Dhaka ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টিম রাজবাড়ী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ

স্কুলে যাওয়ার জন্য হতদরিদ্র ওয়ালিদ পেল বাইসাইকেল

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 220

রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাটিপাড়া কাজী ছমিরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ওয়ালিদ হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। পিতৃহীন ওয়ালিদকে প্রতিদিন তিন কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। রোববার টিম রাজবাড়ী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একটি বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয় তাকে। একই সাথে বিদ্যালয়ের সপ্তম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত আটজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ডিকশনারী দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের মুক্ত মঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফসর রেজভী জামান।

এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় টিম রাজবাড়ী ফাউন্ডেশনের সভাপতি জয়ন্ত কুমার দাসের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন সংগঠনের সহ সভাপতি মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোন্দকার ফিরোজ আহমেদ, সহকারী প্রধান শিক্ষক নিরানন্দ সরকার, সাংবাদিক সৌমিত্র শীল চন্দন প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আহসান হাবীব। এসময় সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদ বিপ্লব, শিক্ষক ফারুক আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রফেসর রেজভী জামান বলেন, ইচ্ছাশক্তিই সবচেয়ে বড়। ইচ্ছা থাকলে যে কোনো বাধা অতিক্রম করা যায়। এপিজে আব্দুল কালাম হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন। তার একাগ্রতা আর ইচ্ছার কাছে দরিদ্রতা হার মেনেছে। তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত হয়েছিলেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা তোমাদের ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগাও। জীবনে অনেক বড় হতে পারবে।

একই অনুষ্ঠান থেকে এলাকার হতদরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

ওয়ালিদ জানায়, রামকান্তপুর ইউনিয়নের মহিষবাথান বিলপাড়ায় তার বাড়ি। সে প্রতিদিন পায়ে হেঁটে স্কুলে আসে। আবার পায়ে হেঁটে বাড়ি যায়। দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে যাতায়াতে তার সময় যেমন ব্যয় হয়, তেমনি কষ্টও হয়। বাইসাইকেল পাওয়ায় তার অনেক সুবিধা হলো। সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়।

টিম রাজবাড়ী ফাউন্ডেশনের সভাপতি জয়ন্ত কুমার দাস জানান, ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী। সে দ্বিতীয় হয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণিতে উঠেছে। তার সমস্যার কথা জানার পর একটি বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে তারা কাজ করেন বলে জানান তিনি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

টিম রাজবাড়ী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ

স্কুলে যাওয়ার জন্য হতদরিদ্র ওয়ালিদ পেল বাইসাইকেল

প্রকাশের সময় : ০৬:৪১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাটিপাড়া কাজী ছমিরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ওয়ালিদ হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। পিতৃহীন ওয়ালিদকে প্রতিদিন তিন কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। রোববার টিম রাজবাড়ী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একটি বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয় তাকে। একই সাথে বিদ্যালয়ের সপ্তম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত আটজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ডিকশনারী দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের মুক্ত মঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফসর রেজভী জামান।

এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় টিম রাজবাড়ী ফাউন্ডেশনের সভাপতি জয়ন্ত কুমার দাসের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন সংগঠনের সহ সভাপতি মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোন্দকার ফিরোজ আহমেদ, সহকারী প্রধান শিক্ষক নিরানন্দ সরকার, সাংবাদিক সৌমিত্র শীল চন্দন প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আহসান হাবীব। এসময় সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদ বিপ্লব, শিক্ষক ফারুক আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রফেসর রেজভী জামান বলেন, ইচ্ছাশক্তিই সবচেয়ে বড়। ইচ্ছা থাকলে যে কোনো বাধা অতিক্রম করা যায়। এপিজে আব্দুল কালাম হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন। তার একাগ্রতা আর ইচ্ছার কাছে দরিদ্রতা হার মেনেছে। তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত হয়েছিলেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা তোমাদের ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগাও। জীবনে অনেক বড় হতে পারবে।

একই অনুষ্ঠান থেকে এলাকার হতদরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

ওয়ালিদ জানায়, রামকান্তপুর ইউনিয়নের মহিষবাথান বিলপাড়ায় তার বাড়ি। সে প্রতিদিন পায়ে হেঁটে স্কুলে আসে। আবার পায়ে হেঁটে বাড়ি যায়। দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে যাতায়াতে তার সময় যেমন ব্যয় হয়, তেমনি কষ্টও হয়। বাইসাইকেল পাওয়ায় তার অনেক সুবিধা হলো। সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়।

টিম রাজবাড়ী ফাউন্ডেশনের সভাপতি জয়ন্ত কুমার দাস জানান, ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী। সে দ্বিতীয় হয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণিতে উঠেছে। তার সমস্যার কথা জানার পর একটি বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে তারা কাজ করেন বলে জানান তিনি।