দিয়ে ‘খাস কালেকশন’-এর নামে চলছে লুটপাট। খাস আদায়ের টাকা সরকারি কোষাগারে নামমাত্র জমা দিয়ে বেশির ভাগই পকেটে ভরছে খাস আদায়ের সাথে জড়িতরা। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর হাট থেকে গত বছর (১৪৩০) প্রতি সপ্তাহে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাজস্ব খাতে জমা হলেও, চলতি (১৪৩১) বছরে সপ্তাহে খাস আদায় হচ্ছে মাত্র ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে হাটের খাস আদায়ের টাকা হরিলুট করছে খাস কালেকশনে দায়িত্বে থাকা বহরপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা।

বহরপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি ও বিগত বছরগুলোর হাট ইজারা নেওয়া ইজারাদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বহরপুর হাট একটি ঐতিহ্যবাহী হাট। ২০২৩/২৪ অর্থবছরে প্রায় ১ কোটি ২০/২৫ লাখ টাকায় হাটটি বিক্রি হয়। এ বছর কেন বিক্রি হয়নি তা জানিনা আর এখন কেন এতো কত খাস আদায় হচ্ছে তাও জানা নেই।

হাটের দিন ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগের তুলনায় এখন বেশী হাড়ে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। একজন মাছ বিক্রেতা বলেন, প্রতি হাটে তাকে ৭ শত থেকে ৮ শত টাকা খাজনা দিতে হয়। একই অভিযোগ অন্য মাছ ব্যবসায়ীদের তারাও বলছেন বিগত বছরের তুলনায় এখন অনেক বেশি খাজনা দিতে হয় আমাদের। বাজারের কাঁচামাল বিক্রেতা মাংস বিক্রেতা সহ বিভিন্ন দোকানিদের সঙ্গে কথা হলে তারা একই অভিযোগ করে বলেন যখন হাট ইজারায় বিক্রি হত তখন এত খাজনা দেওয়া লাগত না এখন খাস আদায়ের নামে অতিরিক্ত খাজনা নেওয়া হচ্ছে আমাদের থেকে।

বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, হাট ইজারা না দিয়ে বহিরাগত লোক দিয়ে হাটের খাস আদায় করে নাম মাত্র সরকারের কোষাগারে জমা দিয়ে বাকি টাকা ভাগবাটোয়ারা করে খাচ্ছেন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা।

বাজারে খাস কালেকশন কারা করছে জানতে বহরপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার কর্মকারকে ফোন করা হলে তিনি জানান, আজকে সুমন নামে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া আছে তার সাথে কথা বলেন, পরে সুমনের সাথে যোগাযোগ করা হলে সুমন খাস আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

সুমনকে বাজারের খাস আদায়ের দায়িত্ব কে দিয়েছে বা সুমন ভূমি অফিসের কেউ কি না জানতে আবারও বহরপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমারকে ফোন করলে তিনি জানান সুমনের দায়িত্ব ইউএনও স্যার দিয়েছেন তার সঙ্গে কথা বলেন।

বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে হাজির হয়ে- কেন এত টাকা খাজনা নেওয়া হচ্ছে প্রশ্ন করলে ভূমি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার কিছু না বলে ভূমি অফিস ছেড়ে পালিয়ে যায়।

কোন নিয়মে খাস আদায় করা হচ্ছে বা দোকান প্রতি কত টাকা খাস আদায় করার কথা আছে জানতে চাইলে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটার কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ নেই ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা যেভাবে কালেকশন করে সেভাবেই হয় আর কি। খাস আদায়ের সঙ্গে জড়িত বহিরাগত সুমন বা অন্যদের আপনি দায়িত্ব দিয়েছেন ভূমিক কর্মকর্তা বলেছে এমন প্রশ্ন তিনি বলেন আমি ভুমি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি আমি সুমনকে দায়িত্ব দেইনি।

অন্যদিকে খাস আদায়ের তথ্য চাইতে ভূমি অফিসে গেলে তিনি দিতে চাননি পরবর্তীতে উপজেলা ভূমিকর্তাকে বিষয়টি জানালে তিনি তাকে তথ্য দিতে বলেন। তখন ভূমি ইউনিয়ন কর্মকর্তা একটি রেজিস্টার খাতা বের করে দেন যেখানে দেখা যায় হাট প্রতি ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খাস আদায়ের তথ্য রয়েছে। খাস আদায়কারীর নাম লেখা আছে সুমন ও জুয়েল যারা দুজনেই বহিরাগত, হাট সংশ্লিষ্ট কেউ না।